১১:৩৬ পি.এম
মায়ের বয়স ১৩০ বছর, এবং তার দেখভাল করছেন ১০০ বছরের মেয়ে। বয়সের কারণে দুজনই অসহায় অবস্থা কাটাচ্ছেন। কিন্তু তাদের কাছে একে অপরই হল শেষ ভরসা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গড়মাটি গ্রামের একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে কাটছে তাদের দিন-রাত।
এই দুই শতবর্ষী মা-মেয়ে হচ্ছেন ফাতেমা বেগম ও তার মেয়ে মানিকজান। স্বাধীনতার পরপরই ফাতেমা বেগম তার স্বামীকে হারান। প্রায় এক দশক আগে মারা যান তার একমাত্র ছেলে। এরপর থেকে মা-মেয়ে একে অপরকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে আছেন।
আরও পড়ুন: ভোলা চরফ্যাশনের ১১ নং রসুলপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় মোঃ কামরুজ্জামান শাহীন
জাতীয় পরিচয়পত্রে তাদের বয়স কম উল্লেখ থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, ফাতেমা বেগমের প্রকৃত বয়স ১২৫ থেকে ১৩০ বছরের কাছাকাছি। প্রতিবেশীরা তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন, তবে একটি নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন দীর্ঘসময় ধরে অপূর্ণ ছিল।
তাদের এমন অসহায় অবস্থার খবর পেয়ে মানবিক সেবা ফাউন্ডেশন এগিয়ে আসে। প্রথমে খাদ্যসহায়তা দেওয়ার পর ঝুঁকিপূর্ণ বসতঘরটি দেখে তাদের জন্য একটি টেকসই ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সংগঠনটি।
নতুন ঘরের খবর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা ও মেয়ে। শত বছরেরও বেশি সময়ের স্মৃতি, শৈশব, সংসার এবং হারিয়ে যাওয়া দিনের গল্প বলতে বলতে তাদের চোখে ফুটে ওঠে স্বস্তির ছাপ।
জীবনের প্রায় পুরোটা সময়ই তাদের কেটেছে সংগ্রাম এবং অভাবের সঙ্গে। তবে শেষ বয়সে একটি নিরাপদ ঘরই যেন তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। স্থানীয়দের আশা, সমাজের বিত্তবান এবং মানবিক মানুষ যদি এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে ফাতেমা ও মানিকজানের মতো আরও অনেকের জীবনেও ফিরবে নিরাপত্তা, স্বস্তি এবং নতুন আশার আলো।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে নানা আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন