তরিকুল ইসলাম, ভাণ্ডারিয়া প্রতিনিধি
০৮:২৮ পি.এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার শিয়ালকাঠী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের দুই প্রভাষকের এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) বাতিল করেছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। জাল শিক্ষাগত সনদ ও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে এমপিওভুক্ত হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এমপিও বাবদ উত্তোলিত সরকারি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পিআইইউ) প্রকৌশলী মো. মাকসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত গত ১০ জুন ২০২৬ তারিখের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার আলোকে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ (২৩ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী তদন্ত ও পর্যালোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমপিও বাতিল হওয়া শিক্ষকরা হলেন কলেজটির প্রভাষক (হিসাবরক্ষণ) বিজন চন্দ্র হাওলাদার (ইনডেক্স নং-২১১০২২১০) এবং প্রভাষক (কম্পিউটার অপারেশন) মো. রফিকুল ইসলাম (ইনডেক্স নং-২১১০২২০৯)।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিজন চন্দ্র হাওলাদার এইচএসসি (বিএম) শিক্ষাক্রমে হিসাবরক্ষণ স্পেশালাইজেশন শাখার কোনো সরকারি অনুমোদন (জিও) না থাকা সত্ত্বেও এমপিও আবেদন করেন এবং অবৈধভাবে এমপিও সুবিধা গ্রহণ করেন। এ কারণে তার এমপিও বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি এমপিও বাবদ উত্তোলিত সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে তার প্রমাণক কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মো. রফিকুল ইসলামের দাখিল করা ‘বিএসসি ইন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং’ ডিগ্রির সনদ তদন্তে জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। অসত্য তথ্য ও জাল সনদের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত হওয়ায় নীতিমালার ২৯.১.৩ ও ২৯.১.৫ ধারা অনুযায়ী তার এমপিও স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের শাখা-১১ (এমপিও) থেকে জারি করা আদেশের স্মারক নম্বর ৫৭.০৩.০০০০.০০০.০২৮.১৮.০০১০.১৫-
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল উপজেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও অনিয়ম, জাল সনদ ও অবৈধ নিয়োগের ঘটনা রয়েছে কি না তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চলন্ত ট্রেনে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে তোফায়েল ইসলাম (২০) নামে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে আইফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
শনিবার (২০ জুন) দুপুর ২টা বেজে কিছুক্ষণ পরে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ঘটনাটি ঘটে। আহত তোফায়েলকে ওইদিন বিকেলে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তোফায়েলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার অনন্তপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আনোয়ার হোসেন। এলাকায় একটি কলেজ থেকে এবারে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য তাঁর প্রস্তুতি রয়েছে।
তোফায়েলের ভগ্নিপতি রাইতুল ইসলাম জানান, শুক্রবার (১৯ জুন) গ্রাম থেকে তোফায়েল হাজারীবাগে আসেন তাঁর বোনের বাসায় বেড়াতে। ধানমন্ডিতে তাঁর একটি গানের অনুষ্ঠান ছিল। আজ দুপুরে আবার গ্রামে ফিরে যাওয়ার জন্য কমলাপুর থেকে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে রওনা হন। ট্রেনটি যখন তেজগাঁও এলাকা অতিক্রম করছিল তখন বগির ভেতরে থাকা ৩ থেকে ৪ ছিনতাইকারী দুই বগির মাঝের দরজার সামনে তার পকেটে হাত দিয়ে আইফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বাধা দেয়ায় তারা ধারাল অস্ত্র দিয়ে তোফায়েলের কোমরে ছুরিকাঘাত করে এবং চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে নেমে যায়। তবে ফোনটি নিতে তারা পারেনি।
এই ঘটনার খবর পেয়েই তোফায়েলের বোন ও ভগ্নিপতি ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেলে তার অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক জানিয়েছেন, ওই যুবকের কোমরে ধারাল অস্ত্রের জখম রয়েছে। তাকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ে থানায় এক অভিযোগ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলার আশাশুনি উপজেলার অভিযানে আজ পুলিশের কার্যক্রমে এক হাজার কেজি নকল দুধ তৈরির উপাদান ‘জেলি’ জব্দ করা হয়েছে।
আজ শনিবার ভোর রাত তিনটার সময়, উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের পশ্চিম ঘোষপাড়া মন্দিরের সামনে থেকে এসব জব্দ করা হয়।
পুলিশের সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আশাশুনি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারিকুর রহমান শুভ’র নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম কচুয়া গ্রামের পশ্চিম ঘোষপাড়া শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সামনে অভিযান পরিচালনা করে। এই সময় ঢাকা মেট্রো ন-১৩-২৯৪৫ নম্বর ট্রাক থেকে এক হাজার কেজি জেলি (রাসায়নিক উপাদান) জব্দ করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমদ খান জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ শনিবার সিলেটে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন, সিলেটের উদ্যোগে নগরীর আমান উল্লাহ কনভেনশন হলে এক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন সিলেটে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাশ। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী ও সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূর উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, শরীর ও মন সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে যোগব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করার জন্য প্রত্যেকেরই যোগব্যায়ামে অভ্যাস করা উচিত।
ভারতের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন সিলেট অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে।'
এছাড়াও অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি রাজেশ ভাটিয়া, সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, জেলা মহিলা দলের সভাপতি তামান্না আক্তার, অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি গুলজার আহমদ, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি খায়রুল হোসেন, উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবানা ইয়াছমিন শম্পাসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বিচার বিভাগের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকল্পে বিচারকদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিচারিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ প্রধান বিচারপতি ঢাকা বিভাগে কর্মরত জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশে একটি অভিভাষণ দেন।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকাল ১০ টায় সুপ্রিম কোর্টে ঢাকা বিভাগে কর্মরত সকল জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি অভিভাষণ প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগের সকল জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ তাঁদের বক্তব্যে বিচারকদের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, বিচার বিভাগের বাজেট বৃদ্ধি, জরুরি ভিত্তিতে এজলাস, খাসকামরা, রেকর্ডরুম, মালখানা ও আবাসন-সংকট নিরসনের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আদালত ও বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ডিজিটাইজেশন এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের বিষয়সমূহ তুলে ধরেন।
প্রধান বিচারপতি তাঁর অভিভাষণে জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, বিচার বিভাগের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাইজেশন, বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিচারকদের দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ, প্রতিটি জেলা আদালতে মেডিকেল সেন্টার ও ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, স্পিচ-টু-টেক্সট সফটওয়্যার তৈরি ও ব্যবহার এবং বিচারকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকল্পে বিচারকদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিচারিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
আজকের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিচারিক কর্মকর্তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বিচার বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিচারকদের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং সেজন্য বিচার বিভাগের জন্য বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ