০৩:০৭ পি.এম
দীর্ঘ বিরতির পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজের চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এই নৌপথের জন্য তিনটি জাহাজের সময়সূচি ও রুট পারমিট অনুমোদন করেছে। অনুমোদিত জাহাজ তিনটি হলো এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও এমভি টেকনাফ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শাখা থেকে পৃথক আদেশে এসব জাহাজের সময়সূচি অনুমোদন করা হয়। এই অনুমোদন আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
বিআইডব্লিউটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, মেসার্স কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া থেকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে সেন্টমার্টিন পৌঁছাবে। ফিরতি পথে, দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে সেন্টমার্টিন থেকে ছেড়ে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে কক্সবাজারে ফিরে আসবে।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে আগুনে ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই
একই প্রতিষ্ঠানের এমভি বার আউলিয়া দুপুর ১টায় নুনিয়ারছড়া থেকে ছেড়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় সেন্টমার্টিন পৌঁছাবে। ফিরতি যাত্রার সময়সূচি হবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে সেন্টমার্টিন থেকে ছেড়ে রাত ৭টায় কক্সবাজারে পৌঁছানো।
অন্যদিকে, মেসার্স পারাপার ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের এমভি টেকনাফ সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে সেন্টমার্টিন পৌঁছাবে। ফিরতি যাত্রার সময়সূচি সংশ্লিষ্ট আদেশে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ৩ হাজার ৫০০ জনের কম হওয়ায়, আপাতত প্রতিটি জাহাজ সার্ভে সনদে নির্ধারিত ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। তবে পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো অপারেটর জাহাজ পরিচালনার আবেদন করলে, সব জাহাজের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা ৩ হাজার ৫০০ অতিক্রম করলে আনুপাতিক হারে যাত্রীসংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে, কোনো জাহাজ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলাচলে অক্ষম হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি একবারে ১৫ দিনের বেশি ট্রাভেল পাস বিক্রি বা ইস্যু করতে পারবে না। কোনো জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকলে, অন্য অপারেটররা পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে মোট ৩ হাজার ৫০০ যাত্রীর সীমা বজায় রেখে যাত্রী পরিবহন করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: সেন্টমার্টিনে পর্যটকে প্রাণ ফিরেছে, দ্বীপবাসী স্বস্তিতে
নৌযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আবহাওয়া ও নিরাপত্তার বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেবল অনুকূল ও শান্ত আবহাওয়ায় জাহাজ চলাচল করতে পারবে। সমুদ্রবন্দরের জন্য ৩ নম্বর বা তার বেশি সতর্কসংকেত জারি হলে, অথবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকলে, জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। প্রতিটি জাহাজে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের লাইসেন্স অনুযায়ী পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম রাখাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় নিষিদ্ধ পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন করা যাবে না। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকতে হবে। কিউআর কোডবিহীন টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পর্যটকরা সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। তবে সরকার পরবর্তী সময়ে কোনো নতুন নির্দেশনা জারি করলে তা অনুসরণ করতে হবে। রাতে দ্বীপের সমুদ্রসৈকত ও সংলগ্ন এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি করা যাবে না। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও বেচাকেনাও নিষিদ্ধ থাকবে।
দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক-ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালের কোনো ধরনের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাহাজ থেকে উড়ন্ত পাখিকে চিপস বা অন্য কোনো খাবার দেওয়াও যাবে না।
আরও পড়ুন: তেল-সার-গার্মেন্টসকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র চলছে: ত্রাণমন্ত্রী
এ ছাড়া বন অধিদপ্তর নির্ধারিত মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়ার কোর জোনে জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে না। জাহাজে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। ঘাটে ভেড়ানোর সময় গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মিয়ানমার সীমান্তের চলমান উত্তেজনার কারণে সরকার কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার নির্দেশনা ও শর্ত পালন করতে হবে।
বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) সালমা আফরোজ স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে জাহাজগুলোর রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদন করা হয়।
এদিকে শীপওনার এসোসিয়শনের সভাপতি হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, ১০০ যাত্রী হলে তারা আগামী কাল সেন্টমার্টিন যাবেন।
আরও পড়ুন: দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাবেন না সুনামগঞ্জের ৩৫ হাজার গ্রাহক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন