০৮:৪৯ এম
জুমার খুতবা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত হলো দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া। তিনি নিয়মিতভাবে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন এবং দুই খুতবার মাঝে কিছু সময় বসতেন। বিশেষ কোনো কারণে বসে খুতবা দেওয়ার বিধান সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। এ বিষয়ে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে একটি বর্ণনা রয়েছে—
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَائِمًا ثُمَّ يَجْلِسُ ثُمَّ يَقُومُ
‘জুমার দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। এরপর বসতেন, তারপর আবার দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন।’ (মুসলিম ৮৬১)
আরও পড়ুন: জানা গেল রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি
এই হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়মিত আমল ছিল। তাই সক্ষম ইমামের জন্য দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া সুন্নত হিসেবে গণ্য হয়।
তবে যদি কোনো ইমাম অসুস্থতা, শারীরিক দুর্বলতা অথবা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য ওজরের কারণে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে না পারেন, তাহলে বসে খুতবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। হজরত ওসমান (রা.) এবং হজরত মুআবিয়া (রা.)-এর শেষ বয়সে বসে খুতবা দেওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অতএব, ওজরের কারণে ইমাম বসে খুতবা দিলেও জুমার নামাজ শুদ্ধ হবে। কিন্তু বিনা ওজরে বসে খুতবা দেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়মিত সুন্নতের পরিপন্থি। ফকিহদের মধ্যে অনেকেই একে মাকরুহ বলেছেন।
খুতবা শোনার বিধান
আরও পড়ুন: জুমাবারে ১৫টি আমল গুনাহ মাফ করে
জুমার খুতবা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়; এটি মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি নসিহত ও উপদেশ। তাই খুতবা চলাকালে মনোযোগ দিয়ে তা শোনা এবং অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবা চলাকালে কথা বলার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَنْصِتْ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ
‘জুমার দিন ইমাম যখন খুতবা দিচ্ছেন, তখন তুমি যদি তোমার সঙ্গীকে বলো, ‘চুপ করো’, তাহলেও তুমি অনর্থক কাজ করলে।’ (বুখারি ৯৩৪, মুসলিম ৮৫১)
আরও পড়ুন: খাদ্যে ভেজাল: মানুষের জীবন নিয়ে নির্মম প্রতারণা
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, খুতবা চলাকালে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকা কতটা জরুরি। এমনকি অন্যকে চুপ থাকতে বলার মতো কথাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হয়েছে। তাই মুসল্লিদের উচিত খুতবা শুরু হওয়ার আগেই মসজিদে উপস্থিত হওয়া, নীরব থাকা এবং ইমামের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা।
জুমার খুতবা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এ সময় ইমামের উচিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া। সুতরাং সক্ষম ইমামের জন্য দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া সুন্নত। তবে অসুস্থতা বা গ্রহণযোগ্য ওজর থাকলে বসে খুতবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই শরিয়তের বিধান অনুযায়ী সুন্নতের অনুসরণ করা প্রত্যেক ইমামের কর্তব্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন