বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:২৭ পি.এম
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননস্থল থেকে বের হওয়া গ্যাসে আগুন জ্বলছে তিন দিন ধরে। বৃহস্পতিবার আগুনের তীব্রতা আগের দুই দিনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগুনের সঙ্গে কাঁদামাটি ছিটকে বের হচ্ছে।
এই ঘটনার ফলে ইনানীর দুটি ওয়ার্ডের প্রায় ৪০০ পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার জন্য ঘটনাস্থলের চারপাশে ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে এবং কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গ্যাসের আগুনের কারণে দুই দিন বন্ধ থাকার পর বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করেছে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ গ্রাহক বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। তবে গ্যাস নির্গমন ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল। গ্যাস শনাক্ত করতে বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা চালানো হলেও আগুনের তীব্র তাপের কারণে মূল নির্গমনস্থল থেকে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ইনানীর শফির বিল ও সিকদার বাজার এলাকার আশপাশে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, গ্যাসের নির্গমন আরও বেড়েছে। তাঁরা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে গ্যাসের আগুন জ্বলছে। আগুনের সঙ্গে ওই স্থান থেকে কাদামাটির মতো কিছু বের হচ্ছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ বেড়েছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই, যাতে এলাকার মানুষ নিরাপদে থাকতে পারেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা হাবীবুর রহমান জানান, দুই দিন পর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে গ্যাস নির্গমন ও আগুন জ্বলার ঘটনায় আতঙ্ক কাটেনি। বরং গ্যাস আরও দ্রুতগতিতে বের হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও বাপেক্সের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশপাশে প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। এখন আমাদের একটাই দাবি, দ্রুত গ্যাস নির্গমন ও আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।’
গ্যাসের আগুনের ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত এলাকায় মানুষের চলাচল সীমিত করেছে। সড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে এবং টাঙানো হয়েছে লাল পতাকা। ফায়ার সার্ভিস, ইনানী পুলিশ ফাঁড়ি, উখিয়া থানা-পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।
উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শামশুল আলম জানান, তাঁর ওয়ার্ডে বড় ইনানী ও ছোট ইনানী নামে দুটি গ্রাম রয়েছে। ছোট ইনানী গ্রামে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০টি পরিবারের বসবাস। সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে এসব পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
শামশুল আলম বলেন, ঢাকায় থেকে আসা বাপেক্সের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, গ্যাস যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। এ কারণে আপাতত নির্গমনের স্থানটি বন্ধ করা হচ্ছে না। বিষয়টি পর্যালোচনা করে কীভাবে নিরাপদে গ্যাস নির্গমন বন্ধ করা যায়, তা নির্ধারণের জন্য বাইরের বিশেষজ্ঞ দল আনার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।
জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাকির হোসেন বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে গ্যাসের আগুন জ্বলছে। এতে আশপাশের প্রায় ৪০০ পরিবারের মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
গত দুই দিনের মতো বৃহস্পতিবারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাপেক্সের তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল। ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের দলনেতা এস এম নাফিকুন আরহামের নেতৃত্বে দলটি ঘটনাস্থলে যায়।
বাপেক্সের সহকারী ব্যবস্থাপক ইমামুল ইসলাম রোকন জানান, গ্যাস শনাক্ত করতে ডিটেক্টর নিয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গেছেন। বাপেক্সের প্রোডাকশন ফিল্ডের একটি দলও আশপাশের অন্য কোনো স্থান দিয়ে গ্যাস বের হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করেছে। তবে আগুন জ্বলতে থাকায় মূল নির্গমনস্থলে ডিটেক্টর দিয়ে গ্যাস শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। আশপাশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা করে অন্য কোথাও গ্যাস নির্গমনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
ইমামুল ইসলাম রোকন আরও বলেন, আগুনের তীব্র তাপের কারণে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি গিয়ে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট দূর থেকেও প্রচণ্ড তাপ অনুভূত হচ্ছে। এ অবস্থায় আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া তাঁদের আর কোনো উপায় নেই। তবে উপজেলা প্রশাসনকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গ্যাসের আগুনের কারণে দুই দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর বিকল্প ব্যবস্থায় প্রায় ৩ হাজার ৮০০ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করেছে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে গ্যাস নির্গমন ও আগুন বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ কাটেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদক সেবনের অভিযোগে কলসকাঠীর তিনজনকে আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একজনের ৬ (ছয়) মাস ও অপর দুইজনের প্রত্যেককে ১ (এক) মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব অভ্র জ্যোতি বড়াল।
এ সময় সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর একটি টিম।
প্রশাসন জানায়, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী বাবলাকোনা এলাকা থেকে ৮ লাখ ৬০ হাজার ৫৫০ টাকা মূল্যের ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব কসমেটিকস জব্দ করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে কর্ণঝোড়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৮ লাখ ৬০ হাজার ৫৫০ টাকা মূল্যের ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ করা হয়।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ট্রেনের ইঞ্জিন ঘোরানোর জন্য বগিগুলো বিচ্ছিন্ন করার পরপরই, সেগুলো নিজে থেকেই পেছনে চলতে শুরু করে। স্টেশন অতিক্রম করে এগুলো আউটার এলাকায় পৌঁছে যায়। এই অবস্থায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে গার্ডরুমের হার্ডব্রেক চেপে বগিগুলোকে থামানো সম্ভব হয়। এই ঘটনার ফলে কয়েকশ' যাত্রী বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার পর ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার ১ ঘণ্টা পর অন্য একটি ইঞ্জিন ব্যবহার করে বগিগুলোকে প্ল্যাটফর্মে ফেরানো হয়। এর ফলে ট্রেনটি ২ ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়তে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় বেশ কিছু বিদেশগামী যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
এ বিষয়ে ট্রেনের কর্তব্যরত গার্ড উমর আলী জানান, গার্ডরুমের হার্ডব্রেক টানার সঙ্গে সঙ্গেই বগিগুলো দাঁড়িয়ে যায়। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার পরপর একের পর এক ট্রেন থাকায় বগিগুলো ফেরাতে ১ ঘণ্টা সময় লেগেছে। পরে ট্রেনটি ২ ঘণ্টা বিলম্বে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের তারাগঞ্জে একটি যাত্রীবাহী বাস ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে উল্টে যাওয়ার ফলে একজন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার সময় রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের ইকরচালী বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম ও পরিচয় এখনও প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে নীলফামারীর ডোমার থেকে রংপুরগামী বাসটি ইকরচালী বাজারে পৌঁছালে সড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা লাগে। এর ফলে বাসটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন প্রথমে উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
বাসের যাত্রী সুমন মিয়া জানান, তিনি ডোমার থেকে রংপুর নগরের ধাপ এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসটিতে উঠেছিলেন। তারাগঞ্জ পার হওয়ার পর বাসটির গতি বেড়ে যায়। ইকরচালী বাজারে প্রবেশের সময় ডিভাইডারে ধাক্কা লেগে বাসটি উল্টে যায়, যার ফলে অনেক যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ইউএনও বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে আসি। দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।"
তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজন নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ