০৯:৪৮ পি.এম
মঙ্গলবার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক গতিবিধি নিয়ে আলোচনা করতে জাতীয় প্রেসক্লাবে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০২ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদান করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। অনুষ্ঠানের চিত্র ধারণ করেছে বাসস।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান, যিনি একজন সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন, তাকে এক জননন্দিত রাজনৈতিক নেতায় রূপান্তর করতে এবং দেশে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনের ভিত্তিমূল গঠন করতে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই সব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে জননেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি জাতীয় কমিটি।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় আটক ৫২২ জন
তথ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে দেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট তৈরি হয়েছিল, সেই সময়ে প্রায় সব রাজনৈতিক ধারাই কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার মুখে পড়েছিল। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির ফলে শেরে বাংলার কৃষক প্রজা পার্টি কার্যকারিতা হারায়, একদা স্বাধীনতার পর মুসলিম লীগের রাজনীতিও হয়ে পড়ে অপ্রাসঙ্গিক।
বক্তা জামায়াতে ইসলামের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামের মতো রাজনৈতিক দল পবিত্র ইসলাম এবং কোরআনের নামে যে সংগঠিত দর্শন এবং ইসলামের সংমিশ্রণ তৈরি করেছিল, স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের যুদ্ধবিরোধী ও দেশবিরোধী ভূমিকার কারণে বাংলাদেশে তারা দীর্ঘদিন নিষিদ্ধ ছিল। সেই সময়ে যখন জাসদের প্রতিক্রিয়াধর্মী উত্থান বা মস্কোপন্থী-চীনপন্থী রাজনীতি দিশেহারা ছিল, তখন যাদু মিয়া শুধু একমাত্র দূরদর্শিতা দেখিয়েছিলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাদ দিয়ে যাদু মিয়াকে রাজনৈতিক মূল্যায়ন করা অসম্পূর্ণ। সেনাবাহিনীর মনোজগত থেকে একজন সেনা কর্মকর্তাকে রাজনীতিক হিসেবে গড়ে তোলার কঠিন দায়িত্বটি যাদু মিয়া কাঁধে নিয়েছিলেন। শহীদ জিয়ার রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা, তাঁর চিন্তা, দর্শন এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠায় যাদু মিয়ার অনন্য প্রজ্ঞা কাজ করেছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ‘যাদু মিয়ার সেই সময়কার দূরদর্শী সিদ্ধান্তগুলির কারণেই বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারাক্রম রচিত হয়েছে। সেদিন সামরিক কর্মকর্তা থেকে জিয়াউর রহমানকে রাজনৈতিক নেতায় রূপান্তরের সূচনা করে দিয়েছিলেন বলেই পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচিত সরকার পরিচালনার পথ পেয়েছে। ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক।’
আরও পড়ুন: শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ। স্মারক বক্তব্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. ক্যাপ্টেন এম. রেজাউল করিম চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এমপি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সাবেক মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ দিদার বখত, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গাজীউল হাসান খান এবং মোস্তফা কামাল মজুমদার। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিটা রহমান।
বক্তারা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
আরও পড়ুন: কলম্বিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন