০৬:৩৩ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল, সম্প্রতি তা বাতিল হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অেগিয়ে নেওয়া নীতির বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল আদালতের রায়ে এই তথ্য জানা গেছে। এ রায়ে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আইনগত এখতিয়ারের সীমা ছাড়িয়ে ওই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ম্যানহাটানের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস এই ভিসানীতি বাতিলের রায় দেন। আদালত মন্তব্য করেছে যে, জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যে নীতি ঘোষণা করেছে, সেটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং নীতিটি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের পরিপন্থী। আইন অনুযায়ী, অভিবাসী ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতা স্পষ্টভাবে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের ভিসার আবেদন যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তারা কোনো আবেদনকারীকে ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন। বিচারক ভার্গাস আরও বলেন অ্যাপ্লিকেশনকারীদের জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসা দেওয়া বন্ধ করার এ নীতি প্রথাগত আইনি কাঠামোর স্পষ্ট লঙ্ঘন।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন জোরদারে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি
জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া নিষেধাজ্ঞায় ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছিল। এই তালিকায় লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিল, কলম্বিয়া এবং উরুগুয়ে; বলকান অঞ্চলের দেশ বসনিয়া এবং আলবেনিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান ও বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের অনেকে দেশও ছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল যে, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি ছিল। এ কারণে তাদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়াও স্থগিত করা হয়েছিল।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের কাছে এই রায়ের ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
বিচারক ভার্গাস এ রায় প্রদান করেছেন অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা ‘ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক’ ও ‘আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার’ নামক সংগঠনের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে। মামলায় ছিলেন তালিকা ভুক্ত ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীরা। আরো ছিলেন এসব দেশের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে যে আবেদনগুলো জমা পড়েছিল।
আরও পড়ুন: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সহযোগিতায় ক্যান্সারের লড়াইয়ে জয়ী শিশু নিশা
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাড়ানো। তবে মানবাধিকার সংগঠনের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতির ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের জাতিগত পরিচয়ের কারণে সন্দেহ বা হয়রানির শিকার হওয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনগুলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন