০৪:৫৪ পি.এম
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের কোহলু জেলায় শনিবার (২৭ জুন) আবারও ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। গত দুই দিনের মধ্যে এটি ওই অঞ্চলে আঘাত হানা তৃতীয় ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে কোয়েটার ন্যাশনাল সিসমিক মনিটরিং সেন্টার (এনএসএমসি)।
সর্বশেষ ভূমিকম্পটির ছিল ৪ দশমিক ৩ মাত্রার। উৎপত্তিস্থল ছিল কোহলু থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে এবং ভূ-পৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে। তবে এখন পর্যন্ত এই ভূমিকম্পের ফলে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে, শুক্রবার একই এলাকায় দুটি পৃথক ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করে এবং সম্ভাব্য আফটারশকের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকি বাড়ছে, ক্ষতিপূরণ চাইবে বাংলাদেশ
আগের ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। এতে অন্তত তিনজন আহত হন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও আছে। এছাড়া, মুসাখেল জেলার কিংরি এলাকায় প্রায় ৭০টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বলে জানিয়েছেন মুসাখেলের ডেপুটি কমিশনার আবদুল রাজ্জাক খাজাক।
এনএসএমসির তথ্য অনুযায়ী, ৫ দশমিক ১ মাত্রার ওই ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কোহলু থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং এর গভীরতা ছিল ১৭ কিলোমিটার। এর কম্পন ঝোব, বারখান ও রাখনি এলাকায় অনুভূত হয়।
এর আগে চলতি মাসে লাহোর ও আশপাশের এলাকাতেও ৪ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ভূমিকম্পের ঘটনায় আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ও ভবন ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থান করায় পাকিস্তান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক দশকে দেশটি একাধিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের শিকার হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিচার বিভাগে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বেশি ক্ষতি করেছে: আইনমন্ত্রী
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ইসলামাবাদ, সোয়াত ও হুনজা অঞ্চলে অনুভূত হয়েছিল। আর ২০০৫ সালে আজাদ কাশ্মীরে সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন এবং লাখো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পাকিস্তানের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের দুর্গম ভৌগোলিক পরিবেশ ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমকে জটিল করে তোলে। তাই এসব এলাকায় আগাম প্রস্তুতি ও দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: জিও নিউজ
আরও পড়ুন: স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির সঙ্গে আপস করা যাবে না: আনোয়ার ইব্রাহিম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন