০৬:৩৭ পি.এম
জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে বিশ্ব দরবারে তরুণদের কণ্ঠ সোচ্চার করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদ ও বিশিষ্টজনেরা।
তারা উল্লেখ করেছেন, উন্নত বিশ্বের ভোগবাদী জীবনযাপন এবং পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের ফলে জলবায়ু সংকট সৃষ্টি হলেও এর সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও প্রান্তিক দেশগুলো। এই সংকট মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সংগঠিত হয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ইয়ুথ ক্লাইমেট কোয়েশ্চেন কনফারেন্স-২০২৬’ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ বার্তা আয়োজিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আকমল হোসেন। উদ্বোধন করেন নারী নেত্রী ও লেখক কাজী সুফিয়া আখতার।
আরও পড়ুন: মজলুম থেকে জালিম হলে আবার গণমাধ্যমের কাছে বলবেনÑ বাঁচান: মাসুদ
উদ্বোধনী বক্তব্যে কাজী সুফিয়া আখতার বলেন, বিশ্ব দরবারে জলবায়ু সংকটের জন্য দায়ী দেশগুলোর কাছে প্রশ্ন উত্থাপন ও দাবি আদায়ের জন্য তরুণদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। উন্নত বিশ্বের কর্মকাণ্ড পৃথিবীকে জলবায়ু সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলো এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। বিশেষ করে নারীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে সব জায়গায় লড়াই চালিয়ে যাওয়া জরুরি।
কৃষি সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব রেজাউল করিম সিদ্দিক বলেন, তরুণদের আরও বেশি প্রশ্ন করতে শিখতে হবে এবং নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দেশব্যাপী তরুণদের আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ইউনেস্কো চেয়ার ও সেন্টার ফর সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ক্লাইমেটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুন্নবী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তরুণদের সম্মিলিতভাবে কাজ করে যেতে হবে। এ ধরনের সম্মেলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
পরিবেশ বার্তার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান তারেক চৌধুরী সোহেল, চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরী, স্কাইল্যান্ড রিক্রুটমেন্ট সলিউশনস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ব্রাত্য আমীন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানইয়া নাহার, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানজিল আবেদিন, উন্নয়নকর্মী মো. জাহাঙ্গীর আলম ও নিকিতা নন্দিনী।
আরও পড়ুন: জামায়াতের কৃতজ্ঞতা: খুলনা বিভাগে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চ সফল করায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ
জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও দেশি জাতের বীজ বিতরণের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্ব শুরু হয়। পরে আদিবাসী ও বাঙালি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করেন তানজির রহমান ভূঁইয়া। এরপর জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক দুটি ধারণাপত্র উপস্থাপন ও আলোচনা হয়। সম্মেলনের একপর্যায়ে মানিকগঞ্জ থেকে আসা বাউলশিল্পীরা গান পরিবেশন করেন।
আয়োজকেরা জানান, জলবায়ু সংকটের জন্য প্রকৃতপক্ষে কারা দায়ী এবং এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের তরুণ ও যুবসমাজ কী ভূমিকা রাখতে পারে—এসব প্রশ্ন সামনে রেখেই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালে জাতীয় পর্যায়ে আরো বড় পরিসরে ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ ক্লাইমেট কোয়েশ্চেন কনফারেন্স-২০২৭’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন