১১:৫৫ এম
মধ্যপ্রাচ্যের জাহাজে হামলার কারণে হরমুজ প্রণালির পুনরায় চালুর আলোচনার সফলতার বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এরই প্রভাবে বিশ্ববাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম।
বুধবার (১২ আগস্ট) আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
জানা যায়, অক্টোবরে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮৯ দশমিক ৬১ ডলারে পৌঁছেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যার তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।
আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে শেখ পদবিধারীদের নামের সংখ্যা সর্বাধিক
সিডনিভিত্তিক অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটেরার মন্তব্য করেছেন, বাজার এখনও চুক্তির ব্যাপারে পুরোপুরি আশা হারায়নি, তবে মানুষের আস্থা যে স্পষ্টতম কমছে, তা মনে হচ্ছে।
ওয়াটেরার আরও জানান, যদি দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হয় এবং আলোচনা বেশি সময় নেয়, তখন দ্রুত কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কমে যাবে। মাসের শুরুতে যে আশাবাদ দেখা গিয়েছিল, তা ধীরে ধীরে আরও সতর্ক ও ঝুঁকি-নির্ভর অবস্থায় চলে যাচ্ছে।
যুদ্ধের আগে, বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চিমাংশই এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হত। তবে এখন মিশ্র সংকেত পাওয়ায় গত এক সপ্তাহে তেলের দাম বাড়তেছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানায়, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান ও ইরানের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। দোহা চায় 'যত দ্রুত সম্ভব' এই জলপথটি খুলে দিতে।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে দেশে আসার সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
অন্যদিকে, তেহরান বলছে, ওমানের সঙ্গে আলোচনা প্রণালিটি পুনরায় চালু করার ইস্যু থেকে আলাদা। ইরানি কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধক্ষতিপূরণ ও অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো নির্দিষ্ট কিছু শর্তে রাজিও না হওয়া পর্যন্ত এটি বন্ধ থাকবে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, প্রণালিটির ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে; তবে যুদ্ধের আগের অবস্থার তুলনায় বর্তমানে জাহাজ চলাচলের মাত্রা একেবারেই কম।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডএর তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার মাত্র ১০টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে দৈনিক গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করতো।
মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ বাজার পূর্বাভাসে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, ২০২৭ সালের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন যুদ্ধপূর্ববর্তী অবস্থার কাছে ফেরার কোনো সম্ভাবনা তারা দেখছে না। এছাড়া, ২০২৬ সালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলার হতে পারে।
আরও পড়ুন: চসিকের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৮২টি খেলার মাঠ গড়ার উদ্যোগ : প্রশাসক
সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেল বাজার বিশ্লেষক জুন গোহ মন্তব্য করেছেন, হরমুজ প্রণালির উভয় দিকে স্বাভাবিক চলাচল শুরু হলে কেবল ওপেকের ক্রুড উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও জানান, কূটনৈতিক আলোচনায় আবারো আশা দেখা না দিলে তেলের দাম মৌলিকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের স্তরেই অবস্থান করবে। কারণ এখন পর্যন্ত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন