১১:৫৭ এম
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে ১১ বছর কর্মরত একজন সেনা সদস্যের স্ত্রীকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করেছে যা পরিবারটির জন্য বিপদের দিকে নিয়ে এসেছে। তাঁদের পাঁচ বছরের ছেলে মা ছাড়া দিন কাটাচ্ছে এবং স্ত্রীকে দেশে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কায় রয়েছেন ওই সেনা সদস্য।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট অ্যালেক্সিস জারামিলো এই বিষয়ে জানান, দেশের সেবায় অনেক বছর কাটানোর পরও বর্তমানে তিনি নিজেকে প্রতারিত পেতে শুরু করেছেন।
তার স্ত্রী, মাইসা লোপেস এলিয়াসা, ২০১৯ সালে ব্রাজিলের সাও পাওলো থেকে ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরবর্তীতে জারামিলোর সঙ্গে বিয়ের মাধ্যমে তাদের সংসার শুরু হয় এবং তারা স্ত্রীর অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: নির্বাচনের ফল ‘ইতিহাসে এক বিশাল পদক্ষেপ পিছিয়ে যাওয়া’
গত ৮ জুলাই, পরিবারটি আলাবামার মন্টগোমারিতে অনুষ্ঠিত অভিবাসন সংক্রান্ত সাক্ষাৎকারের জন্য আট ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যায়। জারামিলোর দাবি, সাক্ষাৎকারের সময় এক কর্মকর্তা তার স্ত্রীর সঙ্গে তাদের পাঁচ বছরের ছেলে নোয়ার কাছ থেকে আলাদা করে দেন। কিছুক্ষণ পরই জানানো হয় যে, তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।
জারামিলো বলেন, এই দুঃখজনক মুহূর্তে ছেলের সামনে তার স্ত্রীকে আটকের খবর জানানো হয়েছিল, যা মনে করতেও তাকে প্রচণ্ড কষ্ট হয়।
অভিবাসন আইনজীবী মাইকেল গাহাগানের তথ্য অনুযায়ী, মাইসা আগে আঙুলের ছাপ দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সাক্ষাতে উপস্থিত হননি। জারামিলো জানিয়েছেন, তারা ভেবেছিলেন বিয়ের পর নতুন কাগজপত্র জমা দেওয়ার কারণে আগের সাক্ষাতের প্রয়োজন নেই।
তবে আইনজীবীর মতে, একটি আবেদন অন্য আবেদন বাতিল করে না। নির্ধারিত সাক্ষাতে অনুপস্থিত থাকায় তার আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হতে পারে এবং পরে গ্রেপ্তারের প্রশাসনিক পরোয়ানা জারি হতে পারে। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশও আসতে পারে।
আরও পড়ুন: মিরপুরে চলন্ত প্রাইভেট কারে ককটেল বিস্ফোরণ, হতাহত নেই
বর্তমানে মাইসা একটি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের আটক কেন্দ্রে রয়েছেন। তার স্বামী জানিয়েছেন, সেখানে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় আছেন।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে তাদের পাঁচ বছরের ছেলে। স্কুল শুরু হলেও এবার এই প্রথম তার মা তার পাশের নেই। জারামিলো বলেন, ছেলের মানসিক অবস্থাই এখন তার সবচেয়ে বড় চিন্তা হচ্ছে।
স্ত্রীকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হলে কী করবেন—সেটি এখন তার সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, এই ঘটনার কারণে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবেও চাপের মধ্যে আছেন এবং সেনাবাহিনীতে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইতোমধ্যে তিনি একজন আইনজীবী নিয়োগ করেছেন এবং মামলাটি পুনরায় খোলার আবেদন করেছেন। আইনজীবীর মতে, যদি মামলাটি পুনরায় খোলার আবেদন গৃহীত হয়, তাহলে বিচারক বিষয়টি পর্যালোচনার সময় স্ত্রীর দেশ থেকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া থামাতে পারেন।
আরও পড়ুন: যবিপ্রবিতে শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসব উদযাপন, আনন্দমুখর পরিবেশে বিভিন্ন আয়োজন
জারামিলো জানিয়েছেন, তারা আইন ভাঙার চেষ্টা করছেন না, বরং আইন মেনেই সমস্যার সমাধান চান। তিনি আইনপ্রণেতা এবং সংশ্লিষ্ট সবার কাছে তার পরিবারকে একত্রিত করতে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
সূত্র: কেএমভিটি ডট কম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন