ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মিলানে অশ্রুসিক্ত কিংবদন্তি কাকা পেলেন বিরল সম্মাননা


মিলানে অশ্রুসিক্ত কিংবদন্তি কাকা পেলেন বিরল সম্মাননা

মিলান ডার্বির আগে সান সিরোয় এসি মিলান সমর্থকদের জন্য একটি অভাবনীয় ও আবেগময় মুহূর্ত অপেক্ষা করছিল। ক্লাবের বিখ্যাত ‘হল অব ফেম’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হলেন কিংবদন্তি রিকার্ডো কাকা, যিনি ক্লাবটির সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকা।

ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা করতালিতে মুখর হয়ে ওঠেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাঁড়িয়ে (স্ট্যান্ডিং ওভেশন) তাদের প্রিয় তারকাকে বরণ করে নেন। ভক্তদের এমন হৃদয়গ্রাহী ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কাকা; গ্যালারির দিকে তাকিয়ে ভালোবাসার প্রতিদান দিতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি এই ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা।

কাকা এসসি মিলানে দুটি স্মরণীয় অধ্যায় কাটিয়েছেন। ২০০৩ সালে সাও পাওলো থেকে প্রথমবার মিলানে পা রেখে টানা ছয় মৌসুম দারুণ সফল এক সময় কাটানোর পর, ২০১৩-১৪ মৌসুমে তিনি আবারও ফিরে এসেছিলেন ভালোবাসার এই ঠিকানায়।

আরও পড়ুন: গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন, তিন ফরম্যাটে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্বকারী

ক্লাবটির জার্সিতে দুই মেয়াদে মোট ৩০৭টি ম্যাচ খেলেছেন কাকা, যেখানে তার নামের পাশে রয়েছে ১০৪টি গোল এবং ৮১টি অ্যাসিস্ট। লাল-কালো জার্সিতে কাটানো দিনগুলো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সফল অধ্যায়গুলোর একটি। ২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজের অভিষেক মৌসুমেই মিলানকে জিতিয়েছিলেন কাঙ্ক্ষিত সেরি আ লিগ শিরোপা।

তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সোনালী সময়টি আসে ২০০৭ সালে, যখন তিনি নিজ কাঁধে ভর করে এসি মিলানকে এনে দেন উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা। ইউরোপসেরার সেই পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন কাকা। ১০ গোল করে সেবার প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি এথেন্সের ফাইনালে লিভারপুলকে হারিয়ে মিলানের ইউরোপ জয় নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।

আর ঠিক সেই বছরই আসে তার ব্যক্তিগত অর্জনের সর্বোচ্চ শিখর—ব্যালন ডি’অর জয়। তিনিই এখন পর্যন্ত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জয়ী শেষ কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার। একই বছরে মিলানের জার্সিতে তিনি উয়েফা সুপার কাপ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেরও স্বাদ লাভ করেছিলেন।

আরও পড়ুন: অ্যাশেজের ব্যর্থতা ভুলে ওয়ানডেতে নতুন শুরুর পথে ম্যাককালাম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৈয়দপুরে এইচএসসি পরীক্ষায় আট কলেজ থেকে ৪৮১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩০ এম


সৈয়দপুরে এইচএসসি পরীক্ষায় আট কলেজ থেকে ৪৮১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে

সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে শনিবার (৩১ অক্টোবর)। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ১৩টি কলেজের মধ্যে আটটি কলেজ থেকে ৪৮১ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৪৩৩ জন, মানবিক বিভাগে ৩৮ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১০ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন। তবে এইবার উপজেলার কোন কলেজ শতভাগ পাসের হার অর্জন করতে পারেনি।

সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে অবস্থান করছে। এই কলেজের ৩২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার পাসের হার ৯৯.৩৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যেখানে ১৬৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তৃতীয় স্থানে সৈয়দপুর সরকারি কলেজ রয়েছে, যেখান থেকে ৩০ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এবং চতুর্থ স্থানে লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যেখান থেকে ২১ জন এই সাফল্য লাভ করেছে।

এছাড়া, সৈয়দপুর সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে চারজন, সৈয়দপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও লক্ষণপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন করে এবং সৈয়দপুর আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে দুজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এল ক্লাসিকো চলাকালে মিলিতাওয়ের বাসায় ৫ কোটি টাকার চুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩০ এম


এল ক্লাসিকো চলাকালে মিলিতাওয়ের বাসায় ৫ কোটি টাকার চুরি

চলতি লা লিগার মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদ বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে পরাজিত করে মাঠে জয় অর্জন করে। তবে সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচটি যখন রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার এডার মিলিতাও ডাগআউটে বসে উপভোগ করছিলেন, ঠিক তখনই তার বাসায় ঘটে যায় একটি বড় চুরির ঘটনা। এল ক্লাসিকোর উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে চোরেরা হানা দিয়ে মিলিতাওয়ের বাসা থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা) মূল্যের মূল্যবান সম্পদ ও গয়না লুটে নিয়ে যায়।

স্প্যানিশ প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এল মুন্দোর বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যখন মাঠে রিয়াল ও বার্সার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল, তখন মিলিতাওয়ের বিলাসবহুল বাড়ির তৃতীয় তলার বাথরুমের জানালা ভেঙে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা ব্রাজিলিয়ান তারকার ব্যক্তিগত শোবার ঘরটি সম্পূর্ণরূপে তছনছ করে ফেলে এবং সেখান থেকে নামিদামি ব্র্যান্ডের দামি ব্যাগ, বিলাসবহুল ঘড়ি ও বহুমূল্য গয়না চুরি করে পালিয়ে যায়।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ম্যাচ শেষে বাড়ি ফিরে মিলিতাও দেখতে পান যে তার সংগ্রহে থাকা ৫৩ হাজার ইউরো মূল্যের একটি রোলেক্স ঘড়ি এবং প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ইউরো মূল্যের একটি অতি মূল্যবান রিচার্ড মিল ঘড়ি উধাও হয়ে গেছে। শুধু ঘড়িই নয়, এর পাশাপাশি প্রায় ১৫ হাজার ইউরো মূল্যের তিনটি শ্যানেল ব্যাগ, প্রায় ২৫ হাজার ইউরো মূল্যের কার্টিয়ার ব্র্যান্ডের আংটি ও ব্রেসলেট এবং আরও কিছু এক্সক্লুসিভ গয়না, ব্রেসলেট ও স্যুটকেস চুরি হয়েছে। সব মিলিয়ে খুইয়ে ফেলা এই জিনিসগুলোর মোট আর্থিক মূল্য ৩ লাখ ৫০ হাজার ইউরো ছাড়িয়ে যাবে।

সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ঘটনার সময় মিলিতাওয়ের পরিবারের সদস্যরা বাসাতেই উপস্থিত ছিলেন এবং তারা নিচতলায় বসে পরম উত্তেজনায় এল ক্লাসিকো ম্যাচ দেখছিলেন। কিন্তু বাড়ির ওপরের তলায় যে এত বড় সর্বনাশ ঘটে গেছে, তা তারা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনে হাই-প্রোফাইল ফুটবলারদের বাড়ি টার্গেট করে এ ধরনের অপরাধমূলক ও চুরির ঘটনা যেন এক নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। এডার মিলিতাওয়ের ক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি তারই সর্বশেষ একটি ভয়াবহ উদাহরণ। এর আগে ২০২২ সালে বার্সেলোনার তৎকালীন ফরোয়ার্ড পিয়ের-এমেরিক অবামেয়াং তার বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতির শিকার হয়েছিলেন, সে সময় ডাকাতদের শারীরিক হামলায় তার চোয়াল পর্যন্ত ভেঙে গিয়েছিল।

এমনকি চলতি মাসেই অনুরূপভাবে চুরির শিকার হয়েছেন রিয়াল বেটিসের স্ট্রাইকার ট্রয় প্যারট এবং প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) সাবেক গোলরক্ষক সার্জিও রিকোও।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছয় বছরের শিশুকে নিয়ে ১৮ তলা ভবন থেকে লাফ দিলেন মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩১ এম


ছয় বছরের শিশুকে নিয়ে ১৮ তলা ভবন থেকে লাফ দিলেন মা

ভারতের পুনের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ে ১৮ তলা ভবন থেকে পড়ে ৩৩ বছর বয়সি এক নারী ও তার ছয় বছর বয়সি ছেলের মৃত্যু ঘটেছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করছে। খবর এনডিটিভির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে থেরগাঁও-ওয়াকাড এলাকার সিগনেচার পার্ক আবাসিক কমপ্লেক্সে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত নারীর নাম একতা ভাংদে (৩৩) এবং তার ছেলের নাম মাধব ভাংদে।

পরিবারটি গত দুই বছর ধরে ওই আবাসিক ভবনে বসবাস করছিল। তাদের মূল বাড়ি ভারতের রাজস্থান রাজ্যে অবস্থিত। ভবনটির সপ্তম তলায় স্বামী মনোজ ভাংদে (৩৫), স্ত্রী একতা ও ছেলে মাধব বসবাস করতেন। মনোজ ইয়েরওয়াড়া এলাকার একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মনোজ প্রতিদিনের মতো কাজে বের হয়ে যান। এ সময় একতা ও মাধব বাসায় ছিলেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভবনের একটি ডাক্ট থেকে বিকট শব্দ শুনে আবাসিক কমপ্লেক্সের বাসিন্দারা নিচে ছুটে আসেন। সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় একতা ও মাধবকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে ওয়াকাড থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখতে পায়, ঘটনার আগে একতা তার ছেলেকে নিয়ে লিফটে করে ১৮ তলায় গিয়েছিলেন। পরে ভবনের গ্যালারির রেলিংয়ের কাছে তাদের জুতা ও স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, মা ও ছেলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উসমান দান ফোদিও ও হাজী শরীয়তউল্লাহর ইতিহাস: ভিন্ন ভূখণ্ডে বিপ্লবী চেতনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৩১ এম


উসমান দান ফোদিও ও হাজী শরীয়তউল্লাহর ইতিহাস: ভিন্ন ভূখণ্ডে বিপ্লবী চেতনা

ইতিহাস কখনো কখনো এমন এক অদৃশ্য সেতু নির্মাণ করে, যার এক প্রান্তে আফ্রিকার বিস্তীর্ণ প্রান্তর, অন্য প্রান্তে বাংলার নদীবিধৌত জনপদ। মাঝখানে হাজার মাইলের দূরত্ব, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন সংস্কৃতি; অথচ মানুষের দীর্ঘশ্বাস, বঞ্চনার কান্না আর মুক্তির আকাঙ্ক্ষা যেন একই ভাষায় কথা বলে।

অষ্টাদশ শতকের শেষভাগ থেকে ঊনবিংশ শতকের প্রথমার্ধ—পৃথিবীর দুই প্রান্তে আবির্ভূত হলেন দুই মানুষ। পশ্চিম আফ্রিকায় উসমান দান ফোদিও (১৭৫৪–১৮১৭), আর বাংলার মাটিতে হাজী শরীয়তউল্লাহ (১৭৮১–১৮৪০)। যদিও তারা একই সময়ের মানুষ নন, একই ভূখণ্ডের সন্তানও নন; তাদের মধ্যে প্রত্যক্ষ যোগাযোগের প্রমাণও নেই। তবু তাদের জীবন পাশাপাশি রাখলে মনে হয়, ইতিহাস যেন ভিন্ন দুই আকাশের নিচে একই প্রশ্ন উচ্চারণ করেছিল—ধর্ম কি কেবল ব্যক্তিগত বিশ্বাস, নাকি অন্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়ানোরও এক নৈতিক শক্তি?

যখন শাসকের প্রাসাদ উঁচু হয়, অথচ সাধারণ মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ থাকে।

পশ্চিম আফ্রিকার হাউসাল্যান্ডে তখন রাজ্যগুলোর শাসন, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, করের বোঝা এবং ধর্মীয়-সামাজিক অসন্তোষ মানুষের জীবনকে আলোড়িত করছিল। সেই বাস্তবতার ভেতর থেকে উঠে এলেন উসমান দান ফোদিও—একজন ধর্মীয় পণ্ডিত, শিক্ষক ও সংস্কারক। তিনি কেবল মানুষের সামনে ধর্মের কথা বলেননি; শাসকের আচরণকেও ধর্মীয় ন্যায়বিচারের মানদণ্ডে বিচার করেছিলেন। তার কণ্ঠ ধীরে ধীরে এমন মানুষের আশ্রয় হয়ে উঠল, যারা বিদ্যমান ব্যবস্থায় নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল।

এদিকে বাংলার আকাশেও জমছিল অন্য মেঘ। ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পর জমিদারি ব্যবস্থায় কৃষকের ওপর খাজনার চাপ, ঔপনিবেশিক শাসনের কর্তৃত্ব এবং গ্রামীণ সমাজের নানা সংকট ক্রমে গভীর হয়ে উঠছিল। এই বাস্তবতার মধ্যে হাজী শরীয়তউল্লাহর আবির্ভাব। দীর্ঘ ধর্মীয় শিক্ষালাভের পর তিনি বাংলার মানুষের কাছে ফিরে এলেন নতুন এক আহ্বান নিয়ে—ধর্মকে ফিরিয়ে আনতে হবে তার মৌলিক বিধানে, জীবনকে মুক্ত করতে হবে তার দৃষ্টিতে ধর্মবিরোধী আচার ও কুসংস্কার থেকে।

একজনের সামনে ছিল পশ্চিম আফ্রিকার রাজশক্তি ও ধর্মীয় কর্তৃত্বের প্রশ্ন; অন্যজনের সামনে ছিল বাংলার ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি জমিদারি ও ঔপনিবেশিক সমাজের কঠিন বাস্তবতা। একজনের কণ্ঠ উঠেছিল হাউসাল্যান্ডে, অন্যজনের কণ্ঠ বাংলার জনপদে—কিন্তু দুজনের ইতিহাসেই সাধারণ মানুষের জীবন ও মর্যাদার প্রশ্নটি হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তলোয়ার ওঠার আগে জেগে উঠেছিল চিন্তা

প্রতিটি বড় পরিবর্তনের আগে মানুষের মনে একটি প্রশ্ন জন্ম নেয়। যে প্রশ্ন একদিন চাপা স্বরে উচ্চারিত হয়, কালক্রমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে জনসমাজের সম্মিলিত কণ্ঠ।

উসমান দান ফোদিওর আন্দোলনের গোড়ায় ছিল শিক্ষা, ধর্মীয় প্রচার ও শাসকদের নীতির সমালোচনা। আনুমানিক ১৭৭৪–১৭৭৫ সাল থেকে তিনি সক্রিয়ভাবে ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রচার চালাতে থাকেন। তার বক্তব্যে ধর্মীয় আদর্শের সঙ্গে শাসকদের আচরণের অসংগতি এবং সমাজের প্রচলিত কিছু রীতির সমালোচনা উঠে আসে। অনুসারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার আন্দোলনও বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য অর্জন করে।

বাংলায় হাজী শরীয়তউল্লাহর হাতে গড়ে উঠল ফরায়েজী আন্দোলন। ‘ফরায়েজী’ শব্দটি এসেছে ‘ফরজ’ থেকে—যে কর্তব্য পালন করা অবশ্যকর্তব্য। তার আহ্বান ছিল, মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে ফরজ বিধানকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং তার বিবেচনায় ইসলাম বহির্ভূত রীতিনীতি পরিহার করতে হবে। প্রায় ১৮১৮ সালে বাংলায় প্রত্যাবর্তনের পর তার সংস্কার প্রচেষ্টা পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

তাদের হাতে প্রথম অস্ত্র ছিল শিক্ষা, বক্তব্য ও সংগঠন। তারা মানুষের চিন্তাজগতে পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন; কারণ মানুষ যখন নিজের অবস্থাকে নতুন করে বুঝতে শেখে, তখনই পুরোনো ব্যবস্থার ভিতরে প্রশ্নের জন্ম হয়। এখানেই দুই নেতার ইতিহাসের এক গভীর সাদৃশ্য—পরিবর্তন কেবল ক্ষমতার আসনে আঘাত করে আসে না; কখনো তা শুরু হয় মানুষের বিবেকের দরজায় কড়া নেড়ে।

যখন সংস্কারের ভাষা এসে দাঁড়ায় ক্ষমতার মুখোমুখি।

কিন্তু ইতিহাসের পথ সব সময় শান্ত থাকে না। যখন কোনো আন্দোলন প্রচলিত কর্তৃত্বকে প্রশ্ন করে, তখন সেই প্রশ্নের উত্তর সব সময় যুক্তি দিয়ে আসে না; কখনো আসে সংঘাতের মধ্য দিয়ে।

১৮০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উসমান দান ফোদিও তার অনুসারীদের নিয়ে গুদুতে হিজরত করেন। হাউসা শাসকদের সঙ্গে তার বিরোধ তখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে। পরবর্তী সময়ে তিনি সশস্ত্র জিহাদের নেতৃত্ব দেন। ১৮০৮ সালে গোবিরের রাজধানী আলকালাওয়া দখল তার আন্দোলনের সামরিক সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে।

বাংলায় হাজী শরীয়তউল্লাহর আন্দোলনও ধর্মীয় সংস্কারের গণ্ডি অতিক্রম করে সামাজিক-অর্থনৈতিক বিরোধের সঙ্গে যুক্ত হয়। জমিদারদের সঙ্গে ফরায়েজীদের সংঘাতের পেছনে ছিল ধর্মীয় আচার, কর্তৃত্ব এবং কৃষকদের ওপর আরোপিত বিভিন্ন আদায়ের প্রশ্ন। তার আন্দোলন সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে নতুন সংগঠিত চেতনা সৃষ্টি করে।

তবে দুটি ইতিহাসকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। উসমান দান ফোদিওর আন্দোলন সরাসরি সশস্ত্র সংগ্রাম ও নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠায় পৌঁছেছিল। অন্যদিকে, হাজী শরীয়তউল্লাহর জীবদ্দশায় ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান পরিচয় ছিল ধর্মীয় সংস্কার; পরবর্তী সময়ে তার ছেলে দুদু মিয়ার নেতৃত্বে কৃষকসংগঠন ও জমিদারবিরোধী প্রতিরোধ আরো সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে।

ইতিহাসের এই অধ্যায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ধর্মীয় সংস্কার যখন সমাজের ক্ষমতাকাঠামোকে স্পর্শ করে, তখন তার অভিঘাত উপাসনালয়ের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের ভূমি, জীবিকা, অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নেও পৌঁছে যেতে পারে।

আফ্রিকার মাটিতে রাষ্ট্র, বাংলার মাটিতে আন্দোলনের উত্তরাধিকার।

উসমান দান ফোদিওর আন্দোলনের পরিণতি ছিল সুদূরপ্রসারী। তার নেতৃত্বে শুরু হওয়া সংগ্রাম থেকে গড়ে ওঠে সোকোতো খিলাফত, যা পরবর্তী সময়ে পশ্চিম আফ্রিকার বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। ১৮১৭ সালে তার মৃত্যু হলেও তার প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার প্রভাব বহু দশক ধরে বিস্তৃত ছিল।

এই আন্দোলনের ইতিহাসে আরেকটি উজ্জ্বল নাম তার কন্যা নানা আসমাউ (১৭৯৩–১৮৬৪/৬৫)। তিনি ছিলেন পণ্ডিত, কবি ও শিক্ষিকা। নারীশিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার কাজ প্রমাণ করে, একটি সংস্কারমূলক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার কেবল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা শিক্ষা, সাহিত্য ও সমাজের চিন্তাজগতেও প্রবাহিত হতে পারে।

বাংলায় হাজী শরীয়তউল্লাহ কোনো স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেননি। কিন্তু তার মৃত্যুর সঙ্গে ফরায়েজী আন্দোলনের ইতিহাস থেমে যায়নি। তার ছেলে দুদু মিয়া (১৮১৯–১৮৬২) আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং কৃষকদের সংগঠিত করে জমিদারদের সঙ্গে সংঘাতে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

একজনের উত্তরাধিকার পশ্চিম আফ্রিকায় একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্ম দিয়েছিল; অন্যজনের উত্তরাধিকার বাংলায় ধর্মীয় সংস্কার থেকে কৃষক প্রতিরোধের বিস্তৃত ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছিল। দুই জীবনের সাফল্য তাই একই মাপকাঠিতে মাপা যায় না। একজনের ইতিহাসে আছে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধ্যায়, অন্যজনের ইতিহাসে আছে সমাজের গভীরে ছড়িয়ে পড়া এক সংস্কার আন্দোলনের বীজ।

ইতিহাসের আয়নায় দুই মানুষ

তাহলে, কী আমাদের উসমান দান ফোদিও ও হাজী শরীয়তউল্লাহকে পাশাপাশি দাঁড় করাতে শেখায়? তারা এক ছিলেন না। তাদের সময় এক ছিল না, সংগ্রামের ধরনও এক ছিল না। তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ নেই। কিন্তু তাদের জীবন আমাদের সামনে এমন কিছু প্রশ্ন রেখে যায়, যেগুলো কোনো একটি ভূখণ্ডের জন্য নির্দিষ্ট নয়।

যখন ধর্মীয় আদর্শ ও শাসকের আচরণের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়, তখন কে সেই ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তুলবে? যখন সাধারণ মানুষ প্রচলিত ব্যবস্থায় নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে সংকটে পড়ে, তখন কে তাদের সংগঠিত হতে সাহায্য করবে? আর যখন সংস্কারের আহ্বান সমাজের গভীরে পৌঁছে যায়, তখন তার পরিণতি কি কেবল বিশ্বাসের পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি তা নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতারও জন্ম দেয়? উসমান দান ফোদিও ও হাজী শরীয়তউল্লাহর জীবন আমাদের এসব প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়।

হাউসাল্যান্ডের প্রান্তর আর বাংলার নদীর চর—দুই ভূগোলের মধ্যে ছিল বিপুল দূরত্ব। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তাদের নাম পাশাপাশি রাখলে মনে হয়, মানুষের ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা কোনো একটি দেশের সীমানায় আবদ্ধ থাকে না। সময় বদলায়, শাসকের নাম বদলায়, সমাজের ভাষা বদলায়; তবু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন বারবার ফিরে আসে।

হয়তো ইতিহাসের সবচেয়ে গভীর পুনরাবৃত্তি কোনো ঘটনার হুবহু ফিরে আসা নয়; বরং ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন ভূখণ্ডে মানুষের মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নের আবারও জেগে ওঠা। আর সেই কারণেই আফ্রিকার উসমান দান ফোদিও ও বাংলার হাজী শরীয়তউল্লাহকে পাশাপাশি পড়া শুধু অতীতের দুই ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করা নয়—এ আমাদের বুঝতে শেখায়, ইতিহাসের দূরত্ব যতই হোক, মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা কখনো কখনো একই সুরে কথা বলে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%