ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

তামিমরা সক্ষম না বলেই বিপিএল হচ্ছে না: আসিফ আকবর


তামিমরা সক্ষম না বলেই বিপিএল হচ্ছে না: আসিফ আকবর

বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশে বসতে চলেছে তারার মেলা। কিন্তু এবারের মেলায় ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। কারণ, যে বিপিএল-এর উপর ভিত্তি করে মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, সেটি এবার হচ্ছে না। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটি এ বছর আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিপিএল-এর আয়োজন না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনার মধ্যে এবার যুক্ত হয়েছেন আসিফ আকবর। সাবেক বিসিবি পরিচালক আসিফ বর্তমান কমিটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের বিপিএল আয়োজনের সক্ষমতা নেই।

আজ ফার্মগেটের খামারবাড়িতে জাতীয় নাগরিক পার্টির আয়োজিত (এনসিপির) এক অনুষ্ঠানে আসিফ এ মন্তব্য করেছেন। বিসিবির উদাহরণ টেনে সাবেক পরিচালক বলেছেন, ‘আমরা দেড় মাস বিসিবির দায়িত্ব নিয়ে বিপিএল আয়োজন করেছি। তাহলে এখন বিপিএল হবে না কেন? কারণ, তারা সক্ষম না।’

আরও পড়ুন: ‘আমি কেন এত পরিশ্রম করব?’ ভারতীয় দলে সুযোগ না পেয়ে ক্ষুব্ধ সরফরাজ

আসিফ বিসিবিকে একটি আড্ডাখানা হিসেবে বিবেচনা করেন। সংগীতশিল্পী বলেছেন, ‘তারা এখানে একটা আড্ডার জায়গা বানিয়েছে। বিসিবি হয়ে গেছে আড্ডার স্থল। আমরা আইন করে দিয়ে এসেছিলাম ৫ লাখ টাকার বেশি উত্তোলন করতে গেলে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ার বাইরে ব্যবহার করা হচ্ছে। টাইগার ডেন বানানো হচ্ছে। ওখানে ফ্যান লাগাচ্ছে। মূল খেলার খবর নেই।’

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান ছিলেন আসিফ। গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) সেই পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সভাপতি হিসেবে তামিমকে নিয়োগ করেছিল। পরে নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি হন বাংলাদেশের সাবেক ওপেনার ও অধিনায়ক তামিম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে শ্যামাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৩ পি.এম


ময়মনসিংহে শ্যামাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহ, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : আসন্ন শ্রী শ্রী শ্যামা পূজা উদযাপন উপলক্ষে জেলার পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার বিকেলে জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

সভায় আসন্ন শ্যামা পূজা উদযাপন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা করা হয়। এ সময় পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পূজা মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, পূজা উদযাপন কমিটি ও নিরাপত্তা সহায়তা কমিটির দায়িত্ব-কর্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত ভূমিকা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পূজা উদযাপনকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক বজায় রাখার ক্ষেত্রে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন পুলিশ সুপার।

এতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ পুলিশ আশরাফুল করিমসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেন্টমার্টিনে ৩০০ হোটেলের ফায়ার ছাড়পত্র শূন্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৪ পি.এম


সেন্টমার্টিনে ৩০০ হোটেলের ফায়ার ছাড়পত্র শূন্য

নীল জলরাশি, প্রবাল এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে প্রতিবছর সেন্টমার্টিনে হাজার হাজার পর্যটক আসেন। পর্যটন মৌসুমের প্রস্তুতির জন্য দ্বীপের হোটেল, রিসোর্ট এবং কটেজগুলো অতিথিদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে। আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে সাজানো হচ্ছে। কিন্তু পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। দ্বীপের তিন শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ এবং রেস্তোরাঁর মধ্যে একটি হোটেলও ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র পায়নি। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নেই। এমনকি আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য দ্বীপে কোনো ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনও নেই।

অতীতে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। কাঠ, বাঁশ এবং ছনের মতো দাহ্য উপকরণে তৈরি স্থাপনায় আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পর্যটন মৌসুমে দ্বীপে আসা পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি সেন্টমার্টিনের পশ্চিম সৈকতের গলাচিপা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে সাইরী, বিচ ভ্যালি এবং কিংশুক নামের তিনটি রিসোর্টের ২৬টি কক্ষ পুড়ে যায়। কাঠ, বাঁশ এবং ছনে তৈরি রিসোর্টগুলো মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি টাকা দাঁড়ায়।

আগুনে পুড়ে যাওয়া তিনটি রিসোর্টের মধ্যে কিছু আবার নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত সেগুলো। তবে নতুন করে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নেই এবং অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নেই।

বিচ ভ্যালি রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মো. রাফিউল আলম বলেন, "কোনো স্থাপনা আগুনে পুড়ে গেলে তা শুধু মালিকের জন্য নয়, সবার জন্যই কষ্টের।" একই সময়ে তিনটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তাঁদের উদ্বিগ্ন করেছে।

রাফিউল আলম সময় সংবাদকে বলেন, "সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।" তবে এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগও জরুরি। পর্যটন এলাকায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, "রিসোর্টের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় কাঠ ও বাঁশের মতো দাহ্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়।" সমুদ্রের কাছাকাছি হলেও এসব শুকনো উপকরণে আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি দ্বীপে জরুরি ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিচ ভ্যালি রিসোর্টের পাশেই দক্ষিণ হাওয়া রিসোর্ট। এ রিসোর্টের ১০টি কক্ষ কাঠ, বাঁশ ও ছন দিয়ে তৈরি। রিসোর্টটির ব্যবস্থাপক মাকসুদ বলেন, "আমাদের রিসোর্টের অধিকাংশ স্থাপনাই কাঠ ও বাঁশের তৈরি।" অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ও কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম থাকা জরুরি। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যথাযথভাবে স্থাপন ও সচল রাখা গেলে আগুনের প্রাথমিক পর্যায়েই তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

দ্বীপের অধিকাংশ আবাসন প্রতিষ্ঠানের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থার চিত্র আরও উদ্বেগজনক। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, তিন শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ এবং রেস্তোরাঁর কোনোটি অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র নেয়নি। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ফায়ার অ্যালার্ম, হোস পাইপ কিংবা জরুরি নির্গমনপথ নেই।

কোরাল মুন বিচ রিসোর্টের কেয়ারটেকার মো. আতাউর বলেন, "আমাদের রিসোর্টে আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।" আগুন লাগলে পানি ব্যবহার করেই তা নেভানোর চেষ্টা করতে হয়। কিন্তু এভাবে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। শুধু তাঁদের রিসোর্ট নয়, পর্যটন এলাকার অধিকাংশ রিসোর্টেই অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। তাই প্রতিটি রিসোর্টে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্বীপে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা জরুরি।

সেন্টমার্টিন বাজারসংলগ্ন তারকা হোটেল ব্লু মেরিনে ৪১টি কক্ষ রয়েছে। হোটেলটিতে ফায়ার অ্যালার্ম, এ, বি এবং সি শ্রেণির অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং পানির হোস পাইপ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানিয়েছেন। তবে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোর মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

হোটেলটির কর্মী মোহাম্মদ রবি হোসেন বলেন, "কর্মীদের অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন ও দক্ষ করতে প্রতি মাসে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।" হোটেলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও হোস পাইপের পাশাপাশি ওপরের অংশে দুটি হোস পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সেগুলো কক্সবাজারে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কিছু রিসোর্টে নিজস্ব উদ্যোগে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। লুইপাজ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মিঠু মিয়া বলেন, "আমাদের রিসোর্টে মোট নয়টি কক্ষ রয়েছে।" সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি হওয়ায় এটি প্রচলিত ভবন নির্মাণপদ্ধতিতে নয়, ইউপি সিস্টেমে নির্মাণ করা হয়েছে।

মিঠু মিয়ার ভাষ্য, "অগ্নিনিরাপত্তার জন্য আমাদের রিসোর্টে ফায়ার এক্সটিংগুইশার, ফায়ার বাকেট, বালতি, বালু এবং পানির ব্যবস্থা রয়েছে।" শুরু থেকেই এসব সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে তাঁর মতে, সেন্টমার্টিনের অধিকাংশ রিসোর্ট ইকো-ট্যুরিজমের আদলে কাঠসহ বিভিন্ন দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি। তাই পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তায় দ্বীপে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন অত্যন্ত জরুরি।

ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।

গত ১৭ অক্টোবর ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১১ পর্যটকের মৃত্যুর পর সেন্টমার্টিনের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, পর্যটক ও বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বীপে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা প্রয়োজন। অন্তত পর্যটন মৌসুমে প্রশিক্ষিত কর্মী ও প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম মোতায়েন করা উচিত।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, "দ্বীপের হোটেল, রিসোর্টসহ বিভিন্ন আবাসিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ছয় হাজার মানুষের থাকার সক্ষমতা রয়েছে।" এত বিপুলসংখ্যক মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এখানে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন জরুরি।

ফয়েজুল ইসলাম আরও বলেন, "কয়েক দিন আগে টেকনাফে অনুষ্ঠিত একটি সভায় আমি বিষয়টি তুলে ধরে সেন্টমার্টিনে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের আবেদন জানিয়েছি।" দ্বীপের বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ফায়ার সার্ভিসের

প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় অগ্নিনিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ জন্য হোটেল-রিসোর্টের মালিক, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহিদুল আলম বলেন, "বাসাবাড়ির মতো হোটেল ও রিসোর্টেও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।" বরং হোটেল-রিসোর্টের ক্ষেত্রে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কারণ, সেখানে অসংখ্য পর্যটক ও অতিথির নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত।

তিনি বলেন, "হোটেল ও রিসোর্টের মালিকদের প্রথম দায়িত্ব অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।" এ ক্ষেত্রে শুধু অগ্নিনিরাপত্তা নয়, অন্যান্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাও যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য মালিকপক্ষ, ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ফায়ার সার্ভিসসহ তদারকি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লাইসেন্স শাখার পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, "সেন্টমার্টিনের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।" দ্বীপের কোনো হোটেল-রিসোর্টেরই ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নেই। অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থাও সন্তোষজনক নয়। শিগগিরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্বীপটি পরিদর্শনে যাবে। এরপর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, "সমুদ্রের তীব্র বাতাসে কাঠ ও বাঁশের তৈরি রিসোর্টে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।" এ ধরনের স্থাপনায় বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেতব্যবস্থা, হোস পাইপ এবং অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সেন্টমার্টিনে এসব ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে।

দ্বীপে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুই হাজারের বেশি বসতবাড়ি রয়েছে। এর পাশাপাশি গড়ে উঠেছে তিন শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট এবং অন্যান্য আবাসিক প্রতিষ্ঠান। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে শুধু পর্যটকেরা নন, রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও অগ্নিনিরাপত্তার এমন দুর্বলতা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে। অতীতের অগ্নিকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে পর্যটন মৌসুম শুরুর আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঘটতে পারে। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে তাই শুধু হোটেল-রিসোর্ট সাজানো নয়, অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের পবিত্র কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশের বিরল সম্মাননা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৫ পি.এম


নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের পবিত্র কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশের বিরল সম্মাননা

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু সৌদি আরবে উমরাহ পালনকালে মক্কার মসজিদ আল-হারামের পবিত্র কাবা ঘরের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ লাভ করেছেন। তিনি এটি একটি 'বিরল ও ঐতিহাসিক আধ্যাত্মিক সম্মান' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

২০১৬ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারির পর, বোলা তিনুবু দ্বিতীয় নাইজেরীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাবা শরিফের অভ্যন্তরে প্রবেশের সুযোগ পেলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট তিনুবু পবিত্র কাবা ঘরে প্রবেশ করছেন এবং পরে হাজরে আসওয়াদে (কালো পাথর) চুম্বন করছেন। ভিডিওতে তাঁর সফরসঙ্গী ও প্রতিনিধি দলের সদস্যদেরও কাবার ভেতরে তাঁর সঙ্গে অবস্থান করতে দেখা যায়।

এই বিরল সম্মান ও সুযোগ প্রদানের জন্য নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনুবু এই মুহূর্তটিকে 'গভীরভাবে লালিত এক আধ্যাত্মিক মুহূর্ত' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "আমাদের প্রতি আস্থা রাখা এবং এমন সম্মান দেওয়ার জন্য আমি অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাতে চাই। কাবা ঘরের আশপাশের গালিচা ও নকশায় সবুজ আর সাদা রঙের উপস্থিতি দেখে আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না, কারণ এটি হুবহু আমাদের নাইজেরিয়ার জাতীয় পতাকার রঙের কথা মনে করিয়ে দেয়।"

সৌদি নেতৃত্বের আতিথেয়তার প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, "এটি এমন একটি সম্মান যা আমি সত্যিই উপভোগ করেছি। তাঁরা আমাকে পবিত্র কাবার ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে যে উদারতা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই ঐতিহাসিক।" আল্লাহর ঘরের ভেতরে নিজের প্রার্থনার বিষয়ে তিনুবু জানান, নাইজেরিয়ার জনগণের সেবা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ প্রজ্ঞা ও সহনশীলতা চেয়েছেন।

তিনি ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পূর্বের কথা স্মরণ করে বলেন, "নির্বাচনের আগে উমরাহ করতে এসে আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করেছিলাম এবং প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে, বিজয়ী হলে কৃতজ্ঞতা জানাতে আবার ফিরে আসব।"

এ সময় তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ইমরানের ২৬ নম্বর আয়াতের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছে—আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সার্বভৌম ক্ষমতা ও রাজত্ব দান করেন, আর যার কাছ থেকে ইচ্ছা তা ছিনিয়ে নেন। আয়াতটির পংক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, সকল ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রকৃত মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ এবং এই দায়িত্ব অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পালন করা উচিত।

নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত হওয়াকে আল্লাহর ঐশ্বরিক অনুগ্রহ হিসেবে অভিহিত করে তিনি দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনুবু জানান, এই আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা নাইজেরিয়াকে সমৃদ্ধ ও উন্নত করার ক্ষেত্রে তাঁর দৃঢ়সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, "দেশের মানুষের প্রত্যাশা এবং মহান আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী নাইজেরিয়াকে নতুন এক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে আমার প্রতিশ্রুতি এখন আরও দৃঢ়।"

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় উমরাহ

২০২৩ সালের ২৯ মে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এটি তিনুবুর দ্বিতীয় উমরাহ সফর। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে রিয়াদে অনুষ্ঠিত ‘সৌদি-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলন’ শেষে তিনি প্রথমবার উমরাহ পালন করেছিলেন।

বর্তমান সফরের উদ্দেশ্যে তিনি গত ২৯ অক্টোবর আবুজারা ত্যাগ করে সৌদি আরব পৌঁছান। ৩০ অক্টোবর মসজিদ আল-হারামে উমরাহ পালন শেষে ২ নভেম্বর সোমবার তিনি পবিত্র কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছয় বছরের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি, সরকারি নিবন্ধন পেল কালকিনি যুব ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৫ পি.এম


ছয় বছরের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি, সরকারি নিবন্ধন পেল কালকিনি যুব ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি

দীর্ঘ ছয় বছরের নিরলস পরিশ্রম, ত্যাগ ও মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকারি নিবন্ধন পেয়েছে মাদারীপুরের কালকিনি যুব ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি (KYBDS)। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংগঠনটি সরকারি নিবন্ধন লাভ করে। এর নিবন্ধন নম্বর ২৭/কালকিনি।

দীর্ঘদিন ধরে রক্তদানসহ বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত সংগঠনটির সদস্যদের কাছে এ অর্জন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নিবন্ধন শুধু একটি সরকারি স্বীকৃতি নয়; বরং দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, ভালোবাসা, ত্যাগ ও মানবসেবার এক অনন্য স্বীকৃতি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ অর্জনের পেছনে যাঁদের শ্রম, সময়, মেধা ও আন্তরিক প্রচেষ্টা রয়েছে, তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হচ্ছে। বিশেষ করে সংগঠনের প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও সহযোগিতাই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি।

তাঁরা আরও জানান, সরকারি নিবন্ধন লাভের মধ্য দিয়ে সংগঠনের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা আরও বেড়েছে। ভবিষ্যতেও সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রক্তদান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় রয়েছে তাঁদের।

সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা বলেন, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং রক্তের অভাবে যেন কোনো প্রাণ ঝরে না যায়, সেই লক্ষ্য নিয়েই তাঁদের পথচলা। সরকারি নিবন্ধন এই পথচলাকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

উল্লেখ্য, কালকিনি যুব ব্লাড ডোনেশন সোসাইটির (KYBDS) সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করছে কালকিনি ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি (KBDS)।

মানবতার সেবায়, রক্তের বন্ধনে—আমরা আছি, আমরা থাকব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%