ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী


বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার, এমনটি জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, সরকার দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের যাতে এক দফতর থেকে আরেক দফতরে যেতে না হয়, সেই জন্য কেন্দ্রীয় অনলাইনভিত্তিক ওয়ান-স্টপ উইন্ডো ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

রবিবার সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে, জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে ডাম্পট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৫

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভৌত স্থাপনা বা শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া বাস্তব অবকাঠামোগত কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় তা ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে শেষ করা সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। এটি কারণ, এ ধরনের স্থাপনায় নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয়সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থাপনা পরিদর্শন করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।

তবে বিনিয়োগ কার্যক্রম যাতে বিলম্বিত না হয়, সেই জন্য অস্থায়ী বা প্রভিশনাল লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময় কমিয়ে আনার একটি রূপরেখা ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে খাতভিত্তিক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে। কারণ একেক খাতের জন্য একেক ধরনের অনুমোদন ও নথিপত্র প্রয়োজন হয়ে থাকে। যেমন, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া টেক্সটাইল কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া থেকে ভিন্ন।

কারখানা পরিদর্শন ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরিদর্শন কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে। বিডা পরিদর্শনের তারিখ নির্ধারণ করবে, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একত্র করবে এবং একটি সমন্বিত ব্যবস্থার অধীনে একবারেই পরিদর্শন সম্পন্ন করা হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সংস্থার কাছে বারবার যেতে হবে না।

আরও পড়ুন: ঢাকা বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচে, লাহোরের পর স্থান

বাণিজ্যমন্ত্রী বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি প্রসঙ্গেও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে আরও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে চায়। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট শ天িয়েছে, ডিজেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আর্থিকভাবে ব্যয়বহুল এবং সংকটকালে সরবরাহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের যানবাহন ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক এবং হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে নিতে সরকার আগ্রহী। মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।

তবে বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য প্রস্তুত নয়, এমনটি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার আপাতত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির আমদানি ও ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেবে।

জেবিসিসিআই প্রতিনিধি দলের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্প স্থাপন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন: ‘জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব অনুসরণ করেই বাংলাদেশ পুনর্গঠন করতে হবে’

বাণিজ্যমন্ত্রী জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে বিনিয়োগকারী অনলাইনে এক প্ল্যাটফর্মে ক্লিক করেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন। আমাদের লক্ষ্য হলো সময়, ব্যয় ও জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করা।

সভায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করে জেবিসিসিআই নেতারা বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানে সার্বভৌমত্ব রক্ষিত হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে বিশ্বম্ভরপুরের ১০০ মিটার সড়ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে বিশ্বম্ভরপুরের ১০০ মিটার সড়ক

বিশ্বম্ভরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধির মাধ্যমে জানা গেছে যে, পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ১০০ মিটার (দুর্গাপুর) সড়ক। রবিবার সকালে এ সড়কের ছবি তোলা হয়েছে। ছবিতে দেখা যায় টানা বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সড়কটি প্লাবিত হয়ে গেছে। এর ফলে সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুরগামী পর্যটক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। রবিবার (২১ জুন) সকালে যাদুকাটা নদী দিয়ে প্রবল গতিতে নিচে নেমে আসা পানিতে সড়কটি তলিয়ে যায়। একই সময়ে তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর সড়কের কিছু অংশও পানির নিচে চলে গেছে। তবে ঝুঁকি নিয়ে সীমিত আকারে কিছু যানবাহন এখনো চলাচল করছে। স্থানীয়রা বলেছেন, যদি পানির পরিমাণ আরও বাড়ে, তবে এই সড়ক দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এটির নিচু অবস্থানের কারণে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সিএনজি চালক ফারুক মিয়া বলেন, 'অনেক কষ্টে পানি ঠেলে সড়ক পার হয়েছি। পানি যেভাবে বাড়ছে, আবার ফিরতে পারব কি না তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।' সুনামগঞ্জ থেকে আসা যাত্রী রফিক মিয়া জানালেন, 'ভারত থেকে যাদুকাটা নদী হয়ে নেমে আসা প্রবল স্রোতের পানি সড়ক উপচে ভাটির দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।' তিনি বলেন, সকালে কোনো রকমে যাতায়াত করতে পেরেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম মিয়া বলছে, প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলের পানিতে সড়কটি তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য তিনি সড়কটি উঁচু করার দাবি জানিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কামাল হোসেন বলেন, 'পানি আরো বাড়লে ১০০ মিটার সড়ক পার হতে নৌকার প্রয়োজন হবে।' বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, জেলার নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে এখন সকল নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যদি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে এবং উজান থেকে আরও পানি নেমে আসে, তবে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোলায় সম্পত্তি বিরোধের জেরে বাবার লাশ দাফনে সন্তানদের বাধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


ভোলায় সম্পত্তি বিরোধের জেরে বাবার লাশ দাফনে সন্তানদের বাধা

ভোলার চরফ্যাশনের শশিভূষণে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে এক ব্যক্তির লাশ দাফনে বাধা ও সন্তানদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। জলিল পণ্ডিত নামক ওই ব্যক্তির লাশ দাফনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই দুবার কবর খুঁড়ে দাফন করতে পারেনি। এই নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করে। শনিবার (২০ জুন) উপজেলার শশীভূষণ থানার রসুলপুর ৩নং ওয়ার্ডে এ ঘটনাটি ঘটে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত জলিল পণ্ডিত তার জীবদ্দশায় মোট ৪টি বিয়ে করেছেন এবং বর্তমানে তার দুই স্ত্রী ও সাতজন ছেলে-মেয়ে রয়েছেন। সন্তানেরা অভিযোগ করেছে যে, তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তারের নামে দলিল করে যান। এই সম্পত্তিগত বিরোধের কারণে তার লাশ দাফনে বাধা দেন সন্তানরা। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়ির উঠানে দ্বিতীয়বার কবর খুঁড়তে যান। কিন্তু সেখানেও মৃতের চতুর্থ স্ত্রী ও সেই ঘরের সন্তানরা পুনরায় বাধা দেন।

এছাড়াও, লাশ আঙিনায় রেখে ভাইবোনদের মধ্যে কয়েক দফা হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরও উত্তেজনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পুলিশের সামনে কয়েক দফা সংঘর্ষ ঘটে। পরে এলাকাবাসী পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে এবং সন্তানদের বুঝিয়ে মৃত জলিল পণ্ডিতের লাশ নিজেদের বাড়ির আঙিনায় জানাজা শেষে তড়িঘড়ি করে দাফন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দাফনকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টা ধরে সেই বাড়িতে উত্তেজনা বিরাজ করে। এক পর্যায়ে লাশ বাড়ির উঠানে রেখে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, ধাক্কাধাক্কি এবং মারধরের ঘটনা ঘটে। বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় এলাকাবাসী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে শশীভূষণ থানার পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করে। তবে পুলিশের উপস্থিতিতেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও হাতাহাতি ঘটে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত করে দীর্ঘ আলোচনার পর বাড়ির উঠানে জানাজা শেষে জলিলের লাশ দাফন করা হয়।

এদিকে, এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সম্পত্তির বিরোধের কারণে একজন মৃত ব্যক্তির দাফন বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার নীল দেখা দিয়েছে। অনেকেই এই ধরনের ঘটনাকে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইলিয়াস আলীকে গুম করেছিলেন জিয়াউল আহসান : চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


ইলিয়াস আলীকে গুম করেছিলেন জিয়াউল আহসান : চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীকে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান অপহরণ করেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ইলিয়াস আলীর অপহরণের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের সম্পৃক্ততা প্রমাণ হয়েছে।

এদিকে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তারই এক সময়কার এক কর্মকর্তা। জবানবন্দিতে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের বর্ণনা তুলে ধরেছেন তিনি।

জবানবন্দির একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল র‍্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে মেজর জিয়াউল, মেজর নওশাদ, সাইফ স্যারসহ মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যাই। কে বা কাকে গাড়িতে তুলবে তা আমি জানতাম না। তবে গাড়িতে বসে জিয়াউল স্যার বিভিন্ন জায়গায় ফোন করছিলেন-টার্গেট কখন আসবেন। একপর্যায়ে জানা যায় টার্গেট আসবেন না। পরে সেখান থেকে জিয়া স্যারকে বাসায় নামিয়ে দেই। পরদিন সকালে আমি ৯ দিনের ছুটিতে বাড়ি যাই। ছুটিতে থাকাকালে ১৮ এপ্রিল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে মহাখালী থেকে অপহরণ করা হয়। এরপর ছুটি শেষে ২৩ এপ্রিল র‍্যাব হেডকোয়ার্টারের ইনটেলিজেন্স উইংয়ে যোগ দেই। যোগদানের পর কর্মস্থলে থমথমে পরিবেশ লক্ষ্য করি। এছাড়া সাধারণত সকাল ৯টায় রোল-কল হতো। কিন্তু ১৮ এপ্রিলের পর সকাল ৭টায় হয়েছিল। এভাবে বেশ কয়েকদিন সকালে আসতেন জিয়াউল স্যার। একদিন ফোনে কথা বলছিলেন জিয়াউল। এর মধ্যে তার আরেকটি ফোনে কল আসে। তখন জিয়া বলছিলেন, তুই রাখ। তারিক স্যার ফোন দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ফোনে জিয়াউল ও তারিক স্যারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়। একপর্যায়ে জিয়াউল বলে ওঠেন, আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ (গুম) করলাম। এখন আপনারা এরকম করলে হবে? আমি কমান্ডো মানুষ। তাহলে পোস্টিং দিয়ে জঙ্গলে পাঠিয়ে দিন। এছাড়া, ইলিয়াস আলীকে গুমের পর র‌্যাব হেডকোয়ার্টারের বেশ কিছু সিসিটিভির ফুটেজ ধ্বংস করে ফেলেন জিয়াউল স্যার।

এদিকে, রবিবার সকালে এ মামলায় একমাত্র আসামি জিয়াউলকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতেই সাক্ষ্য দেন সাক্ষী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০০ বছরের পুরোনো শ্মশানের উন্নয়ন কাজে আর বাধা নেই: নাসিক প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


২০০ বছরের পুরোনো শ্মশানের উন্নয়ন কাজে আর বাধা নেই: নাসিক প্রশাসক

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধির খবর অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের প্রায় ২০০ বছর পুরোনো শ্মশান ও মন্দিরের উন্নয়ন কাজের ব্যবস্থা করতে আর কোনো বাধা নেই। আদালত শ্মশানের পক্ষে রায় দেন যেটি চলমান আইনি বিরোধের পর্বে হয়েছে। আদালত আম্বার পেপার মিলসের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, "শ্মশানের উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যেতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।"

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার পিংকি রায় প্রদান করেন।

সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো শ্মশান ও মন্দিরটি ১৭৯৩ সাল থেকে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডসহ পার্শ্ববর্তী সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ও মদনগঞ্জ এলাকার হাজারো হিন্দু ধর্মাবলম্বীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার একমাত্র স্থান এটি।

বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রায় ৭ একর জমির মধ্যে শ্মশান ও মন্দিরের জন্য ব্যবহৃত ৩১ শতাংশ জায়গা। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘকাল ধরে ওই জমিতে শ্মশান ও মন্দির বিদ্যমান থাকলেও শিল্প প্রতিষ্ঠানটি দাবি করছে তারা পুরো জমির মালিক।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে শ্মশানটির আধুনিকায়ন প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে, যার ব্যয় প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় আধুনিক দাহ চুল্লি, গোসলখানা এবং অফিস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও, আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

রায়ের পর নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান মন্তব্য করেন, "আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে শ্মশানের উন্নয়ন কাজ চলমান রাখতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।" তিনি বলেন, "জনস্বার্থ এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি আদালত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন।" তিনি আরও বলেন, "এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।"

এদিকে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিদ খন্দকার জানান, "আমরা প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আদালতে জমা দিয়েছি। আজকের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব এবং আইনি লড়াই অব্যাহত রাখব।"

মামলার নথি এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এরশাদ সরকারের আমলে মাত্র এক টাকায় প্রায় ৭০০ শতাংশ জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল আম্বার পেপার মিলসকে। বর্তমানে ওই এলাকার জমির বাজারমূল্য অনুযায়ী সম্পত্তিটির মূল্য শত কোটি টাকার বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। শ্মশান কমিটির অভিযোগ, ১৯৮৯ সালে লিজ গ্রহণের সময় শ্মশানের ৩১ শতাংশ জমির বিষয়টি গোপন করা হয়েছিল, যা তদন্তের দাবি রাখে।

আদালতের সর্বশেষ রায়ের কারণে উন্নয়ন কাজ পুনরায় শুরু হওয়ার পথ উন্মুক্ত হওয়ায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই রায়ের ফলে আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাবে এবং দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ নিষ্পত্তির পথও সুগম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%