০৪:০৪ পি.এম
দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার, এমনটি জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, সরকার দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের যাতে এক দফতর থেকে আরেক দফতরে যেতে না হয়, সেই জন্য কেন্দ্রীয় অনলাইনভিত্তিক ওয়ান-স্টপ উইন্ডো ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
রবিবার সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে, জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে ডাম্পট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৫
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভৌত স্থাপনা বা শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া বাস্তব অবকাঠামোগত কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় তা ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে শেষ করা সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। এটি কারণ, এ ধরনের স্থাপনায় নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয়সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থাপনা পরিদর্শন করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।
তবে বিনিয়োগ কার্যক্রম যাতে বিলম্বিত না হয়, সেই জন্য অস্থায়ী বা প্রভিশনাল লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময় কমিয়ে আনার একটি রূপরেখা ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে খাতভিত্তিক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে। কারণ একেক খাতের জন্য একেক ধরনের অনুমোদন ও নথিপত্র প্রয়োজন হয়ে থাকে। যেমন, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া টেক্সটাইল কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া থেকে ভিন্ন।
কারখানা পরিদর্শন ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরিদর্শন কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে। বিডা পরিদর্শনের তারিখ নির্ধারণ করবে, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একত্র করবে এবং একটি সমন্বিত ব্যবস্থার অধীনে একবারেই পরিদর্শন সম্পন্ন করা হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সংস্থার কাছে বারবার যেতে হবে না।
আরও পড়ুন: ঢাকা বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচে, লাহোরের পর স্থান
বাণিজ্যমন্ত্রী বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি প্রসঙ্গেও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে আরও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে চায়। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট শ天িয়েছে, ডিজেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আর্থিকভাবে ব্যয়বহুল এবং সংকটকালে সরবরাহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের যানবাহন ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক এবং হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে নিতে সরকার আগ্রহী। মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।
তবে বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য প্রস্তুত নয়, এমনটি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার আপাতত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির আমদানি ও ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেবে।
জেবিসিসিআই প্রতিনিধি দলের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্প স্থাপন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন: ‘জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব অনুসরণ করেই বাংলাদেশ পুনর্গঠন করতে হবে’
বাণিজ্যমন্ত্রী জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে বিনিয়োগকারী অনলাইনে এক প্ল্যাটফর্মে ক্লিক করেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন। আমাদের লক্ষ্য হলো সময়, ব্যয় ও জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করা।
সভায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করে জেবিসিসিআই নেতারা বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানে সার্বভৌমত্ব রক্ষিত হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন