০৪:০৪ পি.এম
বিশ্বম্ভরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধির মাধ্যমে জানা গেছে যে, পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ১০০ মিটার (দুর্গাপুর) সড়ক। রবিবার সকালে এ সড়কের ছবি তোলা হয়েছে। ছবিতে দেখা যায় টানা বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সড়কটি প্লাবিত হয়ে গেছে। এর ফলে সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুরগামী পর্যটক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। রবিবার (২১ জুন) সকালে যাদুকাটা নদী দিয়ে প্রবল গতিতে নিচে নেমে আসা পানিতে সড়কটি তলিয়ে যায়। একই সময়ে তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর সড়কের কিছু অংশও পানির নিচে চলে গেছে। তবে ঝুঁকি নিয়ে সীমিত আকারে কিছু যানবাহন এখনো চলাচল করছে। স্থানীয়রা বলেছেন, যদি পানির পরিমাণ আরও বাড়ে, তবে এই সড়ক দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এটির নিচু অবস্থানের কারণে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সিএনজি চালক ফারুক মিয়া বলেন, 'অনেক কষ্টে পানি ঠেলে সড়ক পার হয়েছি। পানি যেভাবে বাড়ছে, আবার ফিরতে পারব কি না তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।' সুনামগঞ্জ থেকে আসা যাত্রী রফিক মিয়া জানালেন, 'ভারত থেকে যাদুকাটা নদী হয়ে নেমে আসা প্রবল স্রোতের পানি সড়ক উপচে ভাটির দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।' তিনি বলেন, সকালে কোনো রকমে যাতায়াত করতে পেরেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম মিয়া বলছে, প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলের পানিতে সড়কটি তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য তিনি সড়কটি উঁচু করার দাবি জানিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কামাল হোসেন বলেন, 'পানি আরো বাড়লে ১০০ মিটার সড়ক পার হতে নৌকার প্রয়োজন হবে।' বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, জেলার নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে এখন সকল নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যদি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে এবং উজান থেকে আরও পানি নেমে আসে, তবে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন