০৪:০৭ পি.এম
নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধির খবর অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের প্রায় ২০০ বছর পুরোনো শ্মশান ও মন্দিরের উন্নয়ন কাজের ব্যবস্থা করতে আর কোনো বাধা নেই। আদালত শ্মশানের পক্ষে রায় দেন যেটি চলমান আইনি বিরোধের পর্বে হয়েছে। আদালত আম্বার পেপার মিলসের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, "শ্মশানের উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যেতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।"
রবিবার (২১ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার পিংকি রায় প্রদান করেন।
সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো শ্মশান ও মন্দিরটি ১৭৯৩ সাল থেকে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডসহ পার্শ্ববর্তী সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ও মদনগঞ্জ এলাকার হাজারো হিন্দু ধর্মাবলম্বীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার একমাত্র স্থান এটি।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে রাজশাহীতে আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রায় ৭ একর জমির মধ্যে শ্মশান ও মন্দিরের জন্য ব্যবহৃত ৩১ শতাংশ জায়গা। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘকাল ধরে ওই জমিতে শ্মশান ও মন্দির বিদ্যমান থাকলেও শিল্প প্রতিষ্ঠানটি দাবি করছে তারা পুরো জমির মালিক।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে শ্মশানটির আধুনিকায়ন প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে, যার ব্যয় প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় আধুনিক দাহ চুল্লি, গোসলখানা এবং অফিস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও, আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
রায়ের পর নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান মন্তব্য করেন, "আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে শ্মশানের উন্নয়ন কাজ চলমান রাখতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।" তিনি বলেন, "জনস্বার্থ এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি আদালত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন।" তিনি আরও বলেন, "এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।"
এদিকে মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিদ খন্দকার জানান, "আমরা প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আদালতে জমা দিয়েছি। আজকের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব এবং আইনি লড়াই অব্যাহত রাখব।"
আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭
মামলার নথি এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এরশাদ সরকারের আমলে মাত্র এক টাকায় প্রায় ৭০০ শতাংশ জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল আম্বার পেপার মিলসকে। বর্তমানে ওই এলাকার জমির বাজারমূল্য অনুযায়ী সম্পত্তিটির মূল্য শত কোটি টাকার বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। শ্মশান কমিটির অভিযোগ, ১৯৮৯ সালে লিজ গ্রহণের সময় শ্মশানের ৩১ শতাংশ জমির বিষয়টি গোপন করা হয়েছিল, যা তদন্তের দাবি রাখে।
আদালতের সর্বশেষ রায়ের কারণে উন্নয়ন কাজ পুনরায় শুরু হওয়ার পথ উন্মুক্ত হওয়ায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই রায়ের ফলে আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাবে এবং দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ নিষ্পত্তির পথও সুগম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন