১০:৪৩ এম
শেরপুর জেলার পাঁচ উপজেলায় শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা, বাজারে আগাম সবজি তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশায়। বিশেষ করে গারো পাহাড়ি অঞ্চলের তিন উপজেলায় আগাম সবজির আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা, অসময়ের বৃষ্টি ও পোকামাকড়ের আক্রমণের ঝুঁকি সত্ত্বেও অধিক লাভের প্রত্যাশায় কৃষকরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সবজি খেতের পরিচর্যায়।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। কিছুদিন আগে যেসব জমিতে ধানের আবাদ ছিল, সেসব জমিতে এখন শোভা পাচ্ছে বাঁধাকপি, ফুলকপি, করলা, শিম, টমেটো, বেগুন ও লাউসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজি। শীত পুরোপুরি আসার আগেই এসব সবজি বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন চাষিরা।
ঝিনাইগাতী উপজেলার আদর্শ কৃষক আনোয়ার হোসেন, শ্রীবরদী উপজেলার শাহিন মিয়া, নকলা উপজেলার আলহাজ্ব জাকির হোসেন চঞ্চল ও নালিতা বাড়ী উপজেলার আমিরুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, "আশা করি সবজি চাষে এবার ভাল লাভবান হবো। তাই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সবজি ক্ষেতে কাজ করে যাচ্ছি।"
আরও পড়ুন: বিজ্ঞান ভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে কৃষকের চাষ পদ্ধতি
শেরপুর সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এবার আগাম বেগুন, আলু, বাঁধাকপি ও ফুলকপিসহ হরেক রকম সবজি চাষ করেছেন। আগাম সবজি উৎপাদনে খরচ কিছুটা বেশি হলেও বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়ার আশায় তারা বাড়তি পরিশ্রম করছেন। তবে ফসল ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত বৈরী আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের আশঙ্কা তাদের ভাবিয়ে তুলছে।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর শেরপুর জেলায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। কৃষকদের মধ্যে আগাম সবজি চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তবে সার, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম কমানো গেলে উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমবে বলে স্থানীয় কৃষকরা মনে করছেন। এতে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি সাধারণ ভোক্তারাও তুলনামূলক কম দামে সবজি কিনতে পারবেন।
শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, "শীতকালীন সবজিকে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পদ্ধতিতে বালাইনাশক প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সহযোগিতা করছেন।"
এ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চমূল্যের আগাম সবজি চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে পেঁয়াজ-রসুন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা, ভালো ফলনের প্রত্যাশা
সংশ্লিষ্টদের আশা, কৃষকদের পরিশ্রম, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে শেরপুরে আগাম শীতকালীন সবজি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি ভোক্তা পর্যায়ে ও যথা সময়ের আগেই সবজির চাহিদা পূরণ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন