১২:৪২ এম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর) অভিযোগ জানিয়েছে যে, বাংলাদেশি সন্দেহে বহু মানুষকে জোরপূর্বক সীমান্তের দিকে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আগামী ১১ জুন মালদা শহরে বিক্ষোভ মিছিল আয়োজনের ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
রোববার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এপিডিআর দাবি করে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের আগে বিজেপি তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে ‘ডিটেক্ট, ডিপোর্ট, ডিলিট’ অর্থাৎ চিহ্নিতকরণ, বহিষ্কার ও মুছে ফেলার নীতির কথা উল্লেখ করেছিল।
আরও পড়ুন: ফ্লাইওভার উদ্বোধনের আগেই খসে পড়ল কংক্রিট, আহত ইজিবাইক চালক
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার বিএসএফকে জমি হস্তান্তর এবং তথাকথিত ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটককেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। এ কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে কথিত বাংলাদেশিদের শনাক্ত করে সেখানে রাখার পাশাপাশি পরবর্তীতে সীমান্ত পার করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
এপিডিআরের দাবি, এই ‘পুশ ব্যাক’ নীতির কারণে বহু মানুষ বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকায় অনিশ্চিত অবস্থায় আটকে আছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের বিভিন্ন স্থান থেকে সীমান্তে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশ দিকে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি এসব ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। ফলে তারা সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ড বা জিরো পয়েন্ট এলাকায় দিনের পর দিন অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। আটকে পড়াদের মধ্যে গর্ভবতী নারী ও শিশুও রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটি আরো দাবি করেছে যে, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে এসব মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। খোলা আকাশের নিচে রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে, যা একটি গুরুতর মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক জিসান নিহত, আহত ৪
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মানুষদের রেখে দেওয়ার পর বিএসএফ তাদের প্রতি দায় স্বীকার করছে না। বাহিনীটির অবস্থান হলো, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলাদেশি হওয়ায় তাদের বিষয়ে বিএসএফের কোনো দায়িত্ব নেই। অন্যদিকে বিজিবির দাবি, এসব মানুষ যে বাংলাদেশের নাগরিক, তার কোনো প্রমাণ নেই; বরং তারা ভারতীয় নাগরিক হতে পারেন। ফলে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে পড়ে অনেকেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
এপিডিআরের মতে, সীমান্তে চলমান এই পরিস্থিতি ভারতের তথাকথিত ‘থ্রি ডি’ নীতির ফল, যা সংবিধানবিরোধী ও বেআইনি। সংগঠনটি বলছে, এ নীতি ভারতের সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ এসব অনুচ্ছেদে দেশের ভেতরে অবস্থানরত প্রত্যেক ব্যক্তির সমঅধিকার এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
এপিডিআরের সহসভাপতি রঞ্জিত শূর অবিলম্বে ‘থ্রি ডি’ নীতি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত সব মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ‘পুশ ব্যাক’ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরো অভিযোগ করেছেন যে, এ ধরনের পদক্ষেপ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ঝুঁকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: বিডিআর বিদ্রোহে চাকরি হারিয়ে প্রবাসে, সৌদিতে খুন হয়ে কফিনে ফিরলেন খোরশেদ আলম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন