মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ):
০২:৫২ এম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ ফরিদপুর ইউনিয়ন শাখা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ফরিদপুর ঐতিহ্যবাহী রহযরত মাওলানা আবু আক্তার উদ্দিন শাহ্ কলন্দর গাউছ পাক (র:) মাজার শরীফ জামে মসজিদের সামনে খোলা আকাশের নিচে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কুলিয়ারচর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কুলিয়ারচর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি রিপন খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মেরাজ মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সভাপতি মো. আনোয়ার পারভেজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার পারভেজ বলেন, "আমাদের পিতারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে এই দেশকে স্বাধীন করেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরি হিসেবে আমাদের ধমনীতেও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার রক্ত প্রবাহিত। এই স্বাধীন ভূখণ্ডে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী যেকোনো দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলব।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের উপজেলা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ভূইয়া ও মো. সোহেল মিয়া এবং সদস্য মো. মিনহাজুর রহমান ও শামীম মিয়া।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ভূইয়া সংগঠনের ভিত্তি মজবুত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, "মুক্তিযোদ্ধাদের হাতকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে কুলিয়ারচরের ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় পূর্ণাঙ্গ শাখা কমিটি গঠন করা হবে। আমাদের এই ঐক্য কেবল কাগজে-কলমে নয়, রাজপথেও থাকবে।"
আলোচনা সভা থেকে সমাজ সংস্কার ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়। বক্তারা শক্ত কণ্ঠে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, "সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সমূল উৎপাটন করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।"
উক্ত মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে ক্ষতিকর কীটনাশকের অপব্যবহার বন্ধের উদ্দেশ্যে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ওই লক্ষ্যে নতুন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে কীটনাশকের ব্যবহারকে আরো বিজ্ঞানভিত্তিক, সীমিত ও পরিবেশবান্ধব করে তোলা সম্ভব হবে। নতুন ওই নীতিমালার মাধ্যমে কীটনাশকের মান নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া চিহ্নিত অতিমাত্রায় ক্ষতিকর কীটনাশকগুলো ধাপে ধাপে নিষিদ্ধ বা কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় গত জুলাইয়ে এই বিষয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটি টেকসই কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে বিদ্যমান বালাইনাশক আইন, বিধিমালা, নিবন্ধন, লাইসেন্সিং, মান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণাগার ও মনিটরিং ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে গাইডলাইন প্রদান করবে। এতে মাটি, পানি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি বালাইনাশকের আমদানি, উৎপাদন ও পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করার দিকনির্দেশনা থাকবে। এদিকে আমদানি করা কীটনাশক কৃষকের কাছে পৌঁছানোর আগে সেটির টেস্টের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।
সূত্র মতে, দেশে চাষাবাদ বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে কীটনাশক ও বালাইনাশকের ব্যবহারও। ফসলের নিবিড় চাষ, উচ্চফলনশীল জাতের বিস্তার এবং সবজি ও ফল উৎপাদন গত এক দশকের মধ্যে দেশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালে দেশে ৩৫ হাজার ৫২৩ টন কীটনাশক ব্যবহার হয়েছিল। আর ২০২৪ সালে দেশে এর পরিমাণ বেড়ে ৪০ হাজার ৮৩২ টনে পৌঁছেছে। দেশের আবাদযোগ্য কৃষিজমির পরিমাণ ৮৮ দশমিক ২৯ লাখ হেক্টর। হিসাব থেকে জানা যায়, হেক্টরপ্রতি ৪ দশমিক ৬২ কেজি কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশব্যাপী কীটনাশকের অবাধ ব্যবহারের ধরন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। একই জমিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, অনুমোদনহীন মিশ্রণ তৈরি, এক সক্রিয় উপাদান বারবার ব্যবহার এবং ফসল কাটার সময়ের আগে স্প্রে করার কারণে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রায়ই বাজারে পাওয়া শাকসবজি ও ফলমূলেও অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ বা রেসিডিউ পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বড় বাধা তৈরি করছে।
সূত্র জানায়, দেশে এখনো অধিকাংশ কৃষকিন কীটনাশক স্প্রে করার পর ফসল তোলার নির্ধারিত অপেক্ষার সময় যথাযথভাবে অনুসরণ করে না। ফলে রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ সরাসরি খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে। তাছাড়া অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে মাটির উপকারী অণুজীব, পরাগায়নকারী মৌমাছি, জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই কীটনাশক দীর্ঘসময় ব্যবহারে পোকামাকড়ের প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে কৃষকদের আরো বেশি মাত্রায় বা আরও শক্তিশালী কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে নতুন নীতিমালায় কৃষক পর্যায়ে ব্যবহারের পাশাপাশি আমদানি, নিবন্ধন, উৎপাদন, বাজারজাত ও বিক্রয় অর্থাৎ পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কোন সক্রিয় উপাদান দেশে নিবন্ধিত হবে, কোনটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বাদ পড়বে এবং কোন ক্ষেত্রে জৈব বা বায়োপেস্টিসাইডকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে, তা নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাছাড়া কৃষকের হাতে পৌঁছানোর আগে আমদানি করা কীটনাশক ল্যাবে পরীক্ষার বিষয়টিও থাকবে।
সূত্র আরো জানায়, অতিরিক্ত কীটনাশকের প্রভাব মানবস্বাস্থ্য, প্রাণীদেহ ও পরিবেশ সব ক্ষেত্রেই পড়ছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে পুকুরের মাধ্যমে মাছের দেহে এবং ঘাসের মাধ্যমে গবাদিপশুর দেহে প্রবেশ করছে। আর সবশেষে তা মানুষের শরীরেও প্রবেশ করছে। এজন্য নীতিমালার মাধ্যমে জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজন অত্যাবশ্যক। সেক্ষেত্রে কৃষকদের প্রশিক্ষণের, বাংলায় স্পষ্ট ব্যবহারবিধি, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের ব্যবহার এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া জরুরি। নতুন নীতিমালায় উচ্চ ঝুঁকির রাসায়নিক ধাপে ধাপে প্রত্যাহার, জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি, ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি এবং নিয়মিত রেসিডিউ মনিটরিং কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের কৃষিপণ্য রফতানির প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও বৃদ্ধি করবে।
এদিকে দীর্ঘসময় ধরে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ধারাবাহিকভাবে অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক প্রত্যাহারের সুপারিশ করে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রফতানি বাজারে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা (এমআরএল) আরও কঠোর হওয়ায় বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রফতানির ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অন্যদিকে এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. খন্দকার শরিফুল ইসলাম জানান, আমদানি করা কীটনাশক কৃষকের কাছে যাওয়ার আগে সেগুলোর ঝুঁকি কতটুকু তা পরীক্ষার বিষয়টি গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। আমদানি করা কীটনাশকের ল্যাব পরীক্ষার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। দেশে এ ধরনের পরীক্ষাগারের সুবিধা সীমিত। তবে প্রবেশপথগুলোয় এক বা দুটি পরীক্ষাগার স্থাপন করা হতে পারে। সেখানেও অল্প সময়ে পরীক্ষা করে কীটনাশকে কোনো ক্ষতিকর উপাদান, ভারী ধাতু বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অন্য কিছু রয়েছে কিনা, তা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি আমদানি করা পণ্যের তথ্যও ভালোভাবে পরীক্ষা করা হবে। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে কৃষকের হাতে পৌঁছানোর আগে সেটির সরবরাহ বন্ধ করা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে দিনদিন খালি কনটেইনারের স্তূপ বড় হচ্ছে।
এতে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং, ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা এবং বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে।
মূলত বন্দরে খালাস হওয়া আমদানীকৃত পণ্যের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ফুল কনটেইনার লোড (এফসিএল) বন্দরের ইয়ার্ডেই আনস্টাফিং করা হয়। তাতে প্রতিদিন খালি কনটেইনার তৈরি হচ্ছে দুই থেকে তিন হাজার। ফলে প্রতিদিনই চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে খালি কনটেইনারের চাপ বাড়ছে। আর ওই সংকট কমিয়ে বন্দর পরিচালনা আরো গতিশীল করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) কাস্টমস বন্ড লাইসেন্স ছাড়াই সুবিধাজনক স্থানে খালি কনটেইনার সংরক্ষণের অনুমতি চাচ্ছে। তবে ওই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান— না আসায় বন্দরের কার্যক্রমে চাপ বাড়ছে।
চবক এবং বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে কাস্টমস বিধিমালা অনুযায়ী বন্ডেড ওয়্যারহাউস বা অফডকের বাইরে অন্য কোথাও খালি কনটেইনার সংরক্ষণ বা স্থানান্তরের সুযোগ নেই। তাতে প্রতিদিন যে পরিমাণ খালি কনটেইনার বন্দর থেকে অফডক বা রপ্তানির জন্য সরানো সম্ভব হয়, তার চেয়ে বেশিসংখ্যক নতুন খালি কনটেইনার ইয়ার্ডে জমা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এমনকি প্রতিবেশী দেশেই শিপিং এজেন্ট ও এমএলওদের (প্রধান লাইন পরিচালনকারী) বন্ড সুবিধাবিহীন স্থানে খালি কনটেইনার সংরক্ষণের সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশে নেই। অথচ ওই সুযোগ থাকলে চট্টগ্রাম বন্দর ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোর (আইসিডি) ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে আসবে।
পাশাপাশি বাড়বে বন্দরের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কমাসহ লজিস্টিক গতিশীলতা। ওই লক্ষ্যে এনবিআরকে দেয়া একাধিক চিঠিতে বন্ড লাইসেন্স ব্যতিরেকে শিপিং এজেন্টদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিরাপদ কোনো উপযুক্ত স্থানে খালি কনটেইনার রাখার অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে চবক।
সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট শুধু বন্দরের অভ্যন্তরীণ সমস্যাই নয় বরং দেশের সাপ্লাই চেইনকেই ফেলছে হুমকির মুখে। কারণ সময়মতো খালি কনটেইনার না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে রপ্তানি পণ্য স্টাফিং।
আর তাতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ফলে কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকের ডেমারেজ খরচ বাড়ছে। সর্বশেষ ওসব অতিরিক্ত ব্যয়ের চূড়ান্ত দায় সাধারণ ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ছে। অথচ এ ব্যাপারে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছে কাস্টমস। ফলে প্রতিনিয়ত বন্দরের লজিস্টিক ব্যয় বাড়ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে বন্দর ও ডিপোর বাইরে খালি কনটেইনারের জটে পরিবহনজট তৈরি হচ্ছে। তাতে কঠিন হয়ে পড়ছে সময়মতো পণ্য জাহাজে পাঠানো। পরিস্থিতি উত্তরণে সাময়িক সমাধান হিসেবে কাস্টমসের তদারকি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বন্ড ছাড়া নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে খালি কনটেইনার রাখার সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। তাছাড়া এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যেতে পারে নতুন গড়ে ওঠা বেসরকারি আইসিডিগুলোও।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ জানান, আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া খালি কনটেইনার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে কমে আসবে শিপিং এজেন্টদের পরিচালনা ব্যয়।
পাশাপাশি বন্দরের ওপর চাপ হ্রাস পাবে এবং খাতটিতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অবকাঠামো তৈরি করে এ থেকে বের হওয়ার জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন, সেই সময় দিতে হবে।
বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশে জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জগুলো এখন স্পষ্ট। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অবকাঠামো তৈরি করে এ থেকে বের হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি জ্বালানি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয় এবং নতুন কূপ খনন করা হয়, তবে জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়বে। কিন্তু এর জন্য দুই বছর সময় প্রয়োজন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের একটি হলরুমে 'আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের' আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক কর্মশালা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, 'বর্তমানে দৈনিক জ্বালানির চাহিদা সরবরাহের চেয়ে দ্বিগুণ।' তিনি বলেন, এই সময় বিশেষ করে বছরের অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি থাকে, যার ফলে সংকটটি আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বিশাল বিনিয়োগ প্রয়োজন। তাই জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এই কারণেই সরকার মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
কৃষি খাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, কৃষিখাতে সাফল্যের জন্য সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কৃষিকাজ থেকে সর্বাধিক রিটার্ন তুলে আনা। এই কৃষির অপার সম্ভাবনাকে সরকার কাজে লাগানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মশালা শেষে সিলেট নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বন বিভাগ আয়োজিত একটি বিভাগীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়ে এসেছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোর, সামিট ও এক্সিলারেট, একসঙ্গে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করায় দেশে ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস সংকট কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আজ শনিবার ভোর থেকে সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে।
এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার ভোর ৪টা থেকে সামিটের টার্মিনাল দৈনিক ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান বলেন, বর্তমানে দুই টার্মিনাল থেকেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। সামিট বর্তমান পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করলেও এক্সিলারেট এখনও আংশিক সক্ষমতায় রয়েছে। স্থানীয় গ্রাহকদের সাময়িক স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেলে দেশে গ্যাস সরবরাহে একটি বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। এর কারণেই বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা দেখা দেয়। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পায়। সেইসঙ্গে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়।
পেট্রোবাংলার সূত্র জানিয়েছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে এবং প্রতিটির মাধ্যমে দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। আগুনে একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অপরটি থেকে ৬ আগস্ট আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়ে গেছে। যদিও শুক্রবার বিকেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ সাময়িক বন্ধ থাকলেও, ত্রুটি মেরামতের পর পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
তবে এখনও ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি সচল হয়নি। এটি চালুর জন্য আগের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টার্মিনালের সরবরাহ প্রায় ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে। কখন এই পরীক্ষা করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এখনও নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ হয়নি। এর ফলে এক্সিলারেটের পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
এদিকে এলএনজি সংকটের কারণে গত কয়েক দিন সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। সোমবার সরবরাহ কমানো হয় এবং মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত দৈনিক মাত্র ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
শুক্রবার বঙ্গোপসাগরে ভিটলের একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ পৌঁছানোর পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়। এর আগে, টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি থেকে সন্ধ্যা ৬টা থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। শুরুতে সরবরাহ ছিল সাড়ে ৯ কোটি ঘনফুটের মতো, যা ভোররাতে বেড়ে ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। প্রয়োজনে আরও ৭ থেকে ৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে, সৌদি আরামকোর পাঠানো একটি এলএনজি জাহাজ বঙ্গোপসাগর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। টার্মিনালের সঙ্গে জাহাজটির এলএনজি স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য না থাকায়, সেটি থেকে গ্যাস নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়েছিল। পরে বৈরী আবহাওয়ার কারণেও ওই জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হয়নি। জাহাজটি ফেরত পাঠানোর পরে এর পরিবর্তে আরেকটি জাহাজ পাঠানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। প্রায় ৩০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা গেলে, অধিকাংশ খাতে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। স্বাভাবিক সময়ে রেশনিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।
শুক্রবার বিকেলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে গিয়েছিল প্রায় ১৭৩ কোটি ঘনফুটে, যা শনিবার বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে। তবে, স্বাভাবিক সরবরাহের তুলনায় দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। এক্সিলারেটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে, এই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ