ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ইসরায়েলি ধর্মপ্রচারকের ‘ভারতীয়রা গোমূত্র চেটে খায়’ মন্তব্যে ক্ষোভ


ইসরায়েলি ধর্মপ্রচারকের ‘ভারতীয়রা গোমূত্র চেটে খায়’ মন্তব্যে ক্ষোভ

গরুর প্রতি হিন্দুদের ধর্মীয় শ্রদ্ধা নিয়ে বিদ্রূপ করে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি করেছেন ইসরায়েলি-আমেরিকান ধর্মপ্রচারক ইয়োসেফ মিজরাহি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তার বিদ্রূপের কারণে ভারতীয় বিভিন্ন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ইয়োসেফ মিজরাহি হিন্দুদের গোমূত্র পান এবং চিকিৎসায় এর ব্যবহার নিয়ে উপহাস করছেন। এছাড়া, নয়াদিল্লির রাস্তায় গরুর কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়া নিয়েও তিনি বিদ্রূপ করেন।

মিজরাহির এমন মন্তব্যের পর তাকে ‘বর্ণবাদী’ বলে অভিহিত করেছেন অনেক ভারতীয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন যে, তিনি হিন্দুদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে অপমান করেছেন। মিজরাহি বলেন, “আপনারা কি সেই ভারতীয়দের কথা জানেন যারা গরুর পূজা করে? অর্থাৎ হিন্দুরা। তারা মেঝে থেকে গরুর মূত্র চেটে খায়। আর মজার ব্যাপার হলো, তাদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আবার চিকিৎসকও।” এরপর তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যে, তিনি তাকে ভারতীয়দের মতো বানাননি।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনে কলকাতার হাসপাতাল ও পর্যটন ব্যবসায় ধস

ইন্ডিয়া টুডে জানাচ্ছে, দুই হাজার বছরের বেশি সময় ধরে ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষ ভারতে বসবাস করছেন এবং ইহুদিবিদ্বেষের মুখে পড়েননি—এমন দেশগুলোর মধ্যে ভারত অন্যতম। গত তিন দশকে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সন্ত্রাসবাদ দমন, সাইবার নিরাপত্তা, কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ সহযোগিতা করছে। চলতি বছরের শুরুতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করেছে তারা।

দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে একজন ইহুদি ধর্মপ্রচারকের এই ধরনের বিদ্রূপকে ভারতীয়রা ভালোভাবে গ্রহণ করছেন না। মিজরাহির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় একজন ভারতীয় তার মন্তব্যকে ‘অশালীন ও বর্ণবাদী বিভ্রম’ বলে অভিহিত করেছেন। আরেকজন তাকে ‘বর্ণবাদী সাইকোপ্যাথ বা বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তি’ আখ্যা দিয়েছেন।

ভিডিওটির শুরুতে মিজরাহি একজন ভারতীয় ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যিনি একসময় তার ফেসবুক পেজে কাজ করতেন এবং ইহুদি ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “তিনি ভারতে তার বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন, যারা গরুর সামনে মাথা নত করত (পূজা করত)।”

তিনি আরও বলেন, “তারা গরুটিকে বাড়ির বসার ঘরে নিয়ে আসত। আর গরু যখন মেঝেতে কিছু মূত্র বা তরল ফেলে দিত, তখন তারা তা চেটে খেত। ভারতীয়রা ফার্মেসি থেকেও গরুর মূত্র কিনে থাকে।”

আরও পড়ুন: ভারত বাংলাদেশে শ্রমিক বিক্ষোভের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে

ভারতীয় চিকিৎসকদের এমন আচার-অনুষ্ঠান পালনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি উপহাস করে বলেন, “পরের বার যখন আপনি নয়াদিল্লির কোনো হাসপাতালে যাবেন, তখন সেখানকার ডাক্তার আপনার কাছে এসে হয়তো বলবেন ‘গুড মর্নিং’। ” এরপর তিনি ইঙ্গিত দেন, ওই ডাক্তার হয়তো আগের রাতে গরুর মূত্র পান করেছিলেন।

মিজরাহি ওই সময় সুজি নামে একটি গরুর বিষয়েও রসিকতা করেন, যেটি রাস্তার মাঝখানে বসে ছিল। এর ফলে পথচারীরা আটকা পড়েন, কিন্তু তারা গরুটিকে সরানোর সাহস পাননি।

সবশেষে, ইহুদি ধর্মপ্রচারক বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে হাসছি, ঠিক আছে; তবে আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ যে, তিনি আমাদেরকে তাদের মতো করেননি।

আরও পড়ুন: দিল্লি বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ পর্যবেক্ষণ করছে: জয়সওয়াল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকারের রাজনৈতিক মাশুল দিতে হবে: শেখ খায়রুল কবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ পি.এম


গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকারের রাজনৈতিক মাশুল দিতে হবে: শেখ খায়রুল কবির

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক শেখ খায়রুল কবির মন্তব্য করেছেন যে, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকারকে রাজনৈতিক মাশুল দিতে হবে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি গণভোটের রায়, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি এবং সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তি নিয়ে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেন।

শেখ খায়রুল কবির বলেন, রাজনৈতিক অনীহা, সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তি এক বিষয় নয়। এগুলোকে একসাথে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিটি বিষয় আলাদা আলাদা আইনি ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দাবি করে।

রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতির প্রসঙ্গে তিনি ল্যাটিন ভাষার বিখ্যাত প্রবাদ ঝধষঁং চড়ঢ়ঁষর ঝঁঢ়ৎবসধ খবী উল্লেখ করেন। এর অর্থ জনগণের কল্যাণই সর্বোচ্চ আইন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় সংকট কিংবা সাংবিধানিক জটিলতার ক্ষেত্রেও জনস্বার্থ, আইনের শাসন ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অপরিহার্য।

সম্প্রতি সংসদে সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা সবকিছু মেনে নিয়েছিলাম নির্বাচনটার জন্য।’ নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে কী কী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল এবং সেই সমঝোতার সঙ্গে গণভোটের রায় ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতির সম্পর্ক কী, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ খায়রুল কবির প্রশ্ন তোলেন, যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কারের প্রতিশ্রুতি এবং গণভোটের রায় পাশ কাটানো হয়, তাহলে সেই নির্বাচনের গণতান্ত্রিক তাৎপর্য কোথায়? গণভোটকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর সঙ্গে জনগণের মতামত, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের বৈধতা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রশ্ন জড়িত।

গণভোট আয়োজনের পেছনে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি মানুষের প্রত্যাশা ও অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানা কিংবা রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী ব্যাখ্যা দাঁড় করানো জনগণের আস্থার সঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ।

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে শেখ খায়রুল কবির বলেন, জনগণ শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের জন্য আত্মত্যাগ করেনি। তাদের প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন, ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

তাঁর মতে, রাজনীতির পুরোনো বন্দোবস্তের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও ক্ষমতা পরিচালনার মানসিকতা অপরিবর্তিত থেকে যাওয়া। একসময় যে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানুষ আন্দোলন করেছে, সেই ব্যবস্থার সুবিধাভোগী হওয়ার সুযোগ তৈরি হলে সংস্কারের অঙ্গীকার কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

গণতন্ত্রের পূর্ণতা কেবল নির্বাচন আয়োজন কিংবা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা, নির্বাচনী অঙ্গীকার রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ।

শেখ খায়রুল কবিরের বক্তব্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নটি কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কার, সাংবিধানিক শাসন ও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাঁর মতে, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে অস্পষ্টতা কিংবা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে সরকারের রাজনৈতিক দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুবলং চ্যানেল সাঁতারে বগুড়ার চার সাঁতারুর বাজিমাত, প্রথমসহ চারটি স্থানই নিজেদের দখলে নিলেন তারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ পি.এম


সুবলং চ্যানেল সাঁতারে বগুড়ার চার সাঁতারুর বাজিমাত, প্রথমসহ চারটি স্থানই নিজেদের দখলে নিলেন তারা

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের সুবলং চ্যানেলে ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সাঁতার প্রতিযোগিতায় বগুড়া জেলার চার সাঁতারু অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ২৭ প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাঁরা প্রথম স্থান, দুটি তৃতীয় স্থান এবং চতুর্থ স্থানসহ চারটি অবস্থান নিজেদের দখলে নিয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) জেলা প্রশাসন এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বগুড়ার হয়ে অংশগ্রহণ করেন রাব্বি, মেহেদী, নয়ন ও আব্দুল্লাহসহ আরও অনেকে।

প্রতিযোগিতায় রাব্বি রহমান প্রথম স্থান অধিকার করেন। মেহেদী হাসান দ্বিতীয়, নয়ন ইসলাম তৃতীয় এবং আব্দুল্লাহ আল মাহি চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। চার সাঁতারুর এই সম্মিলিত সাফল্যে বগুড়া জেলা প্রতিযোগিতায় বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসে। ৫ম স্থান অধিকার করেন রাঙামাটির সন্তান মোঃ হাফিজুর রহমান।

সকাল ৮টায় বরকল উপজেলার সুবলং বাজারসংলগ্ন ঘাট থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। পাহাড়ঘেরা কাপ্তাই হ্রদের ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দিয়ে দুপুর ১২টায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বোটঘাটে পৌঁছানোর মাধ্যমে প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে।

প্রতিযোগিতা শেষে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে রাঙামাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইকরামুল রাহাত, পিএসসি; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঁইয়া, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌং, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমানসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, "সাঁতার নিয়ে মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ভীতি দূর করা এবং সাঁতারকে জনপ্রিয় করে তোলাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।" তিনি আরও জানান, "এছাড়া পর্যটন শহর রাঙামাটির অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সুবলং চ্যানেলকে দেশব্যাপী পরিচিত করা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান সাঁতারুদের খুঁজে বের করে তাঁদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাও এ প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য।"

তিনি উল্লেখ করেন, "এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে সাঁতারে নতুন প্রতিভা তৈরি হবে এবং রাঙামাটি ক্রীড়া ও পর্যটনের নতুন পরিচিতি পাবে।"

পাহাড়ের নীল জলরাশি আর প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মাঝে ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটারের দীর্ঘ সাঁতার ছিল প্রতিযোগীদের শারীরিক সক্ষমতা, ধৈর্য ও মনোবলের কঠিন পরীক্ষা। দেশের বিভিন্ন জেলার সাঁতারুদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন যেমন নতুন প্রতিভার সন্ধান দিয়েছে, তেমনি রাঙামাটির ক্রীড়া ও পর্যটন সম্ভাবনাকেও তুলে ধরেছে নতুন মাত্রায়।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে নগদ অর্থ, মেডেল ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশ কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতাকে হত্যা: ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ পি.এম


পুলিশ কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতাকে হত্যা: ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

পিরোজপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মো. মাজহারুল ইসলাম (২৫) নামে এক ট্রাকচালককে, যিনি বিএনপি নেতা ও এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। এই গ্রেপ্তারটি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৮ বরিশাল কর্তৃক করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৯টায় এসআরবি-৮ (বরিশাল) এর মিডিয়া অফিসার সহকারি পুলিশ সুপার সাথী আক্তার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এসআরবি জানায়, গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানাধীন চারাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবি জানিয়েছে, গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানায় বেপরোয়া গতির একটি ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশের উপ-পরিদর্শকসহ স্থানীয় এক বিএনপি নেতা নিহত ও ২ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন।

এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ঘাতক ট্রাক চালক মো. মাজহারুল ইসলামকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করেন এসআরবি -৮, সিপিএসসি, বরিশাল এবং এসআরবি-১, সিপিসি-৩, গাজীপুর এর যৌথ আভিযানিক দল।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার এস আই (নিরস্ত্র) মো. মিজানুর রহমান, পিএসআই (নিরস্ত্র) জাবেদ ওমর, কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন ও কনস্টেবল ফজলে রাব্বি রাত্রিকালীন ডিউটি পালনকালে ৩ আসামিসহ থানায় ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের মেইন গেটের পশ্চিম পাশে টঙ্গী-ঘোড়াশাল মহাসড়কে চোর সন্দেহে ২ ব্যক্তিকে তল্লাশিকালে কালীগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মোল্লা (৪৫) ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় আনুমানিক ৩টা ৩৫ মিনিটে টঙ্গী থেকে ঘোড়াশালগামী দ্রুত ও বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পুলিশ দল ও বিএনপি নেতাকে সজোরে ধাক্কা দিলে পিএসআই জাবেদ ওমর ও কনস্টেবল ফজলে রাব্বি গুরুতর আহত হন।

পরে ট্রাক চালক বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মোল্লার ওপর দিয়ে ট্রাক চালিয়ে দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এস আই মো. মিজানুর রহমান ট্রাকটি আটকানোর চেষ্টা করলে চালক গতি বাড়িয়ে তাকে ট্রাকের সামনে ঝুলন্ত অবস্থায় প্রায় ৫শ’ গজ সামনে টেনে নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার আনুমানিক সকাল ৬টা ৪৭ মিনিটে এস আই মো. মিজানুর রহমানও মারা যান।

এ ঘটনায় কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. মাজহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে এসআরবি-১, সিপিসি-৩ এবং এসআরবি-৮, সিপিএসসি, বরিশাল-এর যৌথ আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে এবং অবশেষে ঘাতক ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তার চালকের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিজয় তোরণ নির্মাণে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি নিয়ে মার্কিন বিচারকের আপত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিজয় তোরণ নির্মাণে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি নিয়ে মার্কিন বিচারকের আপত্তি

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পিত বিশাল বিজয় তোরণ নির্মাণের পক্ষে সরকারের দেওয়া ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির এক ফেডারেল বিচারক।

শুক্রবারের শুনানির সময় জেলা আদালতের বিচারক তানিয়া চুটকান সরকারের আইনজীবীদের কাছে জানতে চান, এই তোরণ নির্মাণের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি কীভাবে যুক্ত।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্পটির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার সময় সরকার পূর্বে কখনো জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আনেনি। এবারই প্রথম এ ধরনের যুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে ২৫০ ফুট (৭৬ মিটার) উচ্চতার একটি বিশাল সাদা রঙের বিজয় তোরণ নির্মাণ করা হবে। এটি ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত বিখ্যাত ‘আর্ক দ্য ট্রায়ম্ফ’-এর আদলে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রথমবার প্রকল্পটির ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার কোনো বিষয় উল্লেখ করেননি। তবে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, তোরণটিতে অত্যাধুনিক সামরিক স্থাপনা থাকবে। সেখানে ড্রোন ও স্নাইপার সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে।

শুনানিতে বিচারক চুটকান বলেন, হোয়াইট হাউসে একটি বিশাল বলরুম নির্মাণের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার সময়ও ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করেছিল। তবে শুধুমাত্র জাতীয় নিরাপত্তার কথা বললেই কোনো প্রকল্পের পক্ষে সেই যুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না।

এ সময় মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবী রবার্ট স্ট্যান্ডার বলেন, তোরণ নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমান প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।

প্রস্তাবিত তোরণ নির্মাণ বন্ধের দাবিতে আদালতে মামলা করেছে ভিয়েতনাম যুদ্ধের একদল সাবেক মার্কিন সেনাসদস্য। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মামলাকারীদের আইনজীবী ওয়েন্ডি লিউ আদালতে বলেন, তোরণটি আকারে এতটাই বিশাল হবে যে এটি লিংকন মেমোরিয়াল ও আর্লিংটন ন্যাশনাল সিমেট্রির মধ্যকার দৃশ্যমান সংযোগ আড়াল করে দিতে পারে। লিংকন মেমোরিয়াল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। অন্যদিকে আর্লিংটন ন্যাশনাল সিমেট্রিতে সমাহিত রয়েছেন দেশটির কয়েক লাখ সামরিক বাহিনীর সদস্য।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে নিজের ব্যক্তিগত ছাপ রাখতে ট্রাম্প বেশ কয়েকটি বড় উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। প্রস্তাবিত বিজয় তোরণ তারই একটি।

এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে হোয়াইট হাউসে বিশাল বলরুম নির্মাণ। এ জন্য প্রেসিডেন্টের বাসভবনের একটি সম্পূর্ণ অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে।

এ ছাড়া ন্যাশনাল মলের বিশাল জলাধার ‘রিফ্লেক্টিং পুল’ সংস্কারের কাজও চলছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংস্কার প্রকল্পের মাধ্যমে জলাধারটির ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

ট্রাম্প ঐতিহাসিক ওয়াটারফ্রন্ট গলফ কোর্স ‘ইস্ট পোটোম্যাক গলফ লিংকস’-এর আধুনিকায়নের প্রস্তাবও দিয়েছেন। তবে এ প্রকল্প নিয়েও আইনি বিরোধ চলছে। শুক্রবার এ মামলার দায়িত্বে থাকা বিচারক তদন্ত শুরু করেছেন। প্রশাসনের আইনজীবীরা আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

এদিকে, প্রয়াত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির নামে প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক ও শিল্পকলা কেন্দ্র ‘কেনেডি সেন্টার’-এর দেয়ালে একসময় ট্রাম্পের নাম যুক্ত করা হয়েছিল। তবে আদালতের নির্দেশে পরে সেই নাম সরিয়ে ফেলা হয়।

প্রস্তাবিত বিজয় তোরণ নির্মাণ বন্ধে করা মামলার বিষয়ে বিচারক চুটকান শুক্রবারই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, দ্রুত এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%