১০:৪০ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, "আমরা এই সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না।" তিনি আরও বলেন, "কারণ, জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে শুধু সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"
রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের জ্বালানি সংকট ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত কার্যকর সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার যোগ করেন, "কার্যকর ও স্বচ্ছ উদ্যোগ নিলে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত সহযোগিতা করবে।" ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলগুলোর কাছে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা চেয়েছেন বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন জোরদারে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি
তবে তিনি উল্লেখ করেন, ২১ মে জাতীয় সংসদের জ্বালানি সংকটসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা লিখিতভাবে ১০ দফা সুপারিশ দিয়েছিলেন এবং ৭ জুন সেই প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে কূপে ওয়ার্কওভার, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস জাতীয় ব্যবস্থায় যুক্ত করা, স্থল ও সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান জোরদার, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং চালু, জ্বালানি সরবরাহে ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ এবং রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
তিনি প্রশ্ন করেন, "যখন পরিকল্পনা ২১ মে থেকেই সরকারের কাছে আছে, তাহলে গত প্রায় তিন মাসে সেই পরিকল্পনার কোনটি বাস্তবায়িত হয়েছে?"
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ নির্মাণের বিরোধিতা করছে না। তবে শুধুমাত্র নতুন টার্মিনাল নির্মাণ করলেই জ্বালানি সংকটের সমাধান হবে না বলেও তিনি জানান। এলএনজি আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা, গ্যাস পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত পাইপলাইন এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সহযোগিতায় ক্যান্সারের লড়াইয়ে জয়ী শিশু নিশা
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা সরকারি ভর্তুকির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় ৯০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান ছয়টি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত ফলদায়ক গ্যাসকূপে ওয়ার্কওভার, বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের তালিকা প্রকাশ, ভোলার গ্যাস অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় ব্যবহার, সিস্টেম লস ও অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, গ্যাস বণ্টনের প্রকাশ্য সময়সূচি এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ দ্রুত কার্যকর করা।
তিনি বলেন, "তিন মাসে সমুদ্রের নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের ফল বা বড় পাইপলাইন নির্মাণ সম্ভব নয়। তবে দ্রুত ফলদায়ক কূপে কাজ শুরুসহ কিছু পদক্ষেপ ৯০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান করা সম্ভব।"
অ্যাওনে জাতীয় জরুরি জ্বালানি সেল গঠন, জরুরি ওয়ার্কওভার ও সংস্কারকাজে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর একক তদারকির প্রস্তাব দেন তিনি।
আরও পড়ুন: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আরো এক কয়েদির মৃত্যু
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী ও স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা করা উচিত।" ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ারও প্রস্তাব বিদ্যমান। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন