০৬:১০ পি.এম
পূর্ব জার্মানির স্যাক্সনি অঙ্গরাজ্যে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের পদত্যাগ ও আগাম নির্বাচনের দাবিতে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৮ আগস্ট) প্লাউয়েন শহরে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন আন্দোলনকারীরা।
দেশব্যাপী ‘ইউনিটি ফর জার্মানি অথবা প্রজেক্ট মিলিয়ন’ উদ্যোগের ব্যানারে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। ‘আরটি’ (RT)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যাক্সনি পুলিশের হিসাবমতে এই সমাবেশে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ডানপন্থী ‘ফ্রি স্যাক্সনস’ দলের কর্মীরাও ছিলেন, যারা এই সমাবেশকে সমর্থন জানিয়েছেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই আঁতাত সরকারকে অবশ্যই বিদায় নিতে হবে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ভারী পুলিশি উপস্থিতির মধ্যে বিক্ষোভকারীরা শহরের সড়কে মিছিল করছেন। তারা স্লোগান দিচ্ছেন এবং জার্মানির পতাকার পাশাপাশি ‘মার্জকে বিদায় নিতেই হবে’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করছেন।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ ৩৩ জন নিহত
একজন বিক্ষোভকারী মন্তব্য করেছেন, মার্জ তার পূর্বসূরিদের চেয়েও পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলেছেন। আর তিনি যদি এভাবেই চলতে থাকেন, তবে শিগগিরই জার্মানি অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। সমাবেশে আন্দোলনকারীরা ১১ দফা দাবি পেশ করেছেন।
এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে আগাম নির্বাচন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কমানো, সারাদেশে ২৯ ইউরোর গণপরিবহন টিকিট এবং স্বাস্থ্যসেবা নীতিতে পরিবর্তন। এছাড়া তারা নিজস্ব কঠোর অভিবাসন নীতির দাবি জানান এবং মার্জের সামরিক ব্যয়ের সমালোচনা করেন। চ্যান্সেলর সম্প্রতি রাশিয়ার কথিত হুমকির কথা উল্লেখ করে ‘বুন্ডেসওয়েহর’ (জার্মান সেনাবাহিনী)-কে “ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রথাগত সেনাবাহিনী”তে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই ধারণাটিকে মস্কো বারবার উপহাস করেছে। বার্লিন ২০২৯ সালের মধ্যে মূল প্রতিরক্ষা ব্যয়কে জিডিপির ৩.৫ শতাংশে উন্নীত করতেও সম্মত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে অস্ত্রসজ্জা বা সামরিকীকরণের পেছনেই ক্রমাগত বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। চ্যান্সেলরকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। নতুন নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন যাতে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।
অর্থনৈতিক স্থবিরতা, অভ্যন্তরীণ সংস্কারের কার্যক্রম থমকে যাওয়া এবং ক্ষমতাসীন জোটের ভেতরে মতপার্থক্যের কারণে মার্জের জনপ্রিয়তা বা জনসমর্থন দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: হরমুজে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে সংঘাতের আশঙ্কা
‘ইনফ্রাটেস্ট ডিম্যাপ’-এর জুলাই মাসের ‘এআরডি-ডয়েচল্যান্ডট্রেন্ড’ জরিপে দেখা গেছে, ৮৪ শতাংশ জার্মান নাগরিক মার্জ এবং তার মধ্য-ডানপন্থী জোট ‘ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন’ ও ‘ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়ন’-এর কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট। তার জনসমর্থনের হার ছিল মাত্র ১৩ শতাংশ। যা ১৯৯৭ সালে এই জরিপ শুরু হওয়ার পর থেকে কোনো জার্মান চ্যান্সেলরের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন।
এদিকে জাতীয় জরিপগুলোতে ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’-র জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে; কোনো কোনো জরিপে দলটিকে মার্জের জোটের সমপর্যায়ে বা তার চেয়েও এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। চলতি গ্রীষ্মের শুরুর দিকে ক্ষমতাসীন জোট ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে তথাকথিত ‘ব্যাপক সংস্কার’-এর একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল; এর মধ্যে ছিল নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সামান্য কর হ্রাস, পেনশন ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং অসুস্থতাজনিত ছুটির ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মকানুন।
জনগণের ক্রমশ অসন্তোষের মুখে মার্জের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তার নিজের দলেই আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। ‘পলিটিকো' (Politico) এই সপ্তাহে জানিয়েছে, জুন মাসে সরকারের রদবদল নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর শরৎকালে ‘কানজলারটাউশ’ বা ‘চ্যান্সেলর পরিবর্তনের’ বিষয়টি নিয়ে এখন প্রকাশ্যে আলোচনা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পোল্যান্ডের ক্রাকোর প্রধান চত্বরে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬, আহত ১৭
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন