০৬:১৭ পি.এম
লবণ চাষিদের কষ্ট লাঘবের জন্য শিগগিরই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হবে, এমন ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, লবণ চাষিদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি জানান, শিগগিরই লবণ চাষিদের কষ্ট লাঘবে নতুন মূল্য নির্ধারণ করবে সরকার।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ঐতিহাসিক দিন: দুলু
তারেক রহমান বলেন, "একটি কথা এসেছে যে লবণের মূল্য নির্ধারণ করবে। আলোচনা করে ইনশাআল্লাহ লবণের মূল্য চূড়ান্ত করেছি। যাতে লবণ চাষী ভাইরা স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হবেন। আস্তে আস্তে, ইনশাআল্লাহ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমরা সেই দামটি সবাইকে জানিয়ে দেব। ফলে লবণ চাষি ভাইদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।"
এসময় তিনি সমুদ্র উপকূলে কল-কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সমুদ্র হলো জনগণের বড় সম্পদ। এই সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায় কল-কারখানা স্থাপন করে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করা হবে। এতে বেকার সমস্যার সমাধান হবে।"
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, "দেশের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাই সরকারের দায়িত্ব। চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।"
তারেক রহমান বলেন, "বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যে সমস্যাগুলি রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে কিছুটা সময় লাগবে। বিগত স্বৈরাচার আমলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের মানুষের স্বার্থে ছিল না। এখন সেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা ইতোমধ্যে সেই কাজে হাত দিয়েছি।"
আরও পড়ুন: ‘জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব অনুসরণ করেই বাংলাদেশ পুনর্গঠন করতে হবে’
তিনি বলেন, "আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কিভাবে পরিচালিত হবে, সেই প্রস্তাবনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপনের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে।"
জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিগত কিছুদিন ধরে গুটিকয়েক মানুষ এই বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। কারোর কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা ও জনগণের শান্তি নষ্ট করা যাবে না।"
এরপর তিনি বলেন, "যারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। বিভ্রান্তকারীরা যাতে কোনো সুযোগ না পায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। দেশে ঝগড়া-ফ্যাসাদ চলবে, নাকি দেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে—এ বিষয়ে দেশের জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।"
তারেক রহমান বলেন, "পেছনে পড়ে থাকার সুযোগ নেই। এখন সময় দেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করার। দেশের মানুষ বিভ্রান্ত না হয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে—এটাই প্রত্যাশা।
আরও পড়ুন: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানে সার্বভৌমত্ব রক্ষিত হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন