১২:১৯ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিপন্ন লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান।
তিনি বলেছেন, 'এখন সময় এসেছে জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিকে কাজে এবং অঙ্গীকারকে ফলাফলে পরিণত করার, যেন বিশ্ব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎকে আলিঙ্গন করতে পারে।'
প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, 'আমরা আশা করি, কপ-৩১ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে এবং বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।'
আরও পড়ুন: সচিবালয় স্থানান্তরে নতুন জটিলতার শঙ্কা
মঙ্গলবার দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ১৭তম ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এ 'শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ' শীর্ষক এক অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, 'বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়, আমরা এটিকে সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিনিয়োগ হিসেবে দেখি।'
তিনি আরও বলেন, 'কোনো দেশ একা জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকার।'
প্রধানমন্ত্রী কপ-৩১ এবং কপ-৩২ এর দিকে তাকিয়ে তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিতে চান। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও অনুমানযোগ্য সহায়তাসহ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনতে হবে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান, দেশে আলাদা অ্যান্ডোক্রাইন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে হবে
দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরো সহজলভ্য হতে হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও ত্বরান্বিত হওয়া উচিত।
তৃতীয়ত, প্রশমনের পাশাপাশি অভিযোজনও অপরিহার্য। বাংলাদেশের জন্য অভিযোজন কোনো নীতিগত বিকল্প নয়, এটি একটি অপরিহার্য বিষয়।
ইউএনসিটিএডি’র মতে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা (এনসিকিউজি) উন্নয়নশীল দেশের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অপর্যাপ্ত।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমরা আজ এখানে শুধু জলবায়ু সংকটে একটি সম্মুখসারির রাষ্ট্র হিসেবেই নয়, বরং বৈশ্বিক সমাধানে আগ্রহী একটি জাতি হিসেবেও সমবেত হয়েছি।'
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর তুরস্ক সফরে গুরুত্ব পাবে জলবায়ু ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়
বাংলাদেশ সরকার একটি অগ্রণী জলবায়ু-সহনশীল জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ প্রবৃদ্ধি এখন আমাদের জাতি গঠন কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে।
জলবায়ু সংক্রান্ত বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, আসন্ন ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া প্রধান নদীর উপর পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছি।'
আরও পড়ুন: সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
বাংলাদেশ সরকার বন, জলাভূমি এবং উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষার অঙ্গীকার নিয়েছে এবং নবায়নযোগ্য শক্তিতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী জানায়, 'আমরা সবুজ উৎপাদন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছি।'
তিনি বিশ্বনেতৃবৃন্দকে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'কপ-৩১ এর উচিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কাঠামো কনভেনশন এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য পুনঃনিশ্চিত করা।'
আরও পড়ুন: উন্নত দেশ গঠনে কাজ করছে বর্তমান সরকার : গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন