১২:২৬ পি.এম
মার্কিন ধনকুবের ও মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেছেন, তিনি যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের সময়ে কোনো অপরাধ প্রত্যক্ষ করেননি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের পাশে থাকতে পারেন। এ তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন থেকে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নজরদারি কমিটির কাছে দেওয়া গোপন জিজ্ঞাসাবাদের নথি প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে গেটস দাবি করছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল শুধুমাত্র পেশাগত। তিনি জানিয়েছেন, তিনি কেউ যৌন হয়রানি বা অপরাধে অংশ নেননি এবং এ ধরনের কোনো ঘটনা দেখেননি।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে মেধাবীদের প্রতিশোধ: বিজ্ঞানের জয়, মাহা নীতির হার
তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এপস্টেইনের কিছু কর্মীও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। ফলে গেটস কখনো তাদের আশপাশে ছিলেন না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন।
গেটস এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে বলেন, বিষয়টি যৌক্তিক। তিনি স্বীকার করেছেন, এপস্টেইনের একটি বিমানে এক বৈঠকের শেষে কিছু নারী কর্মীকে দেখেছিলেন। কিন্তু তারা ভুক্তভোগী ছিলেন কি না, তা তিনি জানতেন না।
তিনি জানান, ২০১১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতে অর্থ সংগ্রহের আগ্রহ দেখানোর মাধ্যমে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচিত হন। তখন তিনি জানতেন, এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের সাজা ছিল। তবুও, সম্ভাব্য জনকল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতা করার আশায় তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
পরে গেটস এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এপস্টেইনের অতীত সম্পর্কে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ পাঠাগার আন্দোলনের আত্মপ্রকাশ, নতুন কমিটি গঠন
জিজ্ঞাসাবাদে গেটস আরও জানান, ২০১৪ সালে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয় ব্যবহার করে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে খরচ ফেরত চেয়েও বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তবে গেটস জানান, তিনি কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি।
এদিকে, এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহকারী লেসলি গ্রফও কংগ্রেসে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি এপস্টেইনকে ‘অত্যন্ত কৌশলী মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন, তার অপরাধ সম্পর্কে তিনি জানতেন না।
গ্রফ জানিয়েছেন, এপস্টেইনের বিভিন্ন বৈঠক ও ম্যাসাজের সময়সূচি তিনি পরিচালনা করতেন, তবে এসব কার্যক্রমের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না।
এপস্টেইনের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে বিল গেটস ও গ্রফের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর ১৯৭৫, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন