০১:২৪ পি.এম
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম নিয়ে অভিযোগকারীদের মধ্যে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে অনশন ধর্মঘটে বসা অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে তার ধর্মঘটস্থল থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এরপর তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে অনশনের ২০তম দিনে ধর্মঘটস্থলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওয়াংচুককে ধরে হাসপাতালে নিয়ে যায় বলে খবর পাওয়া যায়। এনডিটিভির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অনশনের ২০তম দিনে, শনিবার সকালে, ধর্মঘটস্থলে পুলিশ ওয়াংচুককে ধরে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে বিজিএমইএ
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করছে জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), যা এনইইটি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে চলছে। এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে সোনম ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন।
দিল্লি পুলিশের একজন উপকমিশনার জানিয়েছেন যে, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার চেষ্টা চলাকালীন বিক্ষোভকারীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে সামান্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেই সময় পুলিশ যন্তরমন্তরে আন্দোলনরতদের শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগের আহ্বান জানায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শনিবার সকালে যন্তরমন্তরে ওয়াংচুকের সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। এ সময়, পুলিশ তাকে দ্রুত সাদা চাদর দিয়ে মঞ্চ থেকে সরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়।
আরও পড়ুন: ঢাকা মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পে কোরিয়ার অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ
এর আগে বৃহস্পতিবার দিল্লির একটি আদালত সরকারি চিকিৎসকদের ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য প্রতিদিন পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেয়। আদালত বলেছে, ‘যেকোনো নাগরিকের জীবনই মূল্যবান।’
আইনজীবী ও সমাজকর্মী রাকেশ কুমার সাইনি আদালতে করা এক আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, অনশন না ভাঙলে ওয়াংচুকের প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিতে হবে।
পুলিশ তাকে হাসপাতাল নেওয়ার কিছু ঘণ্টা আগে ওয়াংচুক বলেন, ‘ভারতে এর চেয়েও ছোট ছোট আন্দোলন বহু সরকারকে নতজানু করেছে। আর এখানে বিষয়টি শিক্ষা নিয়ে।’
গত মাসে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নির্ধারিত পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীকে মেডিকেলে ভর্তির পরীক্ষা পুনরায় দিতে হয়। এই অবস্থা এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা মূল্যায়ন-সংক্রান্ত আরেকটি বিতর্ক দেশজুড়ে ক্ষোভ ও তরুণদের আন্দোলনকে উসকে দেয়।
আরও পড়ুন: জানাজা থেকে ফেরার পথে গ্রেপ্তার ইউপি চেয়ারম্যান, অসন্তোষ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনে সমর্থন জানান ওয়াংচুক। ভারতের বিরোধী দলের কয়েকজন নেতা ওয়াংচুক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। ওয়াংচুক, যিনি একজন প্রকৌশলী, হিমালয় অঞ্চলে পানি সংরক্ষণে উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পরিচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন