০৩:২৫ পি.এম
দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যালট পেপার সংকটে স্থানীয় নির্বাচন ব্যাহত হওয়ায় রোববার ভোররাত পর্যন্ত হাজার হাজার নাগরিক পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে।
সংবাদ মাধ্যম এএফপি'র প্রতিবেদনে জানা গেছে। গত বুধবারের নির্বাচনের আয়োজন হয়েছিল প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দায়িত্ব গ্রহণের পর এর প্রথম জাতীয় ভোট হিসেবে। তিনি ২০২৪ সালের শেষের দিকে সংক্ষিপ্ত সামরিক শাসন জারির কারণে রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন।
নির্বাচনে মেয়র, স্থানীয় সরকার ও সংসদ সদস্য পদে অধিকাংশ আসনে জয় লাভ করেছে লি’র ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। তবে, তারা গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী সিউলের মেয়র পদটি দখল করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আরও পড়ুন: শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনের অর্থনীতি ধ্বংসে রাশিয়ার জোরদার হামলা
এদিকে, ব্যালট পেপার সংকটের কারণে জনরোষের মুখোমুখি হয়ে শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান নো তাই-আক। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাজধানী সিউলের ৩০টি ভোটকেন্দ্রসহ পুরো দেশে ৫০টি ভোটকেন্দ্রে এই সংকট ঘটেছে।
ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা পুলিশের সূত্র উল্লেখ করে জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় সিউলে প্রায় ১০ হাজার মানুষ এসকে অলিম্পিক হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে জড়ো হয়ে নির্বাচনের ব্যালট গণনা প্রত্যক্ষ করেছেন।
এএফপির একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, রোববার ভোর ২টা পর্যন্ত সেখানে অন্তত এক হাজার বিক্ষোভকারী অবস্থান করছিলেন। বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগ বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তারা জাতীয় পতাকা উড়িয়ে 'পুনর্নির্বাচন চাই, পুনর্নির্বাচন চাই' স্লোগান প্রদান করেন।
তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা বিক্ষোভকারীদের জন্য পানি, কফি ও চকলেট বিতরণ করছেন। কেউ কেউ পোষা প্রাণী নিয়ে এসেছিলেন, আবার অনেকে জাতীয় পতাকা হাতে পিকনিক ম্যাটে বসে রাতভর অবস্থান করেন।
আরও পড়ুন: কাতারএনার্জি আগামী বছর ৪০ কার্গোর ২৬টি সরবরাহ করবে
৩১ বছর বয়সী সিও জিন-হি এএফপিকে জানান, 'রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন, ভোট দিতে না পেরে গণতান্ত্রিক অধিকারের লঙ্ঘন হচ্ছে।'
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে আগাম ভোটদানের কারণে বিপুল সংখ্যক ব্যালট অব্যবহৃত থেকে যাওয়ায় এবারের জন্য মোট যোগ্য ভোটারের মাত্র ৫০ শতাংশের জন্য ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে।
ফলস্বরূপ, কিছু ভোটার ভোট না দিয়েই ফিরে গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ২৯ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী পার্ক সউন-ওক বলেন, 'কমিশনের এই ব্যাখ্যা একজন সাধারণ নাগরিকের কাছেও মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।'
তিনি এএফপিকে আরও বলেন, 'আমার পছন্দের প্রার্থী জিতল কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব কিছুর ঊর্ধ্বে, আমি মনে করি এই নির্বাচন অবশ্যই পুনরায় হওয়া উচিত।'
আরও পড়ুন: ইইউ-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের অবনতির নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন