শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪১ পি.এম
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ : যাত্রাবাড়ী এলাকায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে হামলা ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২৬ জনকে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ শুক্রবার, পুলিশ তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার জন্য আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
যাত্রাবাড়ী থানা আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা, পুলিশের উপপরিদর্শক মহিন উদ্দিন বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন- মো. আজমল (৪০), মো. সোলাইমান (৪০), মো. শান্ত (২৪), মো. জসীম উদ্দিন (২২), সজিবুর রহমান আকবর (১৯), মো. ইকবাল মিয়া (৩৬), মো. তানভীর আহমেদ (১৮), মো. রাশেদ (১৮), রকি আহমেদ সাগর (২৪), আলমগীর (৪৭), শরীফ (২৫), সালাম (৩২), মো. কালু মিয়া (৩৬), সুমন্ত (৪২), মো. ফরহাদ (৩৯), অপু (২৫), ভূঁইয়া (২৬), সাদ্দাম হোসেন (৩২), ইয়াছিন (২২), চাঁন মিয়া (৪৮), মো. ফজলান (৪৬), মো. আব্দুল করিম (৪৫), গোলাম রাব্বী (১৮), মো. ছিদ্দিক (৪৬), মিনু (৪০) ও শিল্পী বেগম (৫০)।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় এসআরবি-১০ এর একটি দল যাত্রাবাড়ী থানার আউটফল স্টাফ কোয়ার্টার্সের একটি পরিত্যক্ত ভবনের সামনে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করার সময় আসামি ভুট্টো, নাজির, আরমান ও আরিফ নামে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের তল্লাশি করে ২৪৫ পিস ইয়াবা, ১২৯ পুরিয়া হেরোইন, দুটি বাটন মোবাইল ফোন ও মাদক বিক্রির ১ হাজার ৫৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ সময় আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নিতে তাদের স্বজনসহ অজ্ঞাতনামা ১২০ থেকে ১৩০ জন দুষ্কৃতকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও গুলি চালান। এ সময় এসআই মো. মোরশেদ আলী মোল্লাকে ইট ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে মাথায় জখম করা হয়। নায়েক মো. ইমদাদুল হক লোহার রডের আঘাতে আহত হন। এসআই আবু সালেহ মুসা সহকর্মীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীদের একজন সরকারি পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। গুলির শব্দে হামলাকারীরা কিছুটা সরে গেলে অভিযান পরিচালনাকারী দল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে গোলাপবাগ মাঠের দক্ষিণ কোণে অবস্থান নেয়। আহত তিন সদস্যকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় এসআরবি-১০-এর এএসআই (নিরস্ত্র) আব্দুল আহাদ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুর জেলা সদরের সিংপাড়া নিবাসী কলেজছাত্র কৌশিক সাহা জিতু হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর)ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ফরিদপুর জেলা, সদর ও পৌর শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ফরিদপুর জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি তাপস কুমার সাহার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহা, সহ-সভাপতি সুকেশ কুমার সাহা, যুগ্ম সম্পাদক অজয় কুমার সাহা, অ্যাডভোকেট তুষার কুমার দত্ত, সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সিতাংশু মিত্র কিংকর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চিরঞ্জীব রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ সরকার স্বাধীন, পৌর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি রাম দত্ত এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা কমিটির সদস্যসচিব সুব্রত রবিদাসসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কৌশিক সাহা জিতুর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের প্রভাব বা পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জিতু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা উদ্ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে জিতুর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাঁরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিবিয়ার মাফিয়া চক্রের হাতে অপহৃত হয়ে বন্দিদশা থেকে অলৌকিকভাবে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার পাঁচ যুবক। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও উৎকণ্ঠার পর তারা তাদের মাতৃভূমিতে পা রেখেছেন এবং স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন।
দেশে ফিরে আসার পর তারা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মনোহরগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কুমিল্লা-৯ সংসদীয় আসনের এমপি মো. আবুল কালামের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগী যুবকরা জানিয়েছেন, উন্নত জীবনের আশায় ও ভাগ্যান্বেষণে তারা দালালের মাধ্যমে ৬ জন যুবক ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর তারা আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী ও স্থানীয় মাফিয়া চক্রের খপ্পরে পড়েন। চক্রটি তাদের একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালায় এবং পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
ঘটনাটি জানার পর ভুক্তভোগীদের পরিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামের কাছে যান। এমপি আবুল কালাম বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে দ্রুত যোগাযোগ শুরু করেন। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অবশেষে বন্দিদশা থেকে ওই পাঁচ যুবককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে বাকী ১ জন যুবক (ফয়সাল) বন্দি অবস্থায় মারা গেছে বলে তার বাবা সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন।
প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি ৫ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ভুক্তভোগী যুবকরা হলেন উপজেলার খিলা ইউপির দিশাবন্দ গ্রামের শাহাদাত হোসেন, মানিকুল ইসলাম, মো. সোহেল, তাজ মোহাম্মদ, ফয়সাল এবং উপজেলার লক্ষণপুর ইউপির বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসান।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, দালালের কথামতো জনপ্রতি ১৮ লাখ টাকা পরিশোধ করে তারা লিবিয়া পৌঁছান।
দেশে ফিরে ওই যুবকরা এমপি আবুল কালামের সাথে দেখা করতে যান। এসময় তারা এমপিকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরাও সংসদ সদস্যের এই মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন।
এ বিষয়ে এমপি আবুল কালাম বলেন, "জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা আমার দায়িত্ব। আমাদের যুবকরা বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়েছিল শুনে আমি স্থির থাকতে পারিনি। সরকারি সংস্থা ও দূতাবাসের সহযোগিতায় তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে পেরে নিজের কাছেও শান্তি লাগছে।" তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান অবৈধ পথে ও দালালের প্রলোভনে পড়ে বিদেশে না যাওয়ার জন্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে শনিবার (৩১ অক্টোবর) ‘রান ফর পিস’ শীর্ষক সংহতি দৌড় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার উদ্দেশ্য হলো সামাজিক সম্প্রীতি, শান্তি ও মর্যাদাপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। এই ৭.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দৌড়ে ৪০০-এর বেশি বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশগ্রহণ করবেন।
এমবোল্ডেন বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং একশনএইড বাংলাদেশ, সোসাইটি ফর হেলথ এক্সটেনশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (শেড) ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই আয়োজন করা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠান সবার জন্য উন্মুক্ত, যেখানে প্রথমবার দৌড়াচ্ছেন এমন ব্যক্তি থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ দৌড়বিদরাও অংশ নেবেন।
শনিবার সকাল ৬টায় লাবণী বিচ পয়েন্ট থেকে দৌড় শুরু হবে। নির্ধারিত রুট অনুযায়ী, দৌড় লাবণী বিচ পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে হলিডে মোড়, গুনগাছতলা ও নতুন ব্রিজ হয়ে আবার লাবণী বিচ পয়েন্টে এসে শেষ হবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন পটভূমির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী, যুব নেটওয়ার্কের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করবেন। এই ক্রীড়া কার্যক্রমকে সামাজিক বিভেদ ভুলে মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির এই প্রসঙ্গে বলেন, "কক্সবাজারের তরুণেরা শান্তি ও সামাজিক সৌহার্দ্য বিনির্মাণে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ‘রান ফর পিস’ তাদের সেই অঙ্গীকারেরই এক বলিষ্ঠ প্রকাশ। তরুণদের এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা আনন্দিত।"
একশনএইড বাংলাদেশ-এর ইয়ুথ, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট জাস্টিস টিমের লিড মো. নাজমুল আহসান জানান, "আমরা কক্সবাজারের তরুণ চেইঞ্জমেকারদের পাশে আছি। শান্তি ও সামাজিক সংহতি গড়ে তুলতে সব অংশীজনকে তরুণদের ক্ষমতায়িত করতে হবে। আশা করি, রান ফর পিসের চেতনা সমাজজুড়ে ইতিবাচক পরিবর্তনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।"
দৌড় শেষে সকাল সাড়ে ৭ টায় লাবণী বিচ পয়েন্টে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। নারী ও পুরুষ বিভাগে প্রথম তিনজন বিজয়ীকে যথাক্রমে আর্থিক পুরস্কার ও স্বীকৃতিস সনদ দেয়া হবে এবং উভয় বিভাগের সেরা ১০ জন দৌড়বিদকে পুরস্কৃত করা হবে।
আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আ. মান্নান, বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সরকারের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা।
অতিথিদের মধ্যে অন্যান্যরা হলেন একশনএইড বাংলাদেশ-এর হেড অব হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রাম মো. আব্দুল আলীম, হেড অব ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মো. রফিকুল ইসলাম এফসিএ; ইয়ুথ, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট জাস্টিস বিভাগের লিড মো. নাজমুল আহসান এবং শেডের উপপরিচালক আবদুল মান্নান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ সুরক্ষার জন্য সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের সংখ্যা সীমিত করেছে সরকার। চলতি মৌসুমের জন্য নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বাধিক সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপটিতে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন। তবে, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারলে ভবিষ্যতে পর্যটক সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতামত অনুযায়ী, প্রযুক্তির ব্যবহার, কঠোর নজরদারি, নিয়মকানুনের যথাযথ প্রয়োগ এবং পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব। পাশাপাশি, পর্যটনশিল্পের বিকাশও নিশ্চিত করা যাবে। এজন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়োনিষ্কাশন এবং পর্যটকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ারের (বিটিটিএফ) দ্বিতীয় দিনে আয়োজিত একটি সেমিনারে এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট অন সেন্টমার্টিনস আইল্যান্ড : দ্য রিয়েলিটি’।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পর্যটন খাতের গবেষক ফারুক হাসান। তিনি উল্লেখ করেন যে, সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াত সীমিত করার ফলে দ্বীপটিকে ঘিরে গড়ে ওঠা পর্যটনশিল্প সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। এই খাতটি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়ের সুযোগ তৈরি করে।
ফারুক হাসান আরও বলেন, সেন্ট মার্টিনের উপকূলের মাত্র ৮ থেকে ৯ শতাংশ এলাকায় প্রবাল কলোনি বিদ্যমান। মালদ্বীপ ও ইতালির অনেক দ্বীপের তুলনায় সেন্ট মার্টিনের আয়তন বড় এবং এখানকার স্থানীয় জনসংখ্যা ও পর্যটকের চাপও তুলনামূলকভাবে কম।
তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দ্বীপে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কঠোর নীতিমালার মাধ্যমে পর্যটন পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। তবে, পরিবেশ সংরক্ষণের নামে পর্যটন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি।
নিয়ম ভাঙলে জরিমানার সুপারিশ
সেন্ট মার্টিনে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে নিয়ম প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ফারুক হাসান। তিনি বলেন, দ্বীপের অনেক হোটেল-মোটেল নিয়ম মেনে পরিচালিত হলেও কিছু প্রতিষ্ঠান এবং পর্যটকদের মধ্যে নিয়ম না মানার প্রবণতা রয়েছে। এর ফলে পলিথিন, চিপসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে।
মালদ্বীপে পর্যটনের নামে পরিবেশের ক্ষতি করলে বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিনে যাওয়ার আগে পর্যটকদের জানানো উচিত কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না। নিয়ম ভাঙলে জরিমানার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।
আলোচকরা বলেন, বিদেশের পর্যটনকেন্দ্রে গেলে অনেক বাংলাদেশি পরিবেশ সুরক্ষার নিয়ম মেনে চলেন। কিন্তু দেশের পর্যটনকেন্দ্রে গিয়ে তাদের কেউ কেউ নিয়ম মানতে চান না। এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।
তারা আরও বলেন, দ্বীপের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, পয়োনিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, জাহাজ থেকে পোড়া মবিল সাগরে ফেলা বন্ধ করে তা সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
পর্যটনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ
সেন্ট মার্টিনে স্মার্ট পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন আলোচকেরা। তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশের ওপর চাপ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিদিন কতজন পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন, কোথায় কী করা যাবে এবং কোন কাজ নিষিদ্ধ—এসব বিষয়ে পর্যটকদের তাৎক্ষণিক তথ্য ও নির্দেশনা প্রদান করা যেতে পারে। এতে নিয়মের প্রয়োগ সহজ হবে এবং পরিবেশের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার বলেন, সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা না গেলে দ্বীপটির পর্যটন টিকবে না। প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেলে মানুষ সেখানে অর্থ ও সময় ব্যয় করে কেন যাবে?
তিনি বলেন, টেকসই পর্যটনের কথা শুধু মুখে বললে হবে না, বাস্তবেও তা অনুসরণ করতে হবে। সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকার পালন করবে।
মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার আরও বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, সেন্টমার্টিনে এক হাজারের বেশি মানুষ নেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেই। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই পর্যটন ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। চলতি মৌসুমে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার পর্যটক যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি পরিবেশের ক্ষতি না করে এই সংখ্যার পর্যটক ব্যবস্থাপনা করতে পারেন, তবে ভবিষ্যতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
টোয়াবের সহসভাপতি (১) মো. মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ, পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার দেব এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান ড. মাহফুজা পারভীন। সেমিনার সঞ্চালনা করেন টোয়াবের সাবেক সভাপতি শিবলুল আজম কোরেশী।
ছুটির দিনে বিটিটিএফে দর্শনার্থীদের ভিড়
এদিকে বিটিটিএফের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকাল থেকেই মেলার বিভিন্ন স্টলে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়।
মেলার ১৪তম আসরে নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াসহ ২০টি দেশের পর্যটন প্রতিনিধি ও প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।
এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’। মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও নেপাল এবারের মেলার পার্টনার কান্ট্রি। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলার টাইটেল স্পন্সর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ