০২:২৪ পি.এম
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন। প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
সরকারের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’র পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিজয়ের পর এটি প্রথম বাজেট।
আরও পড়ুন: গার্ডিয়ান ও সিদীপের নতুন স্কিমে সঞ্চয়ের সঙ্গে ইন্স্যুরেন্স সুরক্ষা
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এবারের বাজেট ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ : ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখেই প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলস্বরূপ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে।
আসন্ন বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকার প্রস্তাব এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণা আসতেও পারে।
এছাড়া ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বেশ কয়েকটি নতুন কর্মসূচি সংযুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোর বরাদ্দ বৃদ্ধির কথাও বলা হতে পারে। দেশবাসীর জন্য বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রমজান উপলক্ষে ১০ পণ্যের এলসি মার্জিন ন্যূনতম রাখার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের
যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে এবং সৃজনশীল অর্থনৈতিক কার্যক্রমে উৎসাহিত করার জন্য ৩০০ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব থাকতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সম্ভাব্য বাজেটের জন্য মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ ঋণ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে সংগ্রহ করা হবে। এবার বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা দাঁড়াতে পারে, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
এবারের বাজেটে ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লাইসেন্স, অনুমোদন এবং কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনার পরিকল্পনা থাকছে, ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভেঙে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলেন স্বজন-সমর্থকেরা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে অনলাইনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল, সরাসরি ব্যাংক হিসাবে কর ফেরত এবং কর-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যক্রমের প্রস্তাব আনা হতে পারে।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় সরকার আগামী অর্থবছরে তা ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
তাদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আনা না হলে উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন বাসস’কে বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আগামী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিপ্লব: বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার কৃষকদের শত কোটি টাকা লুট করেছে
এদিকে বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব সংগ্রহ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো চ্যালেঞ্জ থাকলেও নীতিনির্ধারকেরা আশা করছেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রম অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন