০৪:৪৪ পি.এম
হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৃষ্ট আশঙ্কার মধ্যেও ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে মে মাসের শিল্প উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
জার্মানির পরিসংখ্যান সংস্থা ডেস্টাটিস জানায়, মে মাসে আগের মাসের তুলনায় দেশটির কারখানা উৎপাদন ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাঁত ভেঙে দিতে ঐক্যবদ্ধ হোন
অথচ ফ্যাক্টসেটের জরিপে অংশ নেওয়া বিশ্লেষকরা ০ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ডেস্টাটিস জানায়, মোটরগাড়ি শিল্পে উৎপাদন ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে। এছাড়া শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির উৎপাদনও ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
আইএনজি’র বিশ্লেষক কারস্টেন ব্রজেস্কি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়েছে, তবুও শিল্প উৎপাদন স্থিতিশীল রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কিছু শিল্প বা প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে বরং লাভবান হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।’
আরও পড়ুন: লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগী হরি বক্সার যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তখন ইরান এই জলপথ অবরোধ করে। একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজও হামলার শিকার হয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়ে যায়।
বাণিজ্যিক নৌপরিবহনে হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা নৌ অবরোধ আরোপ করে। পরে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় ওয়াশিংটন।
গত মাসে সংঘাতের অবসান ও এই কৌশলগত নৌপথ পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন এবং তেহরান একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এর পর সমুদ্রপথে চলাচল আবার শুরু হয়।
ডেস্টাটিসের তিন মাসের তুলনামূলক কম ওঠানামাপূর্ণ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শিল্প উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশ। আর গত বছরের একই মাসের তুলনায় মে মাসে উৎপাদন অপরিবর্তিত ছিল।
আরও পড়ুন: মদিনায় ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা
২০২২ সালের শেষের দিকে মহামারির সময় জমে থাকা চাহিদা পূরণের পর থেকে জার্মানির অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি বেশ স্থবির রয়েছে। উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে চীনের ক্রমবর্ধমান তীব্র প্রতিযোগিতা এর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
ডেস্টাটিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের মাসিক গড়ের তুলনায় চলতি বছরের মে মাসে মোট শিল্প উৎপাদনের পরিমাণ এখনও ৮ শতাংশ কম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন