ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

হবিগঞ্জে ট্রাকভর্তি ভারতীয় কসমেটিকসসহ দুইজন আটক


হবিগঞ্জে ট্রাকভর্তি ভারতীয় কসমেটিকসসহ দুইজন আটক

হবিগঞ্জ শহরের পোদ্দারবাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ ট্রাকভর্তি ভারতীয় কসমেটিকসসহ দুইজনকে আটক করেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ট্রাকসহ তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি শনিবার সকালে নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাকচালক সেলিম এবং তার সহকারী শিপন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মহাসড়কে র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা থাকায় চোরাকারবারিরা বাইপাস ও আঞ্চলিক সড়ক ব্যবহার করছে। শুক্রবার রাতে ভারতীয় কসমেটিকস বোঝাই একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে বহুলা আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায়। এরপর ট্রাকটি আটক করে তল্লাশি চালানো হয়।

আরও পড়ুন: প্রদীপের আলোয় আলোকিত এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বরিশালের কাউনিয়া মহাশ্মশান

এ সময় ট্রাক থেকে কার্টনভর্তি ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, আটক ট্রাকচালকদের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, জব্দ করা মালামাল বহুলা গ্রামের সোহেল আহমেদ চৌধুরী ও কুমিল্লার বাসার আহমেদের। জব্দ করা কসমেটিকসের বাজারমূল্য প্রায় ৭৮ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুল হক মন্তব্য করেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো চোরাকারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিনেমাটির কাজ শেষ করে যেতে পারলেন না অস্কারজয়ী নির্মাতা সেবাস্টিয়ান লেলিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ পি.এম


সিনেমাটির কাজ শেষ করে যেতে পারলেন না অস্কারজয়ী নির্মাতা সেবাস্টিয়ান লেলিও

বিশ্ব চলচ্চিত্রে মানবিক গল্প বলার এবং স্বতন্ত্র নির্মাণশৈলীর জন্য পরিচিত ছিলেন চিলির চলচ্চিত্র নির্মাতা সেবাস্টিয়ান লেলিও। তার হাত ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চিলির সিনেমা নতুন পরিচিতি লাভ করেছিল। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৫২ বছর।

লেলিওর মৃত্যুর খবর তার পরিবার স্থানীয় সময় শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে। পোস্টে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি সম্পর্কে উল্লেখ করা হলেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘তার স্মৃতি আমাদের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি একজন চমৎকার মানুষ ছিলেন, যিনি চিলির সংস্কৃতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।’

২০১৮ সালে ‘আ ফ্যান্টাস্টিক ওম্যান’ সিনেমার জন্য সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে একাডেমি পুরস্কার বা অস্কার অর্জন করেন লেলিও। এই বিভাগটি আগে বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। সিনেমাটিতে একজন ট্রান্সজেন্ডার নারীর জীবনসংগ্রাম ও সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে নির্মাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিশেষ প্রশংসা অর্জন করেন।

ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন ট্রান্সজেন্ডার অভিনেত্রী ড্যানিয়েলা ভেগা। তিনি একজন ওয়েট্রেস ও নাইটক্লাবের গায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন, যার প্রেমিকের আকস্মিক মৃত্যুর পর জীবন নানা সংকটের মুখে পড়ে। সিনেমাটি চিলির চলচ্চিত্র ইতিহাসে বিশেষ স্থান অধিকার করে এবং এটি ছিল দেশটির দ্বিতীয় অস্কার জয়। এর আগে ২০১৬ সালে ‘বিয়ার স্টোরি’ নামের একটি অ্যানিমেটেড স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এই সম্মান অর্জন করেছিল।

‘আ ফ্যান্টাস্টিক ওম্যান’ ছাড়াও লেলিওর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘গ্লোরিয়া’, ‘দ্য ওয়েভ’, ‘দ্য ওয়ান্ডার’, ‘ডিসওবিডিয়েন্স’ ও ‘দ্য ইয়ার অব দ্য টাইগার’। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে কাজ করতে গিয়ে তিনি জুলিয়ান মুর, র‍্যাচেল ভাইস ও ফ্লোরেন্স পিউয়ের মতো অভিনেতাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন।

মৃত্যুর আগে নতুন সিনেমা ‘পোয়েতা চিলেনো’ বা ‘চিলিয়ান পোয়েট’ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এই নির্মাতা। আলেজান্দ্রো জামব্রার বই অবলম্বনে নির্মিতব্য ছবিটির শুটিং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়েছিল। তবে সিনেমাটির কাজ শেষ করে যেতে পারলেন না তিনি।

আর্জেন্টিনার মেনদোসায় জন্ম নেওয়া লেলিও মাত্র দুই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে চিলিতে চলে আসেন। চিলির চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার আগে তিনি এক বছর সাংবাদিকতা নিয়েও পড়াশোনা করেছিলেন। পরবর্তীতে নিজের নির্মাণকর্মের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে স্থান করে নেন এই নির্মাতা। তার মৃত্যুতে চিলির চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরের সবুজ পল্লী কলেজে ৪ শিক্ষকের ৭ এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তবু সবাই ফেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


যশোরের সবুজ পল্লী কলেজে ৪ শিক্ষকের ৭ এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তবু সবাই ফেল

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার সবুজ পল্লী কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সাত শিক্ষার্থীর মধ্যে কেউই পাস করতে পারেনি। বর্তমানে কলেজটিতে শিক্ষক সংখ্যা মাত্র চারজন।

মণিরামপুর-খেদাপাড়া সড়কের পাশে ধানখেতের মধ্যে কলেজটির দুটি ছোট কাঁচা-পাকা ভবন দাঁড়িয়ে আছে। একটি ভবনের পলেস্তারা খসে পড়েছে, অন্যটি তুলনামূলক নতুন। কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা কখনো বেতন-ভাতা পাননি। দীর্ঘকাল ধরে কলেজের কার্যক্রম এমন পরিস্থিতিতে চলছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেখানে শিক্ষক নেই এবং নিয়মিত পাঠদান নেই, সেখানে শিক্ষার্থীরা কিভাবে ভালো ফলাফল করতে পারে?

খেদাপাড়া ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান জিএম ওমর ফারুকের উদ্যোগে ২০০৩ সালে সবুজ পল্লী কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠানের শুরুতে মানবিক, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগে পাঠদানের অনুমোদন পেয়েছিল। তখন শিক্ষক ছিলেন ১৫ জন। কিন্তু বেতন-ভাতা না পাওয়ার কারণে ধীরে ধীরে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষকরা কলেজ ছেড়ে চলে যান। একসময় শিক্ষার্থীরাও কলেজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। পরে মানবিক বিভাগের পাঁচজন প্রভাষক দিয়ে পাঠদান চলছিল। ২০২৫ সালের ৪ মার্চ ইংরেজি বিভাগের একমাত্র প্রভাষক এস আলমের মৃত্যুর পর বর্তমানে কলেজটি চারজন শিক্ষক দিয়ে চলছে।

নন-এমপিও হওয়ায় কলেজের শিক্ষকদের সরকারি বেতন-ভাতার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে ইংরেজি প্রভাষকের পদ শূন্য থাকায় নতুন কেউ চাকরির আগ্রহ দেখাননি। এমনকি এ পদে আবেদনও করেনি কেউ। ফলে শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষায় ইংরেজি শিক্ষক ছাড়াই অংশ নিতে হচ্ছে।

কলেজটির গত কয়েক বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২২ সালে ৩৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৯ জন পাস করেন। ২০২৩ সালে ২৭ জনের মধ্যে ২৬ জন পাস করেন। ২০২৪ সালে ১০ জন পরীক্ষার্থী পাস করেন আটজন। ২০২৫ সালে পাঁচজনের মধ্যে তিনজন পাস করেন। তবে এবার সাতজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করতে পারেনি কেউ। তাদের মধ্যে তিনজন একটি বিষয়ে এবং দুজন দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন।

কলেজ মোড়ের দোকানি আবু রহিম বলেন, "এলাকার অধিকাংশ ছেলেমেয়ে কলেজটিতে পড়তো। কয়েক বছর পর শিক্ষকরা চলে যেতে থাকেন। একসময় শিক্ষার্থীরাও আসা বন্ধ করে দেয়।"

খেদাপাড়া বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, ২০০৬ সালের পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এসএম আব্দুল হক সবুজ পল্লী কলেজের কাছেই ‘মাতৃভাষা কলেজ’ নামে আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ওই কলেজটি দ্রুত এমপিওভুক্ত করাতে সক্ষম হন। অথচ আগে প্রতিষ্ঠিত সবুজ পল্লী কলেজটি এমপিওভুক্তি থেকে বঞ্চিত হয়। এর মধ্যে ইংরেজি শিক্ষকও মারা যান। অর্থনীতির শিক্ষক রমজান আলী একসময় ইংরেজি ক্লাস নিতেন। শিক্ষকসংকটের কারণে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীরাও কলেজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম হোসেন বলেন, "২৩ বছর ধরে কলেজে শিক্ষকতা করছি। এক পয়সাও পাইনি। ছেলেমেয়ে, ঘর সংসার তো রয়েছে।"

বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে ৩১ জন এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ৪১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ইব্রাহিম হোসেন বলেন, "ছেলেমেয়েদের মুখের তাকিয়ে এখনও আছি।"

কলেজটি এমপিওভুক্ত না হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, "এমপিওভুক্তির জন্য যেসব শর্ত পূরণ করতে হয়, সেগুলো কলেজে সবসময়ই ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে এমপিওভুক্ত হতে বাধা দেওয়া হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা খেদাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিএম ওমর ফারুক উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। কলেজ প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে। মণিরামপুরের তৎকালীন সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতান এমপিওভুক্তিতে কোনো বাধা না দিলেও স্বপন ভট্টাচার্য সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। একপর্যায়ে কলেজের একমাত্র কাঁচা-পাকা ভবনটির পলেস্তারা খসে পড়তে থাকে। পরে ২০২৫ সালে সংসদ সদস্য ইয়াকুব আলী কলেজে একটি ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করে দেন।"

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বলেন, "চেয়ারম্যানের সাথে থেকে অনেক আশা নিয়ে আমরা কলেজটি করেছিলাম। কিন্তু কয়েক বছর পার হলেও এমপিও না হওয়ায় বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষকরা চলে যান। শিক্ষার্থীদের কলকাকলীমুখর কলেজটি এখন কোনোরকমে টিকে আছে। কলেজটি এমপিওভুক্ত হলে পাসের হার বাড়বে।"

খেদাপাড়ার স্কুলশিক্ষক মতিয়ার রহমান বলেন, "ভূগোল শিক্ষক দিয়ে ইংরেজি পড়ালে শিক্ষার্থীরা কেউ পাস করবে না— এটাই স্বাভাবিক। তবে, পুরনো প্রতিষ্ঠান। এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষক পাওয়া যাবে। তখন এ সমস্যা থাকবে না।"

খেদাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জিন্না বলেন, "কলেজটি খুব দুরবস্থার মধ্যে আছে। এ বছর কেউ পরীক্ষা দিয়েছিল কি না জানি না। তবে এমপিওভুক্ত হলে এ প্রতিষ্ঠান প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে। এলাকার স্বার্থে, আমাদের ছেলে-মেয়েদের স্বার্থে কলেজটি এমপিওভুক্তির দাবি করছি।"

এদিকে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম হোসেন আলী বলেন, "সবুজ পল্লী কলেজের প্রধানকে ডেকে স্বীকৃতি নবায়ন করা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিক্ষা বোর্ড অত্যন্ত কঠিন অবস্থানে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।"

যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুকে আযম মু. আব্দুস ছালাম ও সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিনের সতর্কতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, "বোর্ড থেকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। তবে চলতি বছর কলেজটির স্বীকৃতি নবায়ন হবে না— এমন কোনো নির্দেশনার কথা তিনি অস্বীকার করেন।"

কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম বলেন, "আগের বছরগুলোতে পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক ছিল। কিন্তু এবার কেউ পাস করেনি। ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক না থাকায় এ বিপর্যয় ঘটেছে।"

তিনি বলেন, "একজন খণ্ডকালীন ইংরেজি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাকে বেতন না দেওয়ায় তিনি মাস দুয়েক পর আর আসেননি। স্কুল হলে অন্য বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে ইংরেজি পড়ানো যেত। কিন্তু কলেজে সেটি সম্ভব হচ্ছে না।"

কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কবীর হোসেন বলেন, "এলাকার শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি টিকে আছে। তবে এবারই প্রথম পাসের হার শূন্য হয়েছে। ইংরেজি শিক্ষক থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। আগামীতে যাতে এ অবস্থার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ শেষে গ্যাস সরবরাহ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ শেষে গ্যাস সরবরাহ শুরু

কক্সবাজারের মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আবার শুরু হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে পূর্বের মতো গ্যাস সরবরাহের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।

পেট্রোবাংলার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ার পর দুপুর ১টা থেকে রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম আবার শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে দুইটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে পূর্বের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাহকদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে।

এর আগে পেট্রোবাংলা গত ১ নভেম্বর জানায়, সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

গত বছরের ডিসেম্বর মাসেও এই রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অচল শরীরেও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি কাঞ্চন, সঙ্গী স্ত্রী আসমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


অচল শরীরেও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি কাঞ্চন, সঙ্গী স্ত্রী আসমা

দুই পা অচল এবং দুই হাতের শক্তি কম থাকলেও জীবনযুদ্ধে থেমে নেই সৈয়দ কাঞ্চন। আগুনে পুড়ে গেছে তার শেষ সম্বল, কিন্তু তিনি হার মানেননি। স্ত্রী আসমা বেগম তার এই সংগ্রামে সবচেয়ে বড় ভরসা।

সৈয়দ কাঞ্চন মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বেতবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম সৈয়দ সোহবার হোসেন। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং মায়ের সঙ্গে সংসার পরিচালনা করেন।

ছোটবেলায় টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কারণে কাঞ্চনের পরিবার যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেনি। এর ফলস্বরূপ, তার হাত-পা অচল হয়ে যায়। এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আসমার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। শারীরিক সীমাবদ্ধতা এবং জীবনের বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও আসমার উপস্থিতি তাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে উদ্বুদ্ধ করে। তাদের ভালোবাসা ও নির্ভরতার সম্পর্কের ভিত্তিতে ২০১০ সালে তাদের বিয়ে হয়। সংসারজীবনের নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আসমা আজও তার স্বামীর পাশে রয়েছেন এবং বাকি জীবন তার সঙ্গে কাটাতে চান।

দুজনে মিলে একটি মুদি দোকান গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালের এক রাতে আগুনে পুড়ে যায় তাদের দোকান, যা ছিল তাদের একমাত্র আয়ের উৎস। এই ঘটনার পরেও কাঞ্চন হাল ছাড়েননি। বর্তমানে, স্ত্রীর সহযোগিতায় বাড়িতে উপকরণ তৈরি করে প্রতিদিন বিকেলে হুইলচেয়ারে করে বের হন তিনি।

ডাসার সরকারি মহিলা কলেজের পাশে একটি ছোট জায়গায় সিঙ্গারা ও পুরির দোকান বসান। সেখানে আসমা বেগম নিজ হাতে সিঙ্গারা ও পুরি তৈরি করে বিক্রি করেন। এই আয়েই তাদের সংসার চলে। তাদের দুই মেয়ে, যারা ১২ ও ৮ বছর বয়সী, মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। তাদের খাতা-কলম কেনার খরচ এবং সংসারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও অসহায়ত্ব থাকা সত্ত্বেও কাঞ্চন কখনো ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়াননি। তিনি নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। তবে সরকারি সহায়তা পেলে তার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি আধুনিক হুইলচেয়ার এবং ঋণ সহায়তা তার বিশেষ প্রয়োজন।

সৈয়দ কাঞ্চন বলেন,

“মানুষ জন্ম নিলে একদিন মরবেই। কিন্তু যতদিন বেঁচে আছি, মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। আমার দুইটা পা অচল, আমি হাঁটতে পারি না। কিন্তু আল্লাহ আমাকে একটা সুস্থ বিবেক আর দুইটা হাত দিয়েছেন। সেই হাতও প্রায় অচল। সেই বিবেক থাকতে আমি মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করতে পারব না। ভিক্ষা করলে হয়তো সহজে টাকা পাওয়া যায়, কিন্তু নিজের আত্মসম্মানটা ধুলায় মিশে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমার একমাত্র আয়ের পথ ছিল ওই ছোট্ট মুদি দোকানটা। কিন্তু আগুনে পুড়ে আমার শেষ সম্বলটুকু যখন ছাই হয়ে গেল, আমি পুরো দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। তবে আমি হাল ছাড়িনি। আমি কারও করুণা চাই না, শুধু একটু সুযোগ চাই, যেন নিজের পরিশ্রম দিয়ে আমার পরিবার আর দুই মেয়ের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দিতে পারি।”

কাঞ্চনের স্ত্রী আসমা বেগম বলেন,

“বিয়ের পর থেকেই দেখে আসছি, তিনি কতটা কষ্ট করেন। শরীরটা অচল হলেও তার মনের জোর আমাদের সবার চেয়ে বেশি। সরকারিভাবে একটু সহযোগিতা পেলে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব।”

মাদারীপুর জেলার সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা আফজাল হোসাইন জানিয়েছেন, অসহায় এই কাঞ্চনকে ইতিমধ্যে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। তাকে সাবলম্বী করতে সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনে তাকে ক্ষুদ্র ঋণও দেয়া হবে।

মাদারীপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা আফজাল হোসাইন আরও জানান, কাঞ্চনকে এরইমধ্যে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। তাকে স্বাবলম্বী করে তুলতে সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনে তাকে ক্ষুদ্রঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%