ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

পাহাড়ে ‘ম্রো সম্মেলন’, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে নতুন বার্তা


পাহাড়ে ‘ম্রো সম্মেলন’, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে নতুন বার্তা

চট্টগ্রাম, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ : পার্বত্য বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতায় ইউনিয়নে একটি ব্যতিক্রমী আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘ম্রো সম্মেলন-২০২৬’।

স্থানীয় জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে ‘শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির নতুন বার্তা’ ছড়িয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাগণ। এসময়ে ম্রো জনগণের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী, প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও আস্থা বৃদ্ধির সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে, এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, যোগাযোগ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাও উজ্জ্বল করে উঠে এসেছে।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন, কমান্ডার ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়ন এর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপিত

সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বিভিন্ন পাড়া থেকে ম্রো জনগণের প্রতিনিধিরা সরাসরি মতবিনিময় করেন। এসব প্রতিনিধিরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, কৃষি, নিরাপদ পানি, মাতৃভাষা এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণের মত বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে তুলে ধরেন। রিজিয়ন কমান্ডার তাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে এবং বাস্তবসম্মত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে পর্যায়ক্রমে সমাধানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

সম্মেলনে আলীকদম জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি, অধিনায়ক ৫৮ ইবি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান-কারবারী, শিক্ষক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, নারী ও যুব প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পাড়া থেকে আগত প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ম্রো জনগণের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

রিজিয়ন কমান্ডার তার বক্তব্যে বলেন, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন শুধুমাত্র নিরাপত্তা বাহিনী বা প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়; জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও এর অপরিহার্য অংশ। পাশাপাশি তিনি ম্রো জনগণের প্রতি আহ্বান জানান যে, তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে জীবন-জীবিকা পরিচালনা করেন, সন্তানদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলেন এবং নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে কুরুকপাতার মাটিতে যে শান্তির দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছিল, সেই শান্তির ধারাবাহিকতাকে শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং উন্নয়নের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজন। রিজিয়ন কমান্ডার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বান্দরবান রিজিয়ন ও আলীকদম সেনাজোন জনগণের নিরাপত্তার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিএসআরএমের নম্বরবিহীন কন্টেইনার লরির অবাধ চলাচল, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা

প্রধান অতিথি বক্তব্যের সূচনা করেই পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ম্রো জনগণের ইতিবাচক ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে কুরুকপাতায় ম্রো ন্যাশনাল পার্টির ৭৯ জন সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সক্ষম হন। ম্রো সোশ্যাল কাউন্সিলের উদ্যোগ ও মধ্যস্থতায় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তির দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়।

রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, ম্রো সমাজের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, জনগণের সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতা সম্ভব হয়েছে। তিনি শান্তির এই ইতিবাচক ধারাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও শক্তিশালী করার ডাক দেন।

রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, ‘শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন তিনটি একই সুতোয় গাঁথা। আলীকদমে ম্রো, মারমা, ত্রিপুরা এবং বাঙালির মত বিভিন্ন জনগণের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এ অঞ্চলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে এ সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের সুফল দুর্গম জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।

আরও পড়ুন: গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ৮,৫০০ পরিবার পাবে ৬০ হাজার টাকার শর্তহীন অনুদান: জিইউকে ও গিভডিরেক্টলির মহতী উদ্যোগ

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ম্রো জনগণের প্রতিনিধিরা এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এরূপ মতবিনিময় ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে বায়ুদূষণের দায়ে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৯ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে বায়ুদূষণের দায়ে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নারায়ণগঞ্জ, ১৬ আগস্ট ২০২৬ : জেলার সদর উপজেলায় আজ বায়ুদূষণ বিরোধী অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট একলাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

আজ রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অংমাচিং মারমা এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এ সময় প্রসিকিউশন পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক টিটু বড়ুয়া প্রদান করেন।

অভিযানকালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুসারে সদর উপজেলার কুতুবপুরের পিলকুনিতে অবস্থিত আক্তার ইস্পাত ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে একলাখ টাকা, মেসার্স আল বাকারা স্টিল ও রি-রোলিং মিলস লিমিটেডকে ৩০ হাজার টাকা এবং নন্দলালপুরের সাজ্জাদ ইন্টারলাইনিংকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অংমাচিং মারমা জানান, অভিযানকালে বায়ুদূষণ করায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট একলাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন সেনা হত্যা বা বন্দি করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা ইরানি কমান্ডারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১১ পি.এম


মার্কিন সেনা হত্যা বা বন্দি করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা ইরানি কমান্ডারের

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ স্থগিত রয়েছে। তবে এই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ রুট নিয়ে উত্তেজনাকর বক্তব্য এখনও চলমান রয়েছে।

ইরান সেনাবাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি একটি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘আগ্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত যেকোনো মার্কিন সামরিক সদস্যকে বন্দি বা হত্যা করতে পারলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে, যা প্রায় ৫ বিলিয়ন ইরানি তোমানের সমতুল্য।

এ সংক্রান্ত তথ্য ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে। হাতামি আরও বলেছেন, ‘কোনো ইরানি নাগরিক যদি একজন মার্কিন সেনা সদস্যকে আটক বা হত্যা করতে সক্ষম হন, তবে তাকে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘নারীদের (মার্কিন নারী সেনা) ক্ষেত্রে এই পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ (৬০,০০০ ডলার) হবে।’

এই সেনাপ্রধান নৌ রুটের স্থায়ী পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, এই জলপথটি আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। ইরানের প্রধান অধিনায়কের (সর্বোচ্চ নেতা) নির্দেশ অনুযায়ী, তারা তাদের সবটুকু ক্ষমতা দিয়ে এই জলপথ রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন।

পূর্বে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণার কথা জানিয়েছিলেন ইরানের কর্মকর্তারা। গত ১৫ মে ইরানের জ্যেষ্ঠ আইন প্রণেতা ইব্রাহিম আজিজি বলেছিলেন, দেশটির পার্লামেন্টে প্রস্তাবিত একটি ব্যবস্থায় ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ৫০ মিলিয়ন ইউরো পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

নতুন এই ঘোষণার ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় কৃষ্ণসাগরে রুশ হামলা বন্ধের প্রস্তাব ইউক্রেনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৩ পি.এম


তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় কৃষ্ণসাগরে রুশ হামলা বন্ধের প্রস্তাব ইউক্রেনের

ইউক্রেন কৃষ্ণসাগরে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বন্ধ রাখার জন্য রাশিয়ার কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এ সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বিষয়টি বর্তমানে আলোচনায় রয়েছে।

প্রস্তাবটির উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইউক্রেন এবং রাশিয়া—উভয় পক্ষই কৃষ্ণসাগরে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বন্ধ রাখবে। সম্প্রতি ওই অঞ্চলে জাহাজ এবং বন্দরে একের পর এক হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রেক্ষিতে কিয়েভ এই উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে।

সূত্রটি আরো জানিয়েছে, কিয়েভ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে মস্কোর কাছে এই উদ্যোগটি জানিয়েছে এবং এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার জন্য তারা অপেক্ষা করছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন বিশ্বের শীর্ষ দুই কৃষিপণ্য উৎপাদক এবং রপ্তানিকারক দেশ।

সাম্প্রতিক সময়ে, বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানিতে ব্যবহৃত জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে। দুই দেশই এসব হামলার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছে। ইউক্রেন এখন রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন প্রতিহত করার পঞ্চম বছরে পৌঁছেছে। এই যুদ্ধে উভয় পক্ষের বিমান হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মস্কো এবং কিয়েভ একে অপরের ওপর হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ হামলাগুলোর মধ্যে কৃষ্ণ সাগরের বন্দর এবং বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিয়েভ রাশিয়ার তেল বহনকারী ট্যাংকারগুলোর ওপরেও হামলা বাড়িয়েছে। এই অঞ্চলে জাহাজ ও বন্দরের ওপর হামলা বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নান্দাইলে ভাইরাল কৃষক হেলালকে মৎস্য অফিসের সংবর্ধনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৪ পি.এম


নান্দাইলে ভাইরাল কৃষক হেলালকে মৎস্য অফিসের সংবর্ধনা

 

নিজ উদ্যোগে দেশীয় মাছ ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কাজ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কৃষক হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়াকে উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সংবর্ধনা দিয়েছে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁকে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে হেলাল উদ্দিনের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও ফুলের তোড়া তুলে দেওয়া হয়।

হেলাল উদ্দিন নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের খামারওগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় কৃষক হলেও দীর্ঘদিন ধরে নিজের উদ্যোগে দেশীয় মাছ রক্ষায় কাজ করে আসছেন তিনি। বাজারে ডিমওয়ালা মা মাছ ও ছোট পোনা বিক্রি হতে দেখলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সেগুলো কিনে নদী, খাল-বিল ও মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করেন।

পাশাপাশি নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি জাল’ দেখতে পেলেই তা উদ্ধার করে ধ্বংস করেন।

এসব কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হেলাল উদ্দিনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তাঁর এমন উদ্যোগে প্রশংসা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।

নান্দাইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহনাজ নাজনীন বলেন, ‘কৃষক হেলাল উদ্দিন দেশীয় মাছ রক্ষায় সম্পূর্ণ নিজস্ব তাগিদে যেভাবে মাঠে নেমেছেন, তা বর্তমান সময়ে আমাদের সবার জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

বিশেষ করে মা মাছ ও পোনা মাছ নিধন রোধে তিনি যেভাবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, তা প্রশংসনীয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল দেখামাত্রই হেলাল উদ্দিন যেভাবে একাই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন, তা অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ। দেশীয় প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখতে তাঁর এই কর্মতৎপরতায় এখন থেকে নান্দাইল উপজেলা মৎস্য অফিসও সার্বিক সহযোগিতা করবে।’

হেলাল উদ্দিন বলেছেন, নিজের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে থেকেই তিনি দেশীয় মাছ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। ডিমওয়ালা মা মাছ ও ছোট পোনা মাছ বাজারে বিক্রি হতে দেখলে তা কিনে জলাশয়ে অবমুক্ত করেন।

একই সঙ্গে মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র ধ্বংসকারী নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধেও তাঁর সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, হেলাল উদ্দিনের মতো মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশীয় মাছ রক্ষায় সচেতন ও সোচ্চার হলে হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%