০৯:৩০ পি.এম
চলতি সপ্তাহে তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি তাঁর দল ‘ফিউচার পার্টি’ বিলুপ্ত করার কথাও জানিয়েছেন। দাভুতোগলু, যিনি ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির(একেপি) অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন, পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে অন্যতম সমালোচক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
দাভুতোগলু দেশটির নোংরা রাজনৈতিক পরিবেশকে তার রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। স্থানীয় সময় বুধবার(২৯ জুলাই) এক্স এ পোস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী লেখেন, 'এটি কোনো পরাজয় মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়। এটি নৈতিকভাবে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত। এটি রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া নয়; বরং এটি সবার প্রতি রাজনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান।'
তিনি যুক্ত করেন, 'দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং জবাবদিহিতার অভাব আমাদের নৈতিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করছে। দুর্নীতি বিষয়ক পরিস্থিতির অবনতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আর অস্বীকার করার উপায় নেই।'
আরও পড়ুন: টেকনাফে ডাকাত সানাউল্লাহর ঘরে উদ্ধার হলো দুই পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি
দাভুতোগলু বলেন, 'রাজনীতিবিদদের দল পরিবর্তনের বিষয়টি স্বাভাবিক হয়ে ওঠা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে সরকারি ট্রাস্টি বা ‘কায়্যুম’ নিয়োগের প্রথা এসবই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।'
তিনি সতর্ক করে বলেন, '২০১৮ সালে প্রবর্তিত রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা কর্তৃত্ববাদের পথ প্রশস্ত করেছে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করেছে।'
শিক্ষাজীবন অনুযায়ী, দাভুতোগলু ১৯৫৯ সালে তুরস্কের মধ্যাঞ্চলীয় শহর কোনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বোসফরাস বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তীতে সেখানে পিএইচডি ডিগ্রিও অর্জন করেন। একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে তিনি অত্যন্ত সমাদৃত ছিলেন এবং ১৯৯০ সালে মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে যুক্ত হন।
২০০২ সালে ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিতে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা হন।
আরও পড়ুন: ছাত্রলীগ সভাপতিকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৭ জন আটক
২০১১ সালে সিরিয়ায় গণঅভ্যুত্থানের পর বাশার আল-আসাদের সরকারের বিরোধী বিদ্রোহীদের সমর্থনে সরকারের নীতি নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
২০১৫ সালের আগস্টে এরদোয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনে অসমর্থতার কথা জানান।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে একেপি থেকে পদত্যাগ করে নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
এরপর ডিসেম্বরে আঙ্কারায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘ফিউচার পার্টি’ চালু করেন; তবে দলটি নির্বাচনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে ব্যর্থ হয়।
আরও পড়ুন: আমস্টারডামে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভে লাখো জনতার অংশগ্রহণ, গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন