১২:৩৩ এম
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া নামের এক বিএনপি নেতাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা করে। এর প্রেক্ষিতে জেলা যুবদল চার যুবদল কর্মীকে তাৎক্ষণিকভাবে সংগঠনের সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে।
এই ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে জেলা পরিষদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের সময়।
ভুক্তভোগী অকিল উদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। হামলায় বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লা থানার এনায়েত নগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদল নেতা মামুন, কাওসার, শ্রী নিতাই ও মো. দেলোয়ার হোসেন। তাদেরকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ পদবী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কুলিয়ারচরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষমেলা, বইমেলা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন আয়োজনের আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সময় অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার সঙ্গে কয়েকজন যুবদল কর্মীর মধ্যে সামনের সারিতে দাঁড়ানোর কারণে বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি তখন উপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতাগণ শান্ত করেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অকিল উদ্দিন যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনিকে উদ্দেশ্য করে 'গত ১৪ বছর কী করেছেন' এমন মন্তব্য করেন। এই ঘটনায় রনি ক্ষুব্ধ হন বলে জানা যায়। পরে রনির অনুসারীগণ বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দুপুর ২টার দিকে অনুষ্ঠান শেষে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি মারলে তার ঠোঁট ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত হন। এই সময় তার পরনের জামাও ছিঁড়ে ফেলা হয়।
ঘটনার পর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলাকারীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপি সন্ত্রাসীদের দল নয়, এখানে কোনো সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।'
আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় বিএনপির উদ্যোগে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত, রাজপথে বিশাল মিছিল
হামলার শিকার অকিল উদ্দিন দাবি করেছেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মশিউর রহমান রনির সঙ্গে তার তর্কবিতর্ক হয়েছিল। তবে সিনিয়র নেতাদের উদ্যোগে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান হয়ে যায়। পরে প্রশাসকের কক্ষ থেকে একসঙ্গে নামার পর রনির অনুসারীরাই তার ওপর হামলা চালায়।
এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, 'জেলা পরিষদের মতো একটি স্থানে যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তারা অন্যায় করেছে। তাই সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে অভিযুক্ত চারজনকে যুবদলের সব ধরনের পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন