০৯:৩২ পি.এম
ঢাকা-১৬ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কর্ণেল (অব.) আব্দুল বাতেনের মতবিনিময় সভায় বাধা ও কর্মী-সমর্থকদের ওপর বিরোধী দলীয় লোকদের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভটি শনিবার বিকেলে মিরপুরের রূপনগর এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিল পূর্ব সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা-১৬ অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সংস্কৃতিকে পদদলিত করে বিএনপির সন্ত্রাসীরা জামায়াতের উপরে হামলা চালিয়ে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এ হামলা ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে।
তিনি ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপিকে নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করে ইতিবাচক রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণ আগামী দিনে তাদের প্রত্যাখান করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। নাসির উদ্দীন তার বক্তব্যে আরো বলেন, হামলা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জামায়াতের কোনো কর্মীকে নিষ্ক্রিয় করা যাবে না। কাউন্সিলর প্রার্থীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে জামায়াতকে থামানো সম্ভব নয়। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, জামায়াত ছাড় দিতে পারে, কিন্তু ন্যায়ের প্রশ্নে পিছিয়ে যায় না। তিনি ক্ষমতাসীনদের সন্ত্রাস ও উস্কানীর রাজনীতি বন্ধ করে আইন ও সাংবিধানিক রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণ ঘরে বসে তামাশা দেখবে না।
আরও পড়ুন: শুধু প্রত্যাবাসন নয়, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে
রূপনগর থানা আমির আবু হানিফের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হাসানুল বান্না চপল, পল্লবী দক্ষিণ থানা আমির আশরাফুল আলম, পল্লবী উত্তর থানা আমির সাইফুল কাদের, পল্লবী মধ্য থানা আমির রইসুল ইসলাম পবন ও ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান প্রমূখ। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি রূপনগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিরপুর-১১ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
সূত্রমতে, গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে রূপনগর এলাকায় ওই হামলায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীসহ অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন জামায়াত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই হামলার ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করে সংসদ সদস্য কর্নেল আব্দুল বাতেন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
শুক্রবারের হামলা প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে এমপি বাতেন বলেন, আমি পল্লবীর ৩নং ওয়ার্ডের একটি মসজিদে জুমার নামাজ পড়ি। সেখান থেকে আমার আসরের নামাজ পড়ার কথা ছিল ‘ট’ ব্লকের মসজিদে। আমি সেখানে যাওয়ার আগেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। আমি যাওয়ার আগে আমার পিএসের মাধ্যমে স্থানীয় ওসিকে অবহিত করি ফোনে এবং লিখিত। কিন্তু ওসিকে দুপুরের আগে পাওয়া যায়নি। দুপুরের পর ওসির সঙ্গে কথা হয় এবং বিষয়টি জানানো হয়। তিনি আমাকে সেখানে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। আমি সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতে বড় কোনো ঘটনা না ঘটুক সেইজন্য বিষয়টি এড়িয়ে চলি।
কিন্তু দেখা গেলো- আমার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করা হলো। সেখানে পুলিশ থাকা সত্ত্বেও কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হয়নি। সেই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপি, ছাত্রদল, কৃষকদল, যুবদলের মহানগরী ও স্থানীয় প্রায় কয়েকশ‘ নেতা কর্মী। তার মধ্যে নেতৃত্ব দিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান মন্টু, নূর সালাম, আলমগীরসহ নেতারা।
আরও পড়ুন: টেকনাফে পাচারের সময় নারীসহ ৯ জনকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ
তিনি আরো বলেন, এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় রূপনগর থানা পুলিশের, তিনি কোনোভাবে এই দায় এড়াতে পারেন না। এমপি বাতেন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক সহমর্মিতা না থাকলে কোনোভাবে এর থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে শনিবার বিবৃতি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন