১০:২৩ এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের পর এখন একটি বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে এবার পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে ইরান। বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার উপর একযোগে বিশাল আক্রমণ করেছে তারা।
ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নৌ এবং বিমান বাহিনী যৌথভাবে এই অপারেশন সম্পন্ন করেছে। এই হামলায় প্রচুর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। আইআরজিসি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানার দাবি করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি তাদের ‘প্রাথমিক জবাব’। এর পূর্বে ইরানের হরমুজগন ও মাহশাহর এলাকার উপকূলীয় ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্টেশনে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইরান এই হামলাকে যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদ চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। এছাড়াও, ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের আড়াল করার জন্য ওয়াশিংটন এই সময়টি বেছে নিয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে রিমার্কের শক্ত অবস্থান, বিশ্ববাজারে যাচ্ছে হাজারো পণ্য
এদিকে, ইরানের বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ এলাকার আকাশে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন ‘এমকিউ-৯’ ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মহবি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমা লঙ্ঘনের জবাবে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়।
মার্কিন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হার্লান উলম্যান আল-জাজিরাকে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। যেকোনো সময় এটি সমগ্র অঞ্চলে একটি বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তবে একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ কোনও পক্ষের জন্যই ভালো হবে না। তাই পরিস্থিতি শান্ত রাখা দুই দেশের স্বার্থের অনুকূলে।
উল্লেখযোগ্য যে, গত ১৮ জুন দুই দেশ একটি যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে সই করেছিল। কিন্তু মাত্র ২০ দিনের মাথায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার ইরানে প্রথম হামলা চালায় আমেরিকা। সেই হামলার পরেই ইরান এই ভয়াবহ পাল্টা জবাব দিল।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: বিশ্ববাসী একদিন বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন