১০:৩৩ এম
মানুষের জীবনের শেষ সত্য—মৃত্যু। এই মৃত্যুকে ঘিরে যদি কোন প্রশ্ন উঠে তাহলেই তার কারণ জানার জন্য প্রয়োজন হয় ময়নাতদন্তের। কিন্তু অভিযোগ উঠে এসেছে রাজধানীর সবচেয়ে বড় সরকারি মর্গ ঢাকা মেডিকেল কলেজকে ঘিরে। সেখানে ময়নাতদন্ত যেন হয়ে গেছে ‘প্যাকেজ সিস্টেম’ হিসেবে।
প্রতিদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর মরদেহ আসে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে। আইন অনুযায়ী, ময়নাতদন্ত একটি সরকারি প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো প্রকার অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত পরিচালিত হচ্ছে ‘প্যাকেজ সিস্টেমে’। এই সিস্টেমের আওতায় রয়েছে মরদেহে গোসল করানো, কাফন, কফিন এবং পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। আর এই সার্ভিসের শুরুর মূল্য হলো ২০ হাজার টাকা। দরকষাকষির মাধ্যমে এই প্যাকেজের মূল্য ১৫-১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত কমে আসতে পারে।
অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি তিন সদস্যের সিন্ডিকেট। যার নেপথ্যে রয়েছে সেকান্দার নামে একজন ব্যক্তি, যিনি একসময় মর্গের ইনচার্জ ছিলেন। সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী, ৩২ বছর চাকরি শেষ করার পরও তিনি নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে মর্গের রাজত্ব ছাড়েননি।
আরও পড়ুন: যুগে যুগে এমপি-মন্ত্রী আসবেন, একজন নজরুলের জন্ম হবে না: জহির উদ্দিন স্বপন
বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সরকারি নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে কাজ করছেন সেকান্দরের আপন ভাই বাবুল এবং রামু। বাবুল হাসপাতালের অফিস সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তবে বেশিরভাগ সময় তিনি মেডিকেলের মর্গে বসে থাকেন। এই সিন্ডিকেটে নারী-পুরুষসহ আরও অন্তত ৭-৮ জন বহিরাগত সদস্য রয়েছে, যারা সহযোগিতার নামে ভুক্তভোগী স্বজনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেন।
একদিকে আপনজনের মৃত্যু শোকে ভুগছেন স্বজনরা, অন্যদিকে মর্গে এসে আর্থিক চাপ সহ্য করতে হয়। এ যেন দিশেহারা অবস্থায় রয়েছে পরিবারের সদস্যরা।
তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মমতাজ আরা বলেছেন, ময়নাতদন্তের জন্য কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি মর্গকে ঘিরে এই অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতেন না।
রাজধানীর সলিমুল্লাহ মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গেরও একই দশা। এখানে শ্যামল নামে এক ব্যক্তি আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত। মর্গে অরাজকতার বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং ফরেনসিক বিভাগের প্রধানের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় দেয়ালে ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান লিখলেন নারী শিক্ষার্থীরা, ভিডিও ভাইরাল
ময়নাতদন্ত একটি স্পর্শকাতর বিষয়, কিন্তু এই বিভাগের তদারকি নেই। ফলে ময়নাতদন্তের জন্য আসলে স্বজনরা হয়রানির শিকার হন। অন্যদিকে, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে গড়মিল হলে তা ন্যায়বিচারে বাঁধা তৈরি করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন