প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং এলাকায় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন যুব সমাজ এই মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানাচ্ছেন, সম্প্রতি এক কিশোরকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে এলাকার কয়েকজন যুবক সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু পরে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি উল্টো তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। বক্তারা আশঙ্কা করছেন, এতে অপরাধ প্রতিরোধে এগিয়ে আসা সাধারণ মানুষ নিরুৎসাহিত হবে।
তাদের বক্তব্য, যদি মামলা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়, তবে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যাবে না। তাই, সুষ্ঠু তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বক্তারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, মেরুং এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক, যৌন অপরাধ ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং এক কিশোরকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় এলাকাবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেছেন, মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করাটা অত্যাবশ্যক। তাঁরা আরও দাবি করেছেন, মাদক ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে সচেতন যুব সমাজের পক্ষ থেকে কিছু দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা প্রদান, যুবকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রত্যাহার, মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পুনঃতদন্ত এবং মেরুং এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করা।
সংবাদ সম্মেলনে মেরুং এলাকার সচেতন যুব সমাজ জানাচ্ছে, তারা আইনের শাসনে বিশ্বাসী এবং কোনো অপরাধীকে রক্ষা করার পক্ষে নন। তবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন