০১:৫৯ পি.এম
গাজায় বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরুর পর, চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা ইসরায়েলি নাগরিকদের দেশ ত্যাগের প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ফলস্বরূপ লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন ও ইরানে বেড়ে চলা সামরিক সংঘাতের জেরে, হাজার হাজার ইসরায়েলিরা বাধ্য হয়ে নিজ নিজ ভিটেমাটি ছেড়ে বিদেশে পালাচ্ছেন।
তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায়, যা ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ‘ইয়েদিওত আহরোনোত’–এ প্রকাশিত হয়েছে, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশ ছাড়ার এই প্রবণতা রেকর্ড গতিতে বাড়ছে।
সমীক্ষার তথ্যমতে, গত তিন বছরে প্রায় ২ লাখ ৬৮ হাজার ইসরায়েলি স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৮৬ হাজার ৫০৯ জন, ২০২৪ সালে ৯১ হাজার ৪৯৯ জন এবং ২০২৫ সালে ৯০ হাজার ৯২২ জন নাগরিক দেশ ত্যাগ করেছেন, যারা টানা অন্তত তিন মাস বা তার বেশি সময় ধরে দেশে ফেরেনি।
আরও পড়ুন: জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ
গবেষণাটি দেখিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে, ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত, যেখানে বছরে গড়ে ৬০ হাজারের মতো মানুষ ইসরায়েল ছাড়তেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই চিত্রকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। বর্তমানে প্রতিবছর গড়ে অন্তত ৯০ হাজার মানুষ পালাচ্ছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া নাগরিকদের একটি বড় অংশ উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবী। চিকিৎসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, প্রকৌশলী এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা বেশি হারে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। ইসরায়েলের মেধাভিত্তিক অর্থনীতি এর ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোলার স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ইতাই আতের এই গণহারে দেশত্যাগের ঘটনাকে ‘গভীর সংকট’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। যুদ্ধ যখন দীর্ঘায়িত হচ্ছে, তখন নিরাপত্তার আশায় পালিয়ে যাওয়া এসব নাগরিকদের নিকট ভবিষ্যতে নিজ দেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে এক গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে বিজিএমইএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন