০৫:৩৮ পি.এম
রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে উচ্চ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ৯ দফা নির্দেশনার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলোর তথ্য জানাতে হাইকোর্ট দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আদালতে বিস্তারিত হলফনামা আকারে এ বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলো দাখিল করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য আদালত আগামী ১৬ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) এ বিষয়ে শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ জারি করেন।
আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, যিনি আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডলের সহযোগিতা গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের সময়ের মতো রাতে দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসে: এনসিপি
আদালতের এই নির্দেশনার মাধ্যমে ২০২০ সালে ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রদত্ত ৯ দফা নির্দেশনার বাস্তবায়নের অগ্রগতি পুনরায় পর্যালোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হলো।
২০২০ সালে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) দায়ের করা এক জনস্বার্থমূলক রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৯ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন।
এই নির্দেশনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পানি ছিটানো, বালু পরিবহনের ট্রাক ঢেকে রাখা, নির্মাণকাজের স্থান ঘিরে রাখা, বিভিন্ন মার্কেটের বর্জ্য নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাগে ভরে অপসারণ এবং ঢাকার আশপাশের অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করার নির্দেশনা।
এইচআরপিবির পক্ষে করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত পূর্বে ৯ দফা নির্দেশনার বাস্তবায়নে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। নির্দেশনা পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসককেও আদালতে তলব করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সরকারের প্রতিক্রিয়া জানালেন শামা ওবায়েদ
শুনানিতে আজ এইচআরপিবির পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ উল্লেখ করেন, ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বর্তমানে ঢাকায় বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। এর ফলে নগরবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।
রিটের আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন এইচআরপিবির পক্ষে আইনজীবী মো. সারোয়ার আহাদ চৌধুরী এবং রিপন বাড়ৈ। বিবাদীদের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে গণমাধ্যমে ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এ রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে একই বছরের ২৮ জানুয়ারি আদালত রুলসহ আদেশ প্রদান করেন।
আদেশে এসব ইটভাটা বন্ধ করতে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে বলা হয়। পাশাপাশি ঢাকায় বায়ুদূষণের কারণ এবং দূষণরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পরিবেশ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটিকে পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে এনজিওর মামলায় গৃহবধূ ফাতেমা জামিনে মুক্ত
এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রাজধানীতে বায়ুদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে সম্পূরক আবেদন করেন এইচআরপিবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন