প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কেশবপুরের আমন ক্ষেতে ভাইরাসের আক্রমণের ফলে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। কেশবপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে উপজেলায় ৭ হাজার ৭১ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ রেকর্ড করা হয়েছে, যদিও বেসরকারি হিসাবে আবাদের পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ৫০ শতাংশ জমির আমন ক্ষেতের ধানে পাক ধরেছে। এসব জমির প্রায় সবখানে ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইটের কারণে ধানের শিষ শুকিয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে। তবে জমিতে গান্ধি পোকার আক্রমণও থাকতে পারে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল মামুন দাবি করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গান্ধি পোকার আক্রমণ থাকলে ক্লোরপাইরিফস গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার করা উচিত।
তিনি আরও জানান, Burkholderia glumae নামক একটি ব্যাকটেরিয়া এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে এ রোগের সৃষ্টি হয়। ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট ব্যাকটেরিয়া জনিত দানা পঁচা রোগ বা দানা ঝলসানো রোগ নামেও পরিচিত। এই ব্যাকটেরিয়া হলুদ পিগমেন্টেড বিষাক্ত টক্সোফ্লাভিন উপাদান নিঃসৃত করে, ফলে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসের আর্দ্রতা ৮০ শতাংশের ওপরে, খুব ঘন আকারে চারা রোপণ এবং অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার এ রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়িয়ে দেয়। ধানের শিষ বের হওয়ার সময় ও দানা গঠনের সময় কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
শিষের ছোট ছোট ধানগুলো সঠিকভাবে দানা বাঁধতে পারে না এবং চিটা হয়ে যায়; তবে শিষের সব দানা চিটা হয় না। আক্রান্ত ধানের দানাগুলো ধূসর, কালো বা গোলাপি বর্ণ ধারণ করে। শিষে চিটা হওয়ার ফলে ওজন না থাকায় শিষগুলো খাড়া হয়ে থাকে। সংক্রমিত শিষের নিচের অংশ সবুজ থাকে। মাঝে মাঝে খোলপচা বা চারা ঝলসানো রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ব্যাকটেরিয়াগুলো ধানগাছের পাতা এবং খোলে অবস্থান করে এবং তারা প্রতিকূল পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে। ধানগাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে ব্যাকটেরিয়াগুলো গাছের ওপরের দিকে উঠতে থাকে। ব্যাকটেরিয়াটি ধানের শিষ বের হওয়ার সাথে সাথে সেখানে আক্রমণ করে ফুলের রেণুগুলো নষ্ট করে, ফলে ধানের দানাগুলো চিটায় পরিণত হয়। ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট সাধারণত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। যখন দিনের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে এবং রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকে, তখন এই ধরনের আবহাওয়া রোগটির ছড়ানোর জন্য উপযুক্ত। অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ব্যবহারও রোগটির বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট একটি বীজবাহিত রোগ। রোগাক্রান্ত বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে আবাদের ফলে নিয়ন্ত্রণের বাস্তবসম্মত কোনো উপায় নেই।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি যেমন বীজ বপনের পূর্বে তা শোধন করা, আদর্শ বীজতলায় বীজ বপন, সঠিক বয়সের চারা রোপণ, রোপণের সময় লাইন ও লোগো পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং সঠিক মাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহার করা প্রয়োজন। থিরাম ৩৫এসসি দিয়ে বীজ শোধন করে বীজ বপন করতে হবে। জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার (যেমন—ভার্মি কম্পোস্ট, ট্রাইকো কম্পোস্ট, কুইক কম্পোস্ট, খামারজাত সার, মুরগির লিটার ইত্যাদি) ব্যবহার করা এবং অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার না করা উচিত। আক্রমণপ্রবণ এলাকায় থোর অবস্থায় একবার ডিএপি দ্রবণ স্প্রে করা এবং থোর অবস্থায় জমিতে পানি ধরে রেখে ১০ লিটার পানিতে ৬০ গ্রাম পটাশ সার, ৩০ গ্রাম সালফার ৮০% এবং ৩ গ্রাম চিলেটেড জিংক একত্রে মিশিয়ে গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। কৃষকদের এ বিষয়ে পরামর্শ দিতে মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
এদিকে, মাঠপর্যায়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কৃষকদের যোগাযোগ নেই বলে একাধিক কৃষক অভিযোগ করেছেন। তাঁরা জানান, বিভিন্ন পেস্টিসাইড কোম্পানির প্রতিনিধিরাই কৃষকের শেষ ভরসা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন