ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী


জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, টিভিইটি (কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ)-এর বিকল্প নেই দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের জন্য শুধু গতানুগতিক শিক্ষা গ্রহণের ধারণা থেকে বের হয়ে আসাটা অপরিহার্য।

তিনি আজ রোববার রাজধানীর সোবহানবাগে ‘দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশের লক্ষ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: খেলাফত আন্দোলনের আহ্বান: জননিরাপত্তা জোরদার করতে সরকারের কাছে দাবি

মন্ত্রী আরো বলেন, একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে মানব সম্পদে পরিণত করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এই কারণে আমরা কারিগরি শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।

তিনি জানান, পৃথিবীতে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ ব্যক্তিদের জন্য প্রচুর চাহিদা রয়েছে। প্রবাসী কর্মীরা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। যদি আমরা তাদেরকে দক্ষ করে বিদেশে পাঠাতে পারি, তাহলে আমাদের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। তাই কারিগরি শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে আরও ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে আমরা একটি মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য আলাদা একটি প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. মো. তরিকুল ইসলাম চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন: ভাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আম পাড়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, যুবককে যাবজ্জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


আম পাড়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, যুবককে যাবজ্জীবন

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের নূরপাদ্দি এলাকায় আম পাড়াকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আবুল হোসেন (৬০) নামের একজন বৃদ্ধকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার সঙ্গে জড়িত যুবক মোজাম্মেল হক ওরফে বাবু (৩৫) কে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে। বিচারক ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডও প্রদান করেছেন।

রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ ষষ্ঠ আদালত নাহিদ নিয়াজী আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেছেন। নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মোজাম্মেল হক, যিনি বাবু নামে পরিচিত, বন্দরের নূরপাদ্দি এলাকার মোস্তফার ছেলে। নিহত আবুল হোসেন চৌধুরীবাড়ি এলাকার মৃত কফু মিয়ার ছেলেকে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি পরিবার নিয়ে বন্দরের নূরপাদ্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।

ইতিমধ্যে আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট কে এ এম টুটুল চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘আবুল হোসেন পরিবারের সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। ২০১৯ সালের ১২ মে সকালে গাছ থেকে আম পাড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে আবুল হোসেনের ঝগড়া হয়। পরিস্থিতি উত্তেজিত হলে আবুল হোসেনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই ঘটনায় নিহতের ছেলে কাজল মিয়া বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। আদালত সেই মামলায় রায় ঘোষণা করেছে এবং মামলার রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাটোরে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে উন্মুক্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪২ পি.এম


নাটোরে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে উন্মুক্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত

নাটোর, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : জেলায় আজ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন কার্যক্রমের বিষয় নিয়ে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে একটি উন্মুক্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ রোববার জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল জলিল।

জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. আ. আওয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সংগীত) তাসলিমা আক্তার এবং জোয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী আকবর।

গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল জলিল বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন্য কাজ করছে। পাশাপাশি নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিস্তারে পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এ বিষয়ে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও সচেতন নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সংগীত দল বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন বিষয় এবং জনগণের করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিষয়ভিত্তিক উদ্বুদ্ধকরণ সংগীত পরিবেশন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশু নন্দিনী হত্যা: ৬ কর্মদিবসেই প্রধান আসামির ফাঁসি, বাবা-মায়ের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


শিশু নন্দিনী হত্যা: ৬ কর্মদিবসেই প্রধান আসামির ফাঁসি, বাবা-মায়ের কারাদণ্ড

লালমনিরহাটের আদি এলাকার চাঞ্চল্যকর ৭ বছরের শিশু নন্দিনী হত্যা মামলার রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই মামলার প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে আদালতের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সাথে, হত্যাকাণ্ডের সহায়তার কারণে বিধানের মা মমতা রানী ও বাবা রনজিত কুমারকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাদের প্রত্যেককেই আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী এই রায় ঘোষণা করেন। এই চাঞ্চল্যকর মামলার চার্জশিট গঠনের মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকাজ পরিচালিত হওয়ায় নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় জনগণ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র এবং তার বাবা-মা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৬ জুন বিকেল থেকে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী নিখোঁজ হয়ে যায়। সারারাত খোঁজাখুঁজির পর পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতে নরম মাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করেন।

এই নিষ্ঠুর হত্যা ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিবার থেকে অভিযোগ দেওয়া হলে প্রধান অভিযুক্ত বিধান চন্দ্রকে আটক করার চেষ্টা করার সময়, বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের প্রচণ্ড সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পরে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক তাদের বহরে হামলা চালানো হয় এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এই সময়ে সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।

আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত নন্দিনীর বাবা ও মামলার বাদী শ্রী নলনী মোহন বর্মন। তিনি বলেন, ‘যারা আমার মামলা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাহায্য করেছেন, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থাকেও ধন্যবাদ। আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট, তবে আমার একমাত্র দাবি হলো, দ্রুত যেন এই রায় কার্যকর করা হয়।’

দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রেজা স্বপন বলেন, ‘এটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত একটি মামলা ছিল। পুলিশ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবার সহযোগিতায় দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়েছে। আমরা চার্জশিট পাওয়ার পর মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বিজ্ঞ আদালত এই রায় দিয়েছেন। প্রথম আসামির মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করতে বলেছেন আদালত। লালমনিরহাট জেলায় এত দ্রুত কোনো আলোচিত মামলার রায় হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা সংকট ১০ বছর পেরিয়ে ২০ বছরে গড়াতে দেওয়া যাবে না: শামা ওবায়েদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ পি.এম


রোহিঙ্গা সংকট ১০ বছর পেরিয়ে ২০ বছরে গড়াতে দেওয়া যাবে না: শামা ওবায়েদ

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার সংকট দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি এই সংকটের ১০ বছরকে কোনোভাবেই ২০ বছরে পরিণত হতে দেয়া যাবে না বলে উল্লেখ করেছেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর লেক শোর হোটেলে ‘রোহিঙ্গা সংকটের এক দশক: মানবিক প্রতিক্রিয়া থেকে টেকসই সমাধান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিকাব) ও অক্সফাম যৌথভাবে সেমিনারের আয়োজন করে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১০ বছর একটি সরকারের জন্য একটি নীতিগত চক্র হলেও শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর কাছে এটি তার পুরো শৈশব, একজন তরুণের কাছে হারিয়ে যাওয়া শিক্ষা এবং একটি পরিবারের কাছে ঘরছাড়া জীবনের এক দশক। আমরা কিছুতেই এই ১০ বছরকে ২০ বছরে পরিণত হতে দিতে পারি না।’

তিনি আরো বলেন, ২০১৭ সালের ব্যাপক অনুপ্রবেশের পর বাংলাদেশ সীমান্ত ও হৃদয় উন্মুক্ত করে ১২ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কাজ করছে মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে।

তবে, বাংলাদেশ এমন একটি সংকটের চূড়ান্ত সমাধান করতে পারে না, যে সংকট বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি—এটি উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। তাই, এর টেকসই সমাধানও চূড়ান্তভাবে মিয়ানমারেই খুঁজে বের করতে হবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। এটি শুধু একটি কূটনৈতিক পথ নয়, বরং সামনে এগোনোর একমাত্র টেকসই উপায়। রোহিঙ্গারাও বারবার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তাই তাদের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে ২০১৭ সালের পর রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরে জন্ম নেয়া শিশুদেরও যাচাই প্রক্রিয়ার আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

মানবিক সহায়তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান) সংকুচিত হলেও রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন কমেনি। খাদ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন, শিক্ষা ও সুরক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়; এগুলো জীবন রক্ষার অপরিহার্য উপাদান।

কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে স্থানীয় জনগণ জমি, সম্পদ, পরিবেশ ও জনসেবার ওপর বাড়তি চাপ সহ্য করছে। তাই, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তাকেও মানবিক কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয়, জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, টেকসই কূটনীতি, নিশ্চিত অর্থায়ন ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন।

শামা ওবায়েদ রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক আলোচনায় ধরে রাখতে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সেমিনারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। এ বিষয়ে ভুল তথ্য প্রচারের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে যাচাই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, ঢাকার চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউয়িন, আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম্ব বন্ডে প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%