প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লালমনিরহাটের আদি এলাকার চাঞ্চল্যকর ৭ বছরের শিশু নন্দিনী হত্যা মামলার রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই মামলার প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে আদালতের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সাথে, হত্যাকাণ্ডের সহায়তার কারণে বিধানের মা মমতা রানী ও বাবা রনজিত কুমারকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাদের প্রত্যেককেই আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী এই রায় ঘোষণা করেন। এই চাঞ্চল্যকর মামলার চার্জশিট গঠনের মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকাজ পরিচালিত হওয়ায় নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় জনগণ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র এবং তার বাবা-মা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৬ জুন বিকেল থেকে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী নিখোঁজ হয়ে যায়। সারারাত খোঁজাখুঁজির পর পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতে নরম মাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করেন।
এই নিষ্ঠুর হত্যা ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিবার থেকে অভিযোগ দেওয়া হলে প্রধান অভিযুক্ত বিধান চন্দ্রকে আটক করার চেষ্টা করার সময়, বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের প্রচণ্ড সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পরে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক তাদের বহরে হামলা চালানো হয় এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এই সময়ে সংঘর্ষে অন্তত ১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।
আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত নন্দিনীর বাবা ও মামলার বাদী শ্রী নলনী মোহন বর্মন। তিনি বলেন, ‘যারা আমার মামলা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাহায্য করেছেন, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থাকেও ধন্যবাদ। আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট, তবে আমার একমাত্র দাবি হলো, দ্রুত যেন এই রায় কার্যকর করা হয়।’
দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রেজা স্বপন বলেন, ‘এটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত একটি মামলা ছিল। পুলিশ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবার সহযোগিতায় দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়েছে। আমরা চার্জশিট পাওয়ার পর মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে বিজ্ঞ আদালত এই রায় দিয়েছেন। প্রথম আসামির মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করতে বলেছেন আদালত। লালমনিরহাট জেলায় এত দ্রুত কোনো আলোচিত মামলার রায় হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন