০১:২২ এম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘খুনি ও ধর্ষক প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে একদল শিক্ষার্থী মৌন মিছিল ও প্রদীপ প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেছেন। রবিবার (২ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে একটি মৌন মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়, সেখানে শিক্ষার্থীরা প্রদীপ প্রজ্বালন করেন। এরপর সংক্ষিপ্ত সমাবেশ এবং প্রতিবাদী গান পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি প্রমা রাহা বলেন, ১৯৯৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘তৎকালীন আন্দোলনে ধর্ষণের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছিল। সেই আন্দোলনে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল।’
আরও পড়ুন: ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশনকৃত শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষার নিবন্ধন শুরু
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আজও ক্যাম্পাসে নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে। প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের এই মৌন মিছিল নীরবতা নয়, বরং ভেতরের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রতীক। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রতিবাদের শক্তি ধর্ষক, তাদের সহযোগী এবং অন্যায়ের পক্ষে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে বার্তা পৌঁছে দেবে।’
জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সেমন্তী রোদসী বলেন, ২৭ বছর আগে এই দিনে ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচার নিশ্চিত হয়েছিল। তিনি মন্তব্য করেন, ‘সাম্প্রতিক সময়েও ক্যাম্পাসে নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আন্দোলন-সংগ্রাম হওয়ার পরও এখনো বিচার নিশ্চিত হয়নি। এর জন্য প্রশাসনের গাফিলতি যেমন দায়ী, তেমনি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি ঐক্যের অভাবও একটি কারণ।’
তিনি আরো বলেন, ‘গান, কবিতা কিংবা সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সবাইকে একত্রিত থেকে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব।’
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, ১৯৯৯ সালের আন্দোলন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একটি মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তিনি বলেন, ‘আজ ২৭ বছর পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণ, নিপীড়ন ও বিচারহীনতার অভিযোগ রয়েছে। এই বাস্তবতায় জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে আমরা মৌন মিছিল ও প্রদীপ প্রজ্বালনের আয়োজন করেছি। সংস্কৃতির ভাষায় আমরা সব ধরনের অন্যায়, অবিচার, ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকব।’
আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভেঙে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলেন স্বজন-সমর্থকেরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন