ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

শীতলীকরণের বিকল্প প্রযুক্তির সন্ধানে সিঙ্গাপুর


শীতলীকরণের বিকল্প প্রযুক্তির সন্ধানে সিঙ্গাপুর

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : সিঙ্গাপুর, যেটি ‘শীতাতপনিয়ন্ত্রিত দেশ’ হিসেবে পরিচিত, বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী শীতলীকরণ ব্যবস্থার বিকল্প খুঁজতে বিভিন্ন প্রযুক্তির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। এই প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে শীতলীকরণ কয়েলযুক্ত বিম, প্রাকৃতিক বায়ুপ্রবাহনির্ভর শীতলীকরণ এবং অন্যান্য প্রযুক্তি, যেগুলোর উদ্দেশ্য হলো বিদ্যুৎ-নিবিড় এয়ার কন্ডিশনারের ওপর নির্ভরতা কমানো।

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুরে মাথাপিছু এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের হার সর্বাধিক। দেশটির প্রায় ৯৯ শতাংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন আবাসিক ভবনে শীতাতপনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা বিদ্যমান।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের মোট কার্বন নিঃসরণের এক-পঞ্চমাংশের জন্য স্থানীয় ভবন খাত দায়ী। অন্যদিকে, একটি ভবনের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ ব্যয় হয় শীতলীকরণে।

আরও পড়ুন: ‘সংবিধানের চেয়ে বড় নন মোদি-শাহ’, দিল্লির সমাবেশে রাহুল গান্ধী

শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর দেশের নির্ভরতার চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে বিখ্যাত অর্চার্ড রোড ধরে হাঁটার সময়। দোকানের দরজা খুললেই ভেতরের শীতল বাতাস রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে, যা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে। সিঙ্গাপুরে সারা বছর দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, ফলে এই শীতল বাতাস বিশেষ স্বস্তি প্রদান করে।

তবে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ফলে তাপের সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। যন্ত্রের কম্প্রেসর থেকে নির্গত গরম বাতাস পরিবেশের তাপমাত্রা বাড়ায়। এ ছাড়া, এসব যন্ত্র চালাতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ যদি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উৎপন্ন হয়, তবে তা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তি

সিঙ্গাপুরের কিছু ভবনে প্রচলিত এয়ার কন্ডিশনারের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো ‘অ্যাকটিভ চিলড বিম’ (এসিবি)। এই প্রযুক্তিতে ছিদ্রযুক্ত প্যানেলের মধ্যে শীতলীকরণ কয়েল থাকে, যা ভবনের ছাদে স্থাপন করা হয়।

আরও পড়ুন: লন্ডনের মেয়র সাদিক খান তুরস্ক সফরে গিয়ে আয়া সোফিয়ায় নামাজ পড়তে চান

ভবনের ওপরের তলায় অবস্থিত একটি শীতলীকরণ কেন্দ্রে পানি ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঠান্ডা করা হয়। এরপর পাম্পের মাধ্যমে সেই পানি কয়েলের মধ্যে প্রবাহিত করা হয়। একই সময়ে বিমের ভেতরে থাকা ছোট ছোট নজলের মাধ্যমে বাতাস প্রবাহিত করা হয়।

এই বায়ুপ্রবাহের ফলে নিম্নচাপের একটি অঞ্চল তৈরি হয়, যা নিচের কক্ষের অপেক্ষাকৃত উষ্ণ বাতাসকে টেনে নেয়। বাতাসটি শীতলীকরণ কয়েলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ঠান্ডা হয়ে যায় এবং পরে আবার কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আটতলা ‘পায়া লেবার গ্রিন’ ভবনের অফিসকক্ষের তাপমাত্রা আরামদায়ক ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা হয়। ভবনটিকে সিঙ্গাপুরের অন্যতম পরিবেশবান্ধব স্থাপনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

এএফপির একটি প্রতিনিধি দল ভবনটি পরিদর্শনকালে ছাদের মসৃণ সাদা প্যানেলগুলো থেকে প্রবাহিত শীতল বাতাস অনুভব করে। প্রচলিত এয়ার কন্ডিশনারের মতো একটানা যান্ত্রিক শব্দও এ ব্যবস্থায় শোনা যায় না।

আরও পড়ুন: হরমুজ স্বাভাবিক না হলে ভিন্ন পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

মানবসম্পদ পেশাজীবী রেনুগা শেখর গত বছরের নভেম্বরে পায়া লেবার গ্রিনের একটি অফিসে কাজ শুরু করেন। ৩০ বছর বয়সী রেনুগা ও তাঁর সহকর্মীরা প্রথমে ছাদের খোলা পাইপ ও প্যানেল দেখে ভেবেছিলেন, জায়গাটির সাজসজ্জা অনেকটা গুদামের মতো।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে তেমন কিছু ভাবিনি। কেউ এ নিয়ে মন্তব্যও করেননি।’

কয়েক মাস পর তারা অফিসের অস্বাভাবিক নীরবতা লক্ষ করেন। রক্ষণাবেক্ষণের সময় প্রযুক্তিবিদদের মুখে ‘এসিবি’ শব্দটি শোনার পর তারা জানতে পারেন, অফিসটি অ্যাকটিভ চিলড বিম প্রযুক্তিতে ঠান্ডা রাখা হয়।

রেনুগা বলেন, ‘শীতলীকরণ ব্যবস্থাটি এতটাই স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন ছিল যে, এটি কতটা ভিন্ন, তা আমরা বুঝতেই পারিনি। তাপমাত্রাও অফিসের সবার জন্য আদর্শ।’

আরও পড়ুন: ইরান দিল দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের হুমকি: ট্রাম্পের হাতে থাকবে না নিয়ন্ত্রণ

ভবনটির নকশাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি আর্কিটেক্টসের তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত এয়ার কন্ডিশনারের তুলনায় এই ব্যবস্থা ৩০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে।

সিঙ্গাপুরের পশ্চিমাঞ্চলের তুয়াস বন্দরে বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি রক্ষণাবেক্ষণ ভবনেও বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে রয়েছে ‘প্যাসিভ ডিসপ্লেসমেন্ট কুলিং’ ব্যবস্থা, যা যান্ত্রিক পাখার ওপর নির্ভরতা কমাতে প্রাকৃতিক বায়ুপ্রবাহকে কাজে লাগায়।

এ ব্যবস্থায় ছাদের শীতলীকরণ কয়েল বাতাসকে ঠান্ডা করে। ঠান্ডা বাতাস নিচে নেমে আসে এবং উষ্ণ হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই আবার ওপরে উঠে কয়েলের কাছে পৌঁছায়।

এভাবে চলমান বায়ুপ্রবাহের চক্র তৈরি হয়, যা পাখার প্রয়োজন কমিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি শব্দদূষণও হ্রাস করে।

আরও পড়ুন: মণিপুরে বিক্ষোভে উত্তাল, ভয়াবহ সংঘাতে নিহত ৫

মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি

শীতলীকরণের আরেকটি বিকল্প হলো ‘রেডিয়েন্ট কুলিং’। এ ব্যবস্থায় ১৪ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ঠান্ডা করা পানি পাইপ বা প্যানেলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর ফলে মানুষ ও বিভিন্ন বস্তু থেকে বিকিরিত তাপ শোষিত হয় এবং আশপাশের তাপমাত্রা কমে আসে।

শীতলীকরণের বিকল্প প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহারের উদ্যোগে সরকারেরও সমর্থন রয়েছে।

২০২৪ সালে সরকারের এক গবেষণায় বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তিকে (এসিটি) গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় বলা হয়, এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে শীতলীকরণ খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার সর্বোচ্চ ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা খারিজ

দেশটির ভবন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অন্তত ৩৩টি সরকারি ও ১৪টি বেসরকারি ভবনে বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তি গ্রহণ করা হয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে নিট-শূন্য কার্বন নিঃসরণ অর্জনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য রয়েছে সিঙ্গাপুরের।

তবে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো তুলনামূলকভাবে সীমিত। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে অভ্যস্ত মানুষের কাছে বিকল্প ব্যবস্থাগুলো গ্রহণযোগ্য করে তোলাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তির সমর্থকেরা স্বীকার করেন, প্রচলিত এয়ার কন্ডিশনারের তুলনায় এসব ব্যবস্থা স্থাপনে বেশি খরচ হয়। তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কারণে পরিচালন ব্যয় অনেক কম হওয়ায় দীর্ঘ মেয়াদে প্রাথমিক বিনিয়োগের চেয়ে বেশি সাশ্রয় সম্ভব বলে তাঁরা মনে করেন।

বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিকল্প হলো হাইব্রিড কুলিং। এতে এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ৫ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রেখে সঙ্গে পাখা ব্যবহার করা হয়।

ডিপি আর্কিটেক্টসের পরিচালক চুয়া জি জুন বলেন, ‘সবাই শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অফিসে কাজ করতে বেশি অভ্যস্ত। তাই হঠাৎ করে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মেনে নেওয়ার মতো মানসিক পরিবর্তন এখনো সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্যতার পর্যায়ে পৌঁছায়নি।’

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বাড়তে থাকায় শীতলীকরণের চাহিদাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রচলিত এয়ার কন্ডিশনারে বাষ্প-সংকোচন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এতে রেফ্রিজারেন্টের সাহায্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তাপ সরিয়ে নেওয়া হয়।

বিকল্প শীতলীকরণ প্রযুক্তিও একই মৌলিক নীতির ওপর কাজ করে। তবে এসব প্রযুক্তিতে ঠান্ডা বাতাস সরাতে কম বিদ্যুৎ ব্যয় করা হয় অথবা কিছুটা বেশি তাপমাত্রার সঙ্গে মানুষের মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে যন্ত্র চালানোর সময় কমানো হয়।

নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির শীতলীকরণ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ওয়ান ম্যান পুন বলেন, ‘প্রযুক্তিগুলো সঠিক পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার প্রতিনিধিত্ব করে। ভবিষ্যতে এতে আরও উন্নত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যুক্ত করা উচিত, যার মধ্যে পূর্বাভাসভিত্তিক ব্যবস্থাও থাকবে। কক্ষ অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা হওয়ার আগেই এসব ব্যবস্থা তাপমাত্রা সমন্বয় করতে পারবে।’

তবে তিনি বলেন, ‘বাষ্প-সংকোচন প্রযুক্তির তুলনায় বেশি কার্যক্ষমতা বা দক্ষতা রয়েছে—এমন কোনো বিকল্প শীতলীকরণ পদ্ধতি আমরা এখনো খুঁজে পাইনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৬ পি.এম


দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের। রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান, মিজানুর রহমানসহ অন্যান্যরা তার জামিনের জন্য আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই আবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে।

জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। কেবল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করার জন্য তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ৭৫ বছর বয়সী এই বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জটিল হৃদরোগে ভুগছেন। তার স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে এবং জামিন পেলে তিনি আত্মগোপন বা এলাকা ত্যাগ করবেন না। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আসামির প্রথম স্ত্রী আপসের শর্তে জামিন পেয়েছেন। ফলে সহ-শর্তে আসামি জামিন পাওয়ার অধিকারী।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এমপি নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদার জামিন আবেদন ঢাকার একটি আদালত মঞ্জুর করে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

এর পরের দিন শেরেবাংলানগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন ও মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর এই মামলায় গ্রেপ্তার ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাচোলে জাতীয় যুব দিবস পালিত, যুব ঋণের চেক প্রদান ফজলে এলাহীকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৬ পি.এম


নাচোলে জাতীয় যুব দিবস পালিত, যুব ঋণের চেক প্রদান ফজলে এলাহীকে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে জাতীয় যুব দিবস বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করা হয়েছে, যা সারাদেশের সাথে সঙ্গতি রেখে অনুষ্ঠিত হয়।

রোববার উপজেলা প্রশাসন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি শুরু হয়। র‍্যালিতে উপজেলা প্রশাসন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, যুব সমিতির সদস্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। র‍্যালিটি পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসে মিলিত হয়।

আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দাস। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমান। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন, নেজামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল হক, সফল যুব উদ্যোক্তা ফাইজুর কবির, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মোবারক হোসেন এবং পৌর জামায়াতের সেক্রেটারী খলিলুর রহমান।

আলোচনা শেষে যুব আত্মকর্মী ফজলে এলাহীকে দেড় লাখ টাকার যুব ঋণের চেক প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাফলং ও রাতারগুল: সিলেটের বৈচিত্র্যময় পর্যটন কেন্দ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৭ পি.এম


জাফলং ও রাতারগুল: সিলেটের বৈচিত্র্যময় পর্যটন কেন্দ্র

সিলেটের প্রকৃতি, ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি মিলিয়ে গড়ে উঠেছে বৈচিত্র্যময় এক পর্যটনভূমি। পাহাড় বেয়ে নেমে আসা স্বচ্ছ পানির ধারা, পাথরে ছাওয়া নদী, দিগন্তজোড়া চা-বাগান ও বর্ষায় পানিতে ডুবে থাকা রাতারগুলের বনভূমি প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটককে আকর্ষণ করে। এর সঙ্গে রয়েছে সুফি-সাধকদের স্মৃতি, ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপনা ও শত বছরের ইতিহাস।

বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের তালিকায়ও জাফলং, লালাখাল, রাতারগুল, বিছনাকান্দি এবং শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার সিলেটের উল্লেখযোগ্য পর্যটন গন্তব্য হিসেবে স্থান পেয়েছে। সিলেট ভ্রমণ শুধুমাত্র কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নগরীর ঐতিহাসিক স্থাপনা থেকে সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি জনপদ—প্রতিটি স্থানের রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য।

সিলেটের পরিচয়ের সঙ্গে সবচেয়ে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা স্থানগুলোর একটি শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার। এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় স্থান নয়, বরং সিলেটের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা এখানে আসেন শ্রদ্ধা জানাতে।

সিলেট নগরের প্রাণকেন্দ্রে একটি উঁচু টিলার ওপর অবস্থিত এই মাজারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে নানা ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্য। এ কারণে সিলেটের পর্যটন মানচিত্রেও এর গুরুত্ব বিশেষ। মাজার এলাকায় গেলে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি পুরোনো সিলেট নগরের ঐতিহ্যেরও ছাপ পাওয়া যায়। দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক সিলেট সফরের শুরুতেই এই ঐতিহাসিক স্থানটি পরিদর্শন করেন।

সিলেটের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য শাহী ঈদগাহ ময়দান। নামের মধ্যেই এর পরিচয়। এটি ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দান, যেখানে দীর্ঘকাল ধরে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

সিলেট জেলা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোগল আমলে ফৌজদার ফরহাদ খাঁ এই ঈদগাহ নির্মাণ করেন। কারুকার্যখচিত স্থাপনাটিতে ২২টি সিঁড়ি বেয়ে মূল অংশে উঠতে হয় এবং সেখানে ১৫টি গম্বুজ রয়েছে। আধুনিক ডিজাইনে নির্মিত করা হয়েছে উচ্চ মিনার। তবে শাহী ঈদগাহের গুরুত্ব শুধু ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিকও। ১৭৮২ সালে সহোদর সৈয়দ মোহাম্মদ হাদী ও সৈয়দ মোহাম্মদ মেহেদীর নেতৃত্বে এখানে ইংরেজবিরোধী অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে মহাত্মা গান্ধী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিও এ স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

সুরমার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ক্বিন ব্রিজ

সিলেটে প্রবেশের অন্যতম পরিচিত প্রতীক ক্বিন ব্রিজ। সুরমা নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সেতু যেন পুরোনো সিলেটের সঙ্গে বর্তমান নগরীর একটি ঐতিহাসিক সংযোগ। ব্রিটিশ আমলের প্রশাসনিক ইতিহাসের সঙ্গে ক্বিন ব্রিজের নাম জড়িয়ে আছে।

সিলেট জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত শতকের ত্রিশের দশকে (১৯৩৬ সালে নির্মিত) আসাম প্রদেশের গভর্নর মাইকেল ক্বিনের নাম থেকেই সেতুটির নামকরণ করা হয়। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে এটি সিলেটের অন্যতম পরিচিত ঐতিহাসিক নিদর্শনে পরিণত হয়েছে।

সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে সুরমা নদীর প্রবাহ দেখা, নদীর দুই তীরের নগরজীবন উপভোগ করা কিংবা পুরোনো সিলেটের স্থাপত্য ও ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়া—সব মিলিয়ে ক্বিন ব্রিজ শহুরে পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জাফলং, সাদাপাথর আর বিছনাকান্দি

সিলেটের পর্যটনের কথা উঠলে প্রথম সারিতেই আসে জাফলং। খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত পিয়াইন নদীর উৎপত্তিস্থল। এই সীমান্তবর্তী অঞ্চল পর্যটকদের কাছে ‘প্রকৃতি কন্যা’ হিসেবেও পরিচিত। জাফলংয়ের সৌন্দর্যের মূল আকর্ষণ হলো পাহাড়, নদী ও পাথরের সমন্বয়। পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানি, নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা পাথর, ওপারে ভারতের পাহাড়, ডাউকি অঞ্চলের পাহাড়ি জলধারা এবং ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ—সব মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছে অনন্য ভূদৃশ্য।

বর্ষায় পাহাড়ি পানির প্রবাহ ও সবুজের আধিক্য জাফলংকে দেয় এক রূপ; শুষ্ক মৌসুমে পাথর ও নদীর স্বচ্ছতা সামনে আসে অন্যভাবে। তাই ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে জাফলংয়ের সৌন্দর্যও বদলে যায়।

কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে অবস্থিত সাদাপাথর সিলেটের নতুন প্রজন্মের পর্যটন আকর্ষণগুলোর অন্যতম। নাম থেকেই বোঝা যায়, এখানে পাথরই সৌন্দর্যের অন্যতম প্রধান উপাদান।

ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা পাহাড় থেকে নেমে আসা স্রোতধারা, নদী ও সাদা পাথরের বিস্তীর্ণ উপস্থিতি এ অঞ্চলকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। সিলেট জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর সিলেট শহর থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে এবং মূল পর্যটন স্পটে যেতে নৌপথ ব্যবহার করা হয়।

পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্বচ্ছ পানি, চারপাশের পাহাড় এবং নীল-সবুজ প্রকৃতি সাদাপাথরকে ছবি তোলার পাশাপাশি প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর জন্য জনপ্রিয় করে তুলেছে।

গোয়াইনঘাটের রুস্তমপুর ইউনিয়নের বিছনাকান্দি যেন পাহাড়, নদী, পাথর ও মেঘের একসঙ্গে তৈরি প্রাকৃতিক মঞ্চ। এটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা এবং খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির সঙ্গে বড় বড় পাথর এসে জমে তৈরি করেছে এখানকার বিশেষ ভূদৃশ্য।

বর্ষাকালে পাহাড়ি পানির প্রবাহ বাড়লে বিছনাকান্দির সৌন্দর্যও বহুগুণ বেড়ে যায়। পর্যটন বোর্ডের তথ্যেও বর্ষাকালকে এ অঞ্চলের সৌন্দর্য উপভোগের উপযুক্ত সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিস্তীর্ণ চা-বাগান

সিলেটের সঙ্গে চা-বাগানের সম্পর্ক এতটাই গভীর যে চা-বাগান ছাড়া সিলেটের পর্যটনচিত্র কল্পনা করা কঠিন। শহরের কাছাকাছি মালনীছড়া ও লাক্কাতুরাসহ বিভিন্ন চা-বাগানের সারি সিলেটের ভূদৃশ্যকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়।

মালনীছড়া চা-বাগান সিলেট শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত এবং শহরের কেন্দ্র থেকে তুলনামূলক সহজেই সেখানে যাওয়া যায়। লাক্কাতুরা চা-বাগানও বিমানবন্দর সড়কের পাশে অবস্থিত।

সারি সারি চা-গাছ, ঢেউ খেলানো সবুজ টিলা, শ্রমিকদের চা পাতা সংগ্রহের দৃশ্য এবং বাগানের নিরিবিলি পরিবেশ পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। একই সঙ্গে চা-বাগান সিলেটের অর্থনীতি, শ্রমজীবী মানুষের জীবন এবং ঔপনিবেশিক সময় থেকে গড়ে ওঠা চা-শিল্পের ইতিহাসের সঙ্গেও যুক্ত।

সিলেটের পর্যটনকে শুধু পাহাড়, নদী কিংবা জলপ্রপাত দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে আধ্যাত্মিকতা, শাহী ঈদগাহে ইতিহাস, ক্বিনব্রিজে ঔপনিবেশিক স্মৃতি, জাফলংয়ে পাহাড়-পাথর, লালাখালে নদীর স্বচ্ছতা, সাদাপাথরে পাথরের সৌন্দর্য, বিছনাকান্দিতে পাহাড়ি জলধারা, পাংথুমাইয়ে জলপ্রপাত, রাতারগুলে জলাবন আর চা-বাগানে সবুজ অর্থনীতি। সব মিলিয়ে সিলেটের পর্যটন একটি বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা।

এই বৈচিত্র্যই সিলেটকে অন্য অনেক পর্যটন অঞ্চলের চেয়ে আলাদা করে। একই ভ্রমণে একজন পর্যটক যেমন প্রকৃতির কাছে যেতে পারেন, তেমনি জানতে পারেন ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য, সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন ও চা-শিল্পের গল্প। আর তাই সিলেট কেবল একটি গন্তব্য নয়। এ যেন পাহাড়, নদী, পাথর, বন, চা আর মানুষের গল্পে লেখা একটি জীবন্ত ভ্রমণকাব্য।

পানির নিচে সবুজ বন

সিলেটের পর্যটনে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী নামগুলোর একটি রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট। এটি গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি মিঠাপানির জলাবন। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট হিসেবে পরিচিত।

বর্ষাকালে পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে বনের বড় অংশ পানির নিচে চলে যায়। তখন নৌকায় করে গাছের সারির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। পানির ওপর গাছের প্রতিচ্ছবি, নীরব পরিবেশ এবং বনের ভেতরের সরু জলপথ রাতারগুলকে অন্য যেকোনো পর্যটন স্পটের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

রাতারগুল শুধু সৌন্দর্যের জায়গা নয়; এটি জীববৈচিত্র্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক পরিবেশ। বন ও জলাভূমির এই মেলবন্ধন সিলেটের পরিবেশগত বৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে প্রবাসী বাবার হৃদ্‌রোগে মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৭ পি.এম


ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে প্রবাসী বাবার হৃদ্‌রোগে মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাত মাস বয়সী ছেলের মৃত্যুর খবর জানার পর, তার প্রবাসী বাবা মারা গেছেন। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান, কারণ ছেলের মৃত্যুর শোক সইতে পারেননি। এই ঘটনা ঘটে শনিবার (৩১ অক্টোবর)।

মারা যাওয়া শিশুর নাম আদর। তার বাবা আরিয়ান বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের আশা গ্রামে বাস করতেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থান করতেন।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, আদর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। সন্তানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর, একই দিন বিকেলে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আরিয়ান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম চৌধুরী মিলন জানান, আরিয়ান প্রবাসে বসবাস করতেন। তার ছেলের ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

শিশুটির নানা মো. জসিম হাজারী বলেন, আদর তার নাতি এবং আরিয়ান জামাতা। নাতির মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে জামাতাও মারা গেছেন। এদিকে, মেয়ের শারীরিক অবস্থাও ভালো নয় বলে তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%