০৫:০৭ পি.এম
প্রথমবারের মতো, ইরান ও ওমানের পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য ফি বা শুল্ক আরোপের বিষয়ে স্পষ্টভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
এখানে ‘টোল’ (রাস্তা বা সেতু ব্যবহারের কর) এবং ‘সার্ভিস ফি’ (সেবামূলক ফি)-র মধ্যে একটি বড় পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন বেশ কিছু সময় ধরে ইরানি কর্মকর্তারা একটি নতুন সামুদ্রিক নিয়ম বা শাসনব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করছিলেন, যার মধ্যে টোল আদায়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে সম্প্রতি তারা তাদের বক্তব্যের সুর কিছুটা বদলেছেন। তারা এখন বলছেন যে, হরমুজ প্রণালীর সীমান্তবর্তী দেশ হিসেবে ইরান ও ওমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত কারণে সার্ভিস ফি বা সেবা মূল্য নেওয়ার অধিকার রয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে ইরানের সাথে, দু’টি দেশই জানিয়েছে যে, এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তারা একটি কার্যনির্বাহী দল (ওয়ার্কিং গ্রুপ) গঠন করবে।
আরও পড়ুন: ওমান উপসাগরে জাহাজে আগুন, ২২ নাবিক উদ্ধার করেছে আমিরাতের ন্যাশনাল গার্ড
একটি বিষয় পরিষ্কার যে, ইরান যেকোনো উপায়ে এবং এখন ওমানও, হরমুজ প্রণালীর জন্য একটি নতুন সামুদ্রিক নিয়ম বা শাসনব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী এই সরু জলপথটি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের প্রবেশদ্বার। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো বৈশ্বিক বাজারে তাদের জ্বালানি রপ্তানি করতে এই পথের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ওপেক (OPEC) সদস্য দেশগুলোর উৎপাদিত বেশিরভাগ তেল ও গ্যাস এই প্রণালী হয়ে সমুদ্রে পাড়ি জমায়। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই জলপথ ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছায়।
আরও পড়ুন: গাজাবাসীর বন্যার ঝুঁকি, আক্রান্ত ৯ লাখের বেশি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন