০৫:৫১ পি.এম
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) অস্থায়ী আসন পেতে ব্যর্থ হয়েছে জার্মানি। যেটি দেশের ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা পরিষদে মোট ১৫টি সদস্য দেশ রয়েছে, এর মধ্যে ৫টি স্থায়ী সদস্য এবং ১০টি নির্বাচিত সদস্য দেশ দু’বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করে। জার্মানি ‘পশ्चिम ইউরোপ ও অন্যান্য’ গ্রুপের দুটি আসনের জন্য অস্ট্রিয়া ও পর্তুগালের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছিল। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রিয়া ও পর্তুগালই দুইটি আসন লাভ করে।
বুধবার (৩ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জার্মানি ১০৪ ভোট পায়, যা নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে ২৩ ভোট কম। গত কয়েক দশক ধরে জার্মানি প্রতি আট বছর অন্তর পশ্চিম ইউরোপীয় আসনটি সফলভাবে পেয়ে আসছিল। তবে এবারই প্রথম ঘুরে ফিরে আসা (রোটেটিং) আসনে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের সততা ও দক্ষতার সঙ্গে জনগণের সেবা করার আহ্বান
নির্বাচনে কিরগিজস্তান, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং জিম্বাবুয়েও নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদই জাতিসংঘের একমাত্র সংস্থা, যা নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিংবা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদনের মতো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে জার্মানি। এ ঘটনার জন্য দেশটি ‘তিক্ত পরাজয়’ বলে অভিহিত করেছে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল বলেছেন, ইউক্রেন ও ইসরাইলের প্রতি বার্লিনের দৃঢ় সমর্থনের কারণেই প্রয়োজনীয় ভোট হারাতে হয়েছে।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইউক্রেনের প্রতি আমাদের দৃঢ় সমর্থন রয়েছে এবং রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদে এমন একটি কণ্ঠস্বর দেখতে চায় না।’ তিনি বলেছেন, জার্মানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরিতে রাশিয়া ভূমিকা রেখেছে। ‘এটি কোনো গোপন বিষয় নয়’, তিনি যোগ করেন।
ভাডেফুল বলেন, ‘আমরা সবসময় কিছু বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি, কিন্তু সেই অবস্থান সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে না।’ তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ইসরাইলের প্রতি জার্মানির বিশেষ দায়িত্ববোধও ভোট হারানোর একটি কারণ হিসেবে কাজ করতে পারে।
আরও পড়ুন: তথ্য ফাঁসের অভিযোগে সুজি ওয়াইলস চাকরি হারালেন
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা পরিষদের দুই বছরের মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশটির দেরিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টিকেও আংশিকভাবে দায়ী করেন। তবে জার্মানির অভিযোগের বিষয়ে রাশিয়া এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন