০৫:৫১ পি.এম
পাকিস্তানের লাহোর-শিয়ালকোট মহাসড়কে তিন সন্তানের সামনে এক ফরাসি পর্যটককে গণধর্ষণের ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডকে সারাদেশের উচ্চ আদালত বহাল রেখেছেন। বুধবার পাকিস্তানের একটি আদালত আসামিদের আপিল খারিজ করে এই রায় প্রদান করে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন আবিদ মালহি ও শাফকাত আলী। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত শক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের আপিল নাকচ করেন।
এর পূর্বে ২০২১ সালের মার্চে সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই দুই আসামিকে গণধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। পরে আসামি পক্ষ রায়কে অন্যায় দাবি করে এবং তদন্তে ঘাটতির অভিযোগ তুলে উচ্চ আদালতে আপিল করেন।
আরও পড়ুন: ঢাবি ক্যাম্পাসে ৮-৯টি ককটেল বিস্ফোরণ, ছাত্রদল থেকে ৩ জন আটক
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ফরাসি ওই নারী তার তিন সন্তানকে নিয়ে লাহোর থেকে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় মহাসড়কে জ্বালানি ফুরিয়ে আটকা পড়েন। সাহায্যের অপেক্ষায় তিনি গাড়ির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রেখেছিলেন।
সেই সময়, দুই আসামি গাড়ির কাঁচ ভেঙে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করে আনে এবং বন্দুকের মুখে তাকে জিম্মি করে সন্তানদের সামনেই গণধর্ষণ করে। পরে তাদের কাছে থাকা টাকা, গহনা এবং ব্যাংক কার্ড লুট করে তারা পালিয়ে যায়। এতে ভুক্তভোগী নারী ও তার শিশুরা মারাত্মক মানসিক আঘাতের শিকার হন।
ঘটনার পর পুলিশ মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কিছু দিনের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তাদের ডিএনএ মিল পাওয়া যায়। শুনানির সময় ভুক্তভোগী নারী আসামিদের শনাক্ত করেন এবং শাফকাত আলী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক নিন্দা ছড়িয়ে পড়ে। দোষীদের জনসমক্ষে ফাঁসির দাবি ওঠে। কিন্তু ঘটনার পরদিন লাহোরের তৎকালীন এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। তিনি ভুক্তভোগীর ওপর আংশিক দায় চাপিয়ে প্রশ্ন তোলেন কেন তিনি গভীর রাতে সন্তানদের সঙ্গে বের হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: নীলফামারীতে ট্রাকের সঙ্গে ভ্যানের ধাক্কায় নিহত ১, আহত ২
এই বক্তব্যকে অনেকেই ভুক্তভোগীকে দোষারোপ হিসেবে দেখেন। এর প্রতিবাদে করাচি, লাহোরসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং নারীদের নিরাপত্তা ও বিচার নিশ্চিতের দাবি ওঠে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, পাকিস্তানে নারীদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা নিয়মিত ঘটে, তবে বিদেশি নাগরিকদের ওপর এমন ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান রয়েছে এবং সাধারণত ফাঁসির মাধ্যমে তা কার্যকর করা হয়।
সূত্র: ডন, ডেইলি মেইল
আরও পড়ুন: ‘অনুপ্রবেশ’ আতঙ্কে ভোগা শুভেন্দুর দাবি, ‘সীমান্তে ওত পেতে রয়েছে বাংলাদেশিরা’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন