০৩:২১ এম
রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের বিধ্বস্ত শহর ওলেশকি থেকে সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দারা বেলারুশ হয়ে ইউক্রেনে ফিরেছেন। তারা দীর্ঘদিন পর স্বজনদের কাছে ফিরে আবেগে ভেঙে পড়েন। তাদের পুনর্মিলনের দৃশ্যটি হয়ে ওঠে আবেগঘন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) স্থানীয়ভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর তাদের সরিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হয়। শনিবার বেলারুশ থেকে ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলে পৌঁছান বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা।
এসময় বাবাকে ফিরে পেয়ে ছুটে যান দুই বোন দাশা ও আনিয়া পালি। বাস থেকে বাবা মিখাইলোকে নামতে দেখে তারা দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন। তিন বছর ধরে বাবাকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। তাদের মনে ছিল আর কখনো বাবাকে দেখতে পাবেন কিনা, সেই শঙ্কা।
আরও পড়ুন: ইরান: যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত করতে চায়
এসময় স্ত্রী ঝান্না স্বামী মিখাইলোর মুখ দুহাতে ধরে বারবার তার কপালে হাত বুলিয়ে দেন। দীর্ঘদিন পর স্বামীকে কাছে পেয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
উদ্ধার হওয়া বাসিন্দাদের মধ্যে অনেক বয়স্ক মানুষ এতটাই দুর্বল ছিলেন যে তাদের স্ট্রেচারে করে নামাতে হয়। ওলেশকিতে খাবার, পানি ও বিদ্যুৎ ছাড়াই দীর্ঘদিন আটকে ছিলেন তারা। বেঁচে থাকার জন্য অনেকে বাগানের আগাছা রান্না করে খেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
ইউক্রেনের সামরিক অবস্থান থেকে ওলেশকির দূরত্ব মাত্র পাঁচ কিলোমিটার। তবে শহরটি থেকে বের হতে বাসিন্দাদের প্রথমে রাশিয়ার দখলে থাকা এলাকা পেরিয়ে দক্ষিণ রাশিয়ায় যেতে হয়। সেখান থেকে উড়োজাহাজে বেলারুশে পৌঁছান তারা। পরে বেলারুশ থেকে সড়কপথে ইউক্রেনের উত্তর সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরেন।
ইউক্রেনের আইনপ্রণেতা দাভিদ আরাখামিয়া জানান, উদ্ধার নাগরিকদের বহনকারী চারটি বিমান বেলারুশের গোমেলে অবতরণ করার পর তাদের বাসে করে ইউক্রেন সীমান্তে নিয়ে আসা হয়। এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক অম্বুডসম্যান দিমিত্রো লুবিনেটস নিজে রাশিয়ার দখলকৃত খেরসন অঞ্চলে যান। যুদ্ধ শুরুর পর তিনিই প্রথম কোনো শীর্ষ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা যিনি সরাসরি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় গিয়ে নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার কাজ তদারক করলেন। তাকে সহায়তা করেন রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনার ইয়ানা লান্ত্রাতোভা।
আরও পড়ুন: মণিপুরে জাতিগত সহিংসতায় নিহত ৫, বিক্ষোভ অব্যাহত
২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি শহরটি রাশিয়ার দখলে রয়েছে।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চরম ক্ষতিগ্রস্ত এই শহরে প্রায় ৫০টি শিশুসহ দুই হাজার মানুষ আটকা পড়েছিলেন। ল্যান্ডমাইন এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে সবকটি সড়ক বন্ধ থাকায় এতদিন সেখান থেকে বের হওয়া অসম্ভব ছিল। গত মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর মাইন অপসারণ কাজ শেষ করে গত শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
এ উদ্ধারপ্রক্রিয়ার পথ তৈরি করতে স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কার্যকরে ভূমিকা রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনের ত্রাণকেন্দ্রে রাশিয়ার বোমা হামলায় ২৪ জন নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন