ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ৭ জরুরি প্রশ্নের উত্তর


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ৭ জরুরি প্রশ্নের উত্তর

যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন, যেখানে ভোটাররা এমন এক ভোটে অংশ নেবেন, যা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

মিডটার্ম বা মধ্যবর্তী নির্বাচন কী?

৩ নভেম্বর মার্কিনিরা কংগ্রেসের সদস্যদের নির্বাচিত করবে, দেশটির দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট এই আইনসভা উচ্চ কক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ নিয়ে গঠিত।

আরও পড়ুন: ইরান: ভোটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে

প্রতি দুই বছর পর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রেসিডেন্ট পদের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তা অনুষ্ঠিত হলে, সেই ভোটকে মধ্যবর্তী নির্বাচন বলা হয়।

কংগ্রেসের একটি প্রধান কাজ হলো ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়ন ও পাস করা, এমন আইন যা দেশব্যাপী প্রযোজ্য।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে কোন রাজনৈতিক দল, ট্রাম্পের রিপাবলিকান নাকি বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করবে এবং প্রেসিডেন্টের পক্ষে তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কতটা সহজ হবে।

কাকে নির্বাচিত করা হচ্ছে?

আরও পড়ুন: নির্বাচনে আরব নাগরিকদের বিরুদ্ধে ‘বর্ণবাদী’ মন্তব্যের নিন্দা জানালেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট

কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটভ বা প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ জন সদস্যই নির্বাচিত হবেন। তারা দুই বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণত হাউজেই প্রস্তাবিত আইনগুলো উত্থাপন ও সেগুলোর ওপর বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সিনেটররা ছয় বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। অন্যান্য কাজের মধ্যে তারা প্রতিনিধি পরিষদ থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবিত আইন অনুমোদন বা বাতিল করেন।

একইদিনে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঞ্চলের ভোটাররা অঙ্গরাজ্য-স্তরের রাজনীতিবিদদেরও বেছে নেবেন। ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও মিশিগানের গভর্নর নির্বাচনগুলো সবচেয়ে বেশি নজরে থাকবে।

এবার মূল ইস্যুগুলো কী?

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস আমদানির সুযোগ পাচ্ছে ভারত, ২০২৮ সালে চুক্তির আলোচনা চলছে

জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার মূল্য নিয়ে হিমশিম খাওয়া অনেক ভোটারের মনেই মার্কিন অর্থনীতির চিন্তা রয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি মার্কিন ফেডারাল রিজার্ভের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরেই রয়েছে, যার আংশিক কারণ হলো ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের শুরু করা যুদ্ধ।

ডেমোক্র্যাটদের যুক্তি, ট্রাম্পের বাণিজ্য শুল্ক কর্মসূচি মার্কিনিদের জন্য মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছে।

অভিবাসন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রিপাবলিকানরা বলছে, সীমান্ত কঠোর করে এবং অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক ও প্রায়শই বিতর্কিত অভিযান শুরু করার মাধ্যমে ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণার একটি বড় প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন।

আরও পড়ুন: মেলানিয়া ট্রাম্পকে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিলেন জেলেনস্কি

এছাড়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। উভয় দলের শীর্ষ রাজনীতিবিদরা এটিকে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন, এর মাধ্যমে তারা ট্রাম্পের বিরোধিতা করছেন, যিনি এই প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন প্রণয়নের ধারণাটি প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।

কী ঝুঁকির মুখে আছে?

প্রেসিডেন্ট ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি কংগ্রেস হলো সরকারের তিনটি শাখার মধ্যে অন্যতম। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এর নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয়ই বর্তমানে রিপাবলিকান পার্টির দখলে। কিন্তু তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সামান্য। প্রতিনিধি পরিষদে তাদের ২১৮টি আসন আছে, যা এটিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংখ্যা, এবং এর সঙ্গে আছেন একজন স্বতন্ত্র সদস্য যিনি তাদের পক্ষে ভোট দেন। সিনেটে তাদের ৫৩টি আসন রয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদির রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ তখনই হাতবদল হবে যদি ডেমোক্র্যাটরা ৫১টি আসন জয় করতে পারে, কারণ উভয় পক্ষ ৫০টি করে আসন পেলে ভাইস প্রেসিডেন্টের (যিনি বর্তমানে একজন রিপাবলিকান) দেওয়া নির্ণায়ক ভোটটি তখন আর কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।

যদি বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা অন্তত একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে, তবে তারা সংসদে নিজেদের আইন উত্থাপন করার ক্ষমতা পাবে।

কে জিততে পারে?

অতীতে ভোটাররা প্রেসিডেন্টের দলকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার এবং তাদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার প্রবণতা দেখিয়েছেন।

আরও পড়ুন: বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজ পড়বেন কাতারের আমির শেখ তামিম

সাম্প্রতিক জরিপে প্রেসিডেন্টের জনসমর্থন কম দেখা যাচ্ছে। জরিপ বিষয়ক ওয়েবসাইট সিলভার বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ৫০ শতাংশের কিছু বেশি জনসমর্থন নিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করেছিলেন, কিন্তু অক্টোবরের শুরুতে তা কমে প্রায় ৩৭ শতাংশে নেমে আসে। অন্যদিকে, ৬১ শতাংশ মানুষ তার প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন।

কিন্তু প্রতিটি কক্ষের সব আসনই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নয়। কিছু আসন রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটদের জন্য নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা থাকে।

বিবিসির মার্কিন সহযোগী সিবিএস নিউজ আইওয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো রাজ্যগুলোতে নজর রাখার মতো দশটি সিনেট আসনের নির্বাচন এবং অ্যারিজোনা ও ওহাইওর মতো রাজ্যগুলোয় প্রতিনিধি পরিষদের ৪২টি আসনে নির্বাচন চিহ্নিত করেছে।

প্রতিনিধি পরিষদে ভোটকেন্দ্রগুলোর সীমানা নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে দুই দলের মধ্যে বিরোধের কারণে এ বছরের ভোট আরও বেশি অনিশ্চিত।

রিপাবলিকানরা নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যে আরও অনুকূল নির্বাচনী মানচিত্র তৈরি করে সুবিধা লাভের চেষ্টা করেছিল এবং ডেমোক্র্যাটরাও তাদের অনুসরণ করেছিল।

ট্রাম্পের জন্য এর অর্থ কী?

ডেমোক্র্যাটরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ বা সেনেটের যেকোনো একটিতে জয়লাভ করে, তাহলে ট্রাম্পের পক্ষে কংগ্রেসে কোনো আইন পাস করানো কঠিন হয়ে পড়বে। সুতরাং তার অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনাগুলো ব্যর্থ হতে পারে, যদিও তিনি তার বৃহত্তর দলকে ছাড়াই ক্ষমতা প্রয়োগের উপায় খুঁজে পেয়েছেন।

যেকোনো একটি কক্ষের ওপর ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ থাকলে, তারা ট্রাম্পের ক্ষমতা প্রয়োগের বিভিন্ন দিক তদন্ত করতে কমিটি ব্যবহার করতে পারবে। দুর্নীতির অভিযোগ, হোয়াইট হাউজের নতুন বলরুম এবং আইসিই-এর (ইমিগ্রেশান অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) কার্যকলাপ তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মধ্যেও ট্রাম্পকে অভিশংসন করা হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। অভিশংসনের অর্থ হলো কংগ্রেসে এমন অভিযোগ আনা, যা একটি রাজনৈতিক বিচারের ভিত্তি তৈরি করবে, ফৌজদারি বিচারের নয়।

যদি রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে ট্রাম্প তার মেয়াদের বাকি সময়টুকুতে নিজের পরিকল্পনাগুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে পারবেন।

২০২৮ সালের নির্বাচনের জন্য এর অর্থ কী?

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্যালটে প্রেসিডেন্টের নাম না থাকলেও, ট্রাম্প রিপাবলিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা তার এযাবৎকালের কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন হিসেবে তাকে ভোট দিয়ে এমনটা ভান করে যে ব্যালটে তার নাম রয়েছে।

ফলাফল যেদিকেই যাক না কেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে দেশের গতিপথ নিয়ে ভোটারদের মনোভাব কেমন, তা তুলে ধরতে ভাষ্যকাররা সম্ভবত এই ফলাফলকে ব্যবহার করবেন।

ট্রাম্প তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর, ২০২৮ সালের জন্য রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে তার উত্তরসূরি কে হতে পারেন এবং ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হবে বলে আশা করা যায়।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপুরে ১৯ মামলার আসামি বদিউজ্জামান গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪২ এম


দুর্গাপুরে ১৯ মামলার আসামি বদিউজ্জামান গ্রেপ্তার

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে অপহরণের অভিযোগে বদিউজ্জামান, যিনি বদি নামে পরিচিত, তাকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার মামলায় অভিযুক্ত। পুলিশ জানায়, বদি অন্তত ১৯টি মামলার আসামি।

গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুর্গাপুর সদর উপজেলার মেনকীফান্দা এলাকা থেকে। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৪ আগস্ট রাত ১০টার দিকে শফিকুল ইসলাম (৩৫) শিবগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একদল ব্যক্তি তার পথরোধ করে। পরে তাকে জোরপূর্বক আটক করে মুখে কাপড় চাপা দিয়ে মোটরসাইকেলে তুলে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

পরে শফিকুলকে ধোবাউড়া উপজেলার রনসিংহপুর বাজার এলাকায় নেওয়া হয়। এসময় পুলিশি তৎপরতার খবর পেয়ে অপহরণকারীরা তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। পুলিশ পরে শফিকুলকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর থানায় নিয়ে আসে।

এই ঘটনায় ২৫ আগস্ট শফিকুলের ভাই ফারুক আহমেদ (৪৮) বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ জানায়, বদিউজ্জামান এই মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অপহরণসহ অন্তত ১৯টি মামলা রয়েছে।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠিয়ে শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করা হয়। মামলার বাদী তার ভাই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ওই মামলায় বদিউজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপগঞ্জে কম্প্রেসার বিস্ফোরণে চার শ্রমিক দগ্ধ, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪২ এম


রূপগঞ্জে কম্প্রেসার বিস্ফোরণে চার শ্রমিক দগ্ধ, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের একটি কারখানায় ঘটে যাওয়া একটি এয়ার কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ফলে চার শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। এই দুর্ঘটনাটি সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে ঘটেছিল।

দগ্ধ শ্রমিকদের উদ্ধার করে রাতের মধ্যেই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর এবং আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

দগ্ধ শ্রমিকদের মধ্যে ইসমাইল (৩০), কামরুল (৫৫), তপন (৩৮) এবং নাইমুল (৩০) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ইসমাইলের শরীরের ২০ শতাংশ, কামরুলের ২৫ শতাংশ, তপনের ১২ শতাংশ এবং নাইমুলের ৪২ শতাংশ পুড়ে গেছে। বিশেষ করে নাইমুলের শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানিয়েছেন, দগ্ধ চারজনকে ইনস্টিটিউটে ভর্তি রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে নাইমুলের অবস্থা সবচেয়ে বেশি আশঙ্কাজনক, কারণ তার শরীরের ৪২ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪৩ এম


নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে একটি নতুন কূপে গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে। রামপুর ইউনিয়নের ‘সুন্দলপুর সাউথ-১’ নামের কূপটিতে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার দুপুরে সুন্দলপুর সাউথ-১-এর কূপের পাইপের মুখে আগুন জ্বালিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। কূপের প্রকল্প পরিচালক মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের জানান, ড্রিলিং স্ট্রিম টেস্ট (ডিএসটি) পরীক্ষার পর গ্যাসের পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, কিছু পরীক্ষার পর কূপটিতে মোট গ্যাসের মজুত সম্পর্কে জানা যাবে। গ্যাসের পাশাপাশি তেল বা অন্য কোনো পদার্থ রয়েছে কি না, তা আগামী ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ ও ডিএসটি পরীক্ষার পর জানা সম্ভব হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কূপটি থেকে ১০ হাজার কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আগামী ২০ বছর পর্যন্ত এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। তবে এসব বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, বিজয়-১০ রিগ ব্যবহার করে গত ৮ জুলাই সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের খননকাজ শুরু হয়। ৩,২৮৯ মিটার গভীর পর্যন্ত খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহ পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পর কূপটির বিষয়ে আরো নির্ভুল তথ্য জানানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ সরকার ও বাপেক্সের নিজস্ব অর্থায়নে কূপটির খননকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাপেক্সের ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কূপটির খনন কার্যক্রম শুরু হয়।

এদিকে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম কোম্পানীগঞ্জে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার খবরের পর বাপেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে নোয়াখালীতে নতুন নতুন কূপ খনন করে গ্যাসের সন্ধান পাচ্ছে বাপেক্স। এজন্য তিনি নোয়াখালীবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মন্ত্রিসভায় বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪৩ এম


মন্ত্রিসভায় বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন

মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন-২০২৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (দ্বিতীয় সংশোধন)-২০২৬-এর খসড়াকে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকাও অনুমোদন করা হয়েছে।

হংকংয়ের সঙ্গে অপরাধবিষয়ক পারস্পরিক আইনগত সহায়তা (এমএলএ) চুক্তির খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৬তম বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তথ্য অধিদফতরের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, "বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন ২০২৬"-এর খসড়া অনুমোদনের মাধ্যমে দেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রমের দ্রুত বিস্তার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশটি সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে মন্ত্রিসভায় ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। লেজিসলেটিভ বিভাগের মতামত সাপেক্ষে এটি এখন ক্যাবিনেটে পাস হয়ে বিল আকারে সংসদে যাবে। সংসদ না থাকা অবস্থায় অধ্যাদেশ দিয়ে কার্যক্রম চালানো গেলেও, সংসদ চালু হলে প্রথম দিনেই তা বিল আকারে পেশ করে পাসের মাধ্যমে আইনে পরিণত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০২৬ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এ মোট ছয় দফা সংশোধন আনা হয়েছে। সর্বশেষ সংশোধনটি গত ২১ সেপ্টেম্বর ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারির মাধ্যমে করা হয়।

নতুন সংশোধনে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা এবং সুযোগ-বঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির আধুনিকায়ন, সম্পদের সুষম বণ্টনে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানো এবং পেশাগত অসদাচরণ-সংক্রান্ত বিধান স্পষ্ট করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সভায় ২০২৭ সালের জন্য মোট ২৯ দিনের সরকারি ছুটির খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এসব ছুটির মধ্যে সাধারণ ছুটি ১৫ দিন, যার মধ্যে ৪ দিন সাপ্তাহিক ছুটিতে (২টি শুক্রবার ও ২টি শনিবার) পড়েছে।

নির্বাহী আদেশে ছুটি ১৪ দিন, যার মধ্যে ৩ দিন সাপ্তাহিক ছুটিতে (১টি শুক্রবার ও ২টি শনিবার) পড়েছে। ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীরা বছরে সর্বোচ্চ ৩ দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।

এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কর্মচারীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি উদযাপনে ২ দিন ঐচ্ছিক ছুটি দেওয়া হবে। সাপ্তাহিক ছুটির ৭ দিন বাদ দিলে ২০২৭ সালে কার্যত সরকারি ছুটি থাকবে মোট ২২ দিন।

বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের মধ্যে ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তির খসড়াও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

এই চুক্তির ফলে দুই অঞ্চলের মধ্যে অপরাধ-সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান, অপরাধী আটক ও অন্যান্য আইনি সহযোগিতার পথ সুগম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%